ঢাকা, সোমবার 16 July 2018, ১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তুলা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষীরা

মফিজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা সদর সংবাদদাতা : দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়েই চলছে চুয়াডাঙ্গা তুলা উন্নয়ন বোর্ড জোন কার্যালয়। এ কারণে তুলা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষীরা। বিভিন্ন কৌশলে এ কার্যালয়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম দানা বেঁধেছে। সঠিক তদারকির অভাবে বছর বছর বড় ধরনের অপকর্ম করেও পার পেয়ে যাচ্ছে প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড.আব্দুস সালাম, ১৫ বছরের অধিক এ জেলায় কর্মরত তুলা ইউনিট কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান এবং স্টোর কাম মাঠ কর্মী (অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবরক্ষক) শয়েন চন্দ্র বর্মন। এরাই মূলত এ কার্যালয়ে সব কিছু। চাষী প্রশিক্ষণের টাকা আত্মসাৎ, অনিয়ম করে সার ও কীটনাশক কেনা, চাহিদার তুলনায় কম হাইব্রিড তুলা বীজ চাষীদের দিয়ে বেশী পরিমাণ দাম ইউনিট অফিস থেকে কেটে নেয়াসহ বিভিন্ন অপকর্ম চললেও এর প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হয়। সে কারণে প্রভাবশালী তুলা ইউনিট কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমানের ভয়ে কেউ কৌশলে টাকা হরিলুটের খবর প্রকাশ করতে চাইনা। সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। দেয়া হয় মামলা করার হুমকি। চুয়াডাঙ্গা তুলা উন্নয়ন বোর্ড জোন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তুলা উৎপাদনের লক্ষে চাষীদের উদ্বুদ্ধকরণ ও ফলন বৃদ্ধির জন্য চাষী প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, মাঠ দিবস ও পরিদর্শন, দলীয় সভা ছাড়া বিভাগীয় ঋণ দেয়া ও ব্যাংক ঋণ পেতে সহায়তা করা, কৃষি উপকরণ দেয়া ও উৎপাদিত তুলা বাজারজাত করার ক্ষেত্রে সহায়তা করার জন্যই চুয়াডাঙ্গা জেলার ১২টি তুলা ইউনিট ও মেহেরপুর জেলার ৫টি তুলা ইউনিট কার্যালয় এবং ১টি জিনিং কেন্দ্র নিয়ে চুয়াডাঙ্গা উন্নয়ন খাত জোন হিসাবে কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯৩ সালের ৩১ মে। এই জোন রাজস্ব খাতে অর্šÍভূক্ত হয় ২০১২ সালের ৫ জুন।
এ জোনে তুলা উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাওয়ায় এখানে কৌশলে টাকা হরিলুটের মাত্রাও বাড়তে থাকে। চুয়াডাঙ্গা জেলা সদর, আলুকদিয়া, ডিঙ্গেদহ, দামুড়হুদা, হেমায়েতপুর, দর্শনা, কার্পাসডাঙ্গা, জীবননগর, দৌলৎগঞ্জ, আন্দুলবাড়ীয়া, আলমডাঙ্গা ও মুন্সীগঞ্জ, মেহেরপুর জেলা সদর, বকুলতলা, বাড়াদী, মুজিবনগর, মহাজনপুর ও জিনিং কেন্দ্র টাকা হরিলুটের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে।
২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে চুয়াডাঙ্গা জোনে ৬৭ টি মাঠ দিবসে ৪০ জন করে চাষী অংশগ্রহণ করে। তাদেরকে উপকরণ খরচসহ ৫০০ টাকা করে দেয়া হয়। এতে খরচ হয় ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। একই অর্থ বছরে ১০টি প্রশিক্ষণে ৩০০ জন  ও ১৭টি উদ্বুদ্ধকরণসভা ৩০ জন করে ৫১০ জন অংশগ্রহণকারী চাষীর পিছনে উপকরণসহ খরচ হয় ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ