ঢাকা, সোমবার 16 July 2018, ১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

লালমনিরহাট বুড়িমারী স্থলবন্দর মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীত হচ্ছে

জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত বুড়িমারী স্থলবন্দরের জিরোপয়েন্ট থেকে বুড়িমারী বাজার মহা সড়ক পর্যাপ্ত প্রস্থ না হওয়ায় গাড়ি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে না। স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাড়ায় ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত সৃষ্ট যানজটও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যানজটের চাপে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের পরতে হয় চরম দুর্ভোগে। বুড়িমারী স্থলবন্দরের এ যানজট কমাতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবির) অর্থায়নে স্থলবন্দরের জিরোপয়েন্ট থেকে বুড়িমারী বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার মহাসড়ক ৪ লেন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ ব্যাপারে সম্প্রতি এডিবির বিশেষজ্ঞ দল স্থলবন্দরের রাস্তার সমীক্ষা কার্যক্রম শেষ করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে বুড়িমারীতে শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১০ সালের ৩০ মার্চ এ শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দরে উন্নীত করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে এ বন্দর দিয়ে সাড়ে ৫ হাজার ট্রাক দিয়ে পণ্য রফতানি হয়েছে।
এ সময়ে ভারত ও ভুটান থেকে ৩২ হাজার ৩০০ ট্রাক দিয়ে পণ্য আমদানি হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে        বুড়িমারী দিয়ে ৮ হাজার ৪৮৯ ট্রাক পণ্য রফতানি ও ৩৩ হাজার ৬৩৩ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ৬০০-৭০০ ট্রাক বন্দরে আসা-যাওয়া করে।
সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমারসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়েরর কর্মকর্তারা স্থলবন্দর সরেজমিন পরিদর্শনে আসেন। এ সময় যানজট কমাতে স্থানীয়রা স্থলবন্দরে জিরোপয়েন্ট থেকে পাঁচ কিলোমিটার সড়ক চার লেন করার দাবি জানান। বুড়িমারী স্থলবন্দর ব্যবহারকারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি হাসানুজ্জামান হাসান বলেন, বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের চ্যাংরাবান্ধা ও ভুটানের ফুলসিলিং স্থলবন্দরের মধ্যে আমদানি-রফতানি ক্রমে বাড়ছে। এতে গাড়ির চাপ বাড়ায় বন্দরে যানজট তৈরি হচ্ছে।
ফলে আমদানি-রফতানি করতে গিয়ে নাকাল হতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এজন্য সড়কটি চার লেন করার দাবি জানানো হয়।
এ দাবি আমলে নিয়ে সরকার স্থলবন্দরের জিরোপয়েন্ট থেকে বুড়িমারী বাজার পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সড়ক ও জনপদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে হাটিকুমরুল থেকে রংপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন ৪ লেনের কাজ চলমান আছে। এর সঙ্গেই বুড়িমারী স্থলবন্দর জিরো পয়েন্ট থেকে ৫ কিলোমিটার সড়ক ৪ লেন করার সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা মূল্যায়নকাজ শেষ হয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুর করা হবে বলে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ