ঢাকা, সোমবার 16 July 2018, ১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এগিয়ে চলছে মসলা গবেষণা উপকেন্দ্র

লালমনিরহাট মসলা গবেষনা উপকেন্দ্রটি কালজিরা, উন্নত জাতের পিঁয়াজ ,রসুন, আঁদা, হলুদ, জিড়া , তেজপাতা সহ মসলা জাতীয় ফসল চাষাবাদ করে কৃষকদের উৎসাহ দিয়ে আসছে। বিশেষ করে কালজিরা কৃষকরা আবাদ করলে এ ফসল থেকে প্রচুর অর্থ আয় করে স্বাবলম্বী হওয়ার এক নতুন পথ প্রদর্শন। লালমনিরহাট মসলা গবেষণা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিনিয়র) মোঃ মোস্তাক আহাম্মেদ জানান, কলজিরা সহ মসলা জাতীয় আবাদ কৃষকেরা যাতে করে এজন্য তাদেরকে হাতে কলমে প্রশিক্ষন দিয়ে এবং মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
গবেষনা কেন্দ্রটি লালমনিরহাট শহরের উপকেন্দ্রে ১৯৯২ সালে স্থাপিত হওয়ার পর থেকে কৃষকদের ভাগ্যের উন্নয়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তিনি আরও জানান পরিবেশ ধংষকারী তামাক আবাদ করে দেশ ও মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। তিনি জানান কালজিরা নভেম্বর মাসে রোপন করতে হয় এবং মার্চে উত্তলন করা হয়। গবেষণা কেন্দ্রে ১০ শতক জমিতে বারী -১ জাতের কালজিরা আবাদ করা হয়েছে।
রবিফসল হিসেবে এথেকে ২৫০ কেজী উৎপাদন হবে বলে আশাবাদী। যার বর্তমান বাজারে প্রায় ১৮ হাজার টাকা মুল্য হবে। এ ফসলে হালকা ২ বার সেচ দিতে হয়। জলাবদ্ধতা পছন্দ করে না এর প্রকৃত গুনাগুন হচ্ছেঃ বহু প্রাচীনকাল থেকে কালজিরা মানব দেহের নানা রোগের প্রতিশোধক এবং প্রতিরোধক হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে।
প্রায় চৌদ্দশত বছর আগে মহানবী হযরত মোহাম্মাদ সাঃ বলেছিলেন, কালজিরা রোগ নিরাময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তোমরা কালজিরা ব্যবহার কর নিশ্চই প্রায় সকল রোগের নিরাময়ের ক্ষমতা এর মধ্যে নিহিত রয়েছে। সেজন্য যুগ যুগ ধরে পয়গম্বররীয় ওষুধ হিসাবে সুনাম অর্জন করে আসছে।
তৎকালীন মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনেসিনা তার বিখ্যাত গ্রন্থ “ কানন অব মেডিসিন” এ বলেছেন কালজিরা দেহের প্রাণশক্তি বাড়ায় এবং ক্লান্তি দূর করে। কালজিরায় প্রায় শতাধিক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এর প্রধান উপাদানের মধ্যে প্রোটিন ২১%, শর্করা ৩৮%, ¯েœহ ৩৫% এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ । প্রতি গ্রাম কালোজিরায় যে সমস্ত পুষ্টি উপাদান রয়েছে তা নি¤œরুপ প্রোটিন ২০৮ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি ১৫ মাইক্রোগ্রাম, নিয়োসিন ৫৭ মাইক্রোগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১.৮৫ মাইক্রোগ্রাম, আয়রণ ১০৫ , ফসফরাস ৫.২৬ মিঃ গ্রাম, কপার ১৮ মাইক্রোগ্রাম, জিংক-৬০ মাইক্রোগ্রাম, কেলোসিন-৬১০ মাইক্রোগ্রাম, কালজিরার গুনাগুনের শেষ নেই, প্রতিদিন সকালে এক চিমটি খেলে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রন রাখতে সাহায্য করে। ভেষজবীদরা কালজিরাকে ওষুধ হিসাবে অভিহিত করেছেন।
হাঁপানী রোগীদের শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় দীর্ঘদিন কালজিরা সেবনে উপকার পাওয়া যায়। কালজিরা হরমোন সমৃদ্ধ হওয়ায় পুরুষত্বহীনতায় বা নারী পুরুষের যৌন অক্ষমতা নিয়মিত কালোজিরা সেবনে যৌনশক্তি বৃদ্ধি পায়।
কালজিরায় রয়েছে ১৫টি অ্যামাইনো এসিড। আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজন ৯ াট এসেনসিয়াল এ্যামিইনোর এসিড যা দেহে তৈরী হয় না। অবশ্যই খাবারের মাধ্যমে এর অভাব পূরণ করতে হয়। আর কালজিরা রয়েছে ৮ টি এ্যসেনসিয়াল এ্যামাইনো এসিড।
যদি সর্দি কাশি সরাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কালজিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রসুতি মাতাদের দুগ্ধ বাড়াতে ও নারীদের মসিক নিয়মিত করান এবং মাসিকের ব্যাথা নিবারণে । কালজিরা সেবনে চুলের গোড়ায় পুষ্টি ঠিকমত পায়। ফলে চুলের বৃদ্ধি ভাল হয় এবং চুল পড়া বন্ধ হয়। নিয়মিত অল্প পরিমানে কালজিরা খেলে মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রক্ত সঞ্চালন থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ