ঢাকা, সোমবার 16 July 2018, ১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা মহানগরীতে কিশোর অপরাধীরা আবারো সক্রিয়

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীতে কিশোর অপরাধীরা ফের সক্রিয় ভূমিকায় নেমেছে। আর এ সকল অপরাধীদের সক্রিয়তা মানেই ছিনতাই, মাদক সংশ্লিষ্টতা ও হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হওয়া। একটি হত্যাকাণ্ডের পর পরই পুলিশের জোর তৎপরতা দেখা গেলেও নিয়মিত তদারকি না থাকার কারণে কিশোর অপরাধীরা আবারো খুনের মতো ভয়ানক অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। নগরীতে চলতি বছরেই কিশোর অপরাধীদের হাতে স্কুল ও কলেজের বেশ কয়েকজন ছাত্র খুন হয়েছে। এ সকল ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরও হয়েছে। এ সকল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কিশোর ও যুবক অপরাধীরাই অধিকাংশ আইনের আওতায় আসলেও পাড়া-মহল্লায় নতুন নতুন কিশোর গ্যাং তৈরি হচ্ছে। দিনের বেলায় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সামনে আড্ডায় দিচ্ছে কিশোর অপরাধীরা। সন্ধ্যার পর পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে দেখা যায় এদের অবস্থান। তবে এদের নিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন ধরনের তৎপরতা দেখা যায় না। যে কোন একটি বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরই পুলিশের তৎপরতা জোরদার হয়। পরবর্তীতে ফের নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে সংস্থাগুলো। এছাড়া এ সকল কিশোর অপরাধীদের স্বজনদের গাফিলাতির কারনে দিন দিন সংখ্যাটা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ সকল হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলে ইতোমধ্যে পুলিশের তদন্তে পাওয়া গেছে। সর্বশেষ গত ১১ জুলাই সন্ধ্যায় নগরীর সাতরাস্তা মোড় এলাকায় কয়েকজন কিশোর ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন। এর কিছুক্ষণ পরেই ভয়াবহ ঘটনার সৃষ্টি হয়। কিশোর অপরাধীরা নগরীর দোলখোলা রোডে বয়রাস্থ সাজেস টেকনিক্যাল কলেজের কম্পিউটার বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মেহেদী হাসান (২১) কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। নিহত মেহেদী হাসান বাগমারা মেইন রোডস্থ ওহাব সাহেবের বাড়ির ভাড়াটিয়া রাজমিস্ত্রি মামুন হাওলাদারের ছেলে। তার বাবা জানিয়েছেন স্থানীয় বেশ কিছু কিশোর-যুবকের সাথে সব সময় চলাফেরা করতো তার ছেলে মেহেদী হাসান।
এর আগে ২০ জানুয়ারি রাতে খুলনা পাবলিক কলেজের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র ফাহমিদ তানভীর রাজিন (১৪) কে কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান স্থলের গ্রীণ রুমের পাশে বুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পিতা শেখ জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করেন (নং-২০)। পুলিশ ও র‌্যাব ওই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বেশ কয়েকজনকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে আটক করতে সক্ষম হন। আটককৃতরা অধিকাংশই ছিল কিশোর। তারা বিভিন্ন স্কুলের ৭ম থেকে ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। ফাহিমকে হত্যায় ব্যবহার করা অত্যাধুনিক চাকুটিও উদ্ধার করে পুলিশ। এক মাসের মধ্যে ওই মামলায় ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। অভিযুক্ত ১৮ জনের মধ্যে ১৭ জনই ছিল কিশোর। তদন্ত প্রতিবেদনে এ হত্যাকা-টি একটি প্রেম সংক্রান্ত বিষয়ে সংঘটিত হয়েছে বলে পাওয়া যায়।
পাবলিক কলেজ ছাত্র রাজিন হত্যাকাণ্ডের ২৪ দিন আগে অর্থাৎ ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর নগরীর চাঁনমারী বাজার এলাকার স্কুলছাত্র খলিলুর রহমান সিয়াম (১৬) খুন হয়। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার কিশোর ও যুবক অপরাধীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে সিয়ামকে হত্যা করে। রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন খলিলুর রহমান সিয়াম। সে ওই এলাকার মেছের সড়কের বাসিন্দা ইজিবাইক চালক মো. আয়নাল খন্দকারের ছেলে। এ ঘটনায়ও  নিহতের পিতা বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (নং-৪২)। এ মামলাটিরও অধিকাংশ অভিযুক্তরা আইনের আওতায় এসেছে। আদালতে হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ততা স্বীকার করে জবানবন্দীও দিয়েছে তারা।  কেএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কিশোর বয়সী অপরাধীদের প্রতি আমাদের সব সময় নজরদারি রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সামনে নিয়মিত পুলিশের টহল ও সাদা পোশাকে পুলিশের অবস্থান থাকে। এরপরও এ ধরনের হত্যাকান্ডের ঘটনা অনাকাঙ্খিতভাবে ঘটে যাচ্ছে। এ বিষয়ে দৃশ্যমান আরও বেশি অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি। এ ব্যাপারে উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মো. এহসান শাহ বলেন, বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ছোট ছোট কিশোর গ্যাং তৈরি হয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। এদেরকে অপরাধ কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখতে স্কুলের শিক্ষক-অভিভাবকদের নিয়ে পুলিশের কয়েক দফা সচেতনতামূলক বৈঠক হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি, শিগগিরই ভালো ফলাফল আসবে বলেও জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ