ঢাকা,বৃহস্পতিবার 15 November 2018, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ট্রাম্প-পুতিন বিশ্ব শান্তির চাবি

সংগ্রাম অনলাইন : বৈঠকে বসতে যাওয়া আমেরিকা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে ‘দায়িত্ববোধের’ পরিচয় দেয়ার অনুরোধা জানিয়ে ক্রোয়েশিার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর এই দুই ব্যক্তির উপর সারা বিশ্বের ‘শান্তি ও স্থীতিশীলতা’ নির্ভর করছে।

রোববার এসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রোয়েশিয়ার নেতা কালিন্দা গ্রাবার-কিটারোভিচ এ কথা বলেন।

এদিকে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবারের ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী আচরণ থাকলেও সেটাকে ‘ব্যক্তিগত সমস্যা’ হিসেবেই দেখছেন ক্রোয়েশিয়ার নেতা।

তিনি বলেন, এটা ব্যক্তিগত সম্পর্কীয়, এটা নিয়ে তার বিরুদ্ধে বলতে চাই না।

১৯৯১ সালে যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া একটি অঞ্চলকে শাসন করে আসা গ্রাব্রার-কিতারোভিট বলেন, আগামী সোমবারে ট্রাম্প-পুতিনের বৈঠকটি সারা বিশ্বের উত্তেজনার পরিবর্তে শান্ত করতে পারে।        

রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজ দেশের ফাইনাল খেলা দেখতে আসা ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট রবিবার ক্রেমলিনে পুতিনের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

ক্রোয়েশিয়ার নেতা বলেন, আমি আশাবাদী যে, দুই রাষ্ট্রের নেতা বিশ্বের স্থিতিশীলতা ও ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ক বজায় রাখতে পর্যাপ্ত… দায়িত্ববোধ দেখাবেন।

তিনি দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে রাশিয়ান হস্তক্ষেপ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যেখানে মস্কো ইইউ এবং ন্যাটো বাহিনীকে মোকাবেলা করার জন্য তার অর্থনৈতিক প্রভাব এবং শক্তি ব্যবহার করতে চেয়েছে।

কিন্তু গ্রাব্রার-কিটরোভিচ রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে রাশিয়ার সাথে কথা বলার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সাধারণ হুমকি সম্পর্কে একটি সংলাপ করতে চাই। আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

গ্রাব্রার-কিটারোভিচ একটি স্পর্শ্বকাতর বিষয়কে স্পষ্ট করে তুলে ধরে বলেন, ক্রোয়েরশিার ফুটবল খেলোয়ারের মধ্যে কারো কারো মধ্যে ইউক্রেনীয় মনোভাব রয়েছে, যা টুর্নামেন্টের আয়োজক রাশিয়াকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।

তিনি বলেন, খেলাধুলা মানুষকে একত্র করে। আমাদের সব দেশের লোকেরা আদর্শগত পার্থক্য থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, এবং সব সময় অতীতে ফিরে আসে।

আমেরিকার- রাশিয়া সম্পর্কের ভালো থাকার উপর গুরুত্বারোপ করে একটি কারণ তুলে ধরে গ্রাবার-কিটারোভিচ বলেন, তাদের অঞ্চলে এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষিতেও ভালো সম্পর্ক প্রয়োজন। কারণ তিনি ১৯৯০ দশকের গণহত্যার মতো আর কিছু দেখতে চান না।

৪০ লাখ মানুষের দেশ ক্রোয়েশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপের বিস্ময় হয়ে দেখিয়েছে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ থেকে ধীরে ধীরে তাদের কঠোর পরিশ্রেমের মাধ্যমে এ পর্যন্ত এখানে এসেছে, যেখানো নামি-দামি অনেক বড় বড় দল শুরুতেই বাদ পড়েছে।

গ্রাবার কিটারোভিচ তার প্রোফাইলকে উত্থাপনের জন্য ফুটবল মাঠে তার দেশের সাফল্যকে ব্যবহার করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে লাল ও সাদার চেক চেক মিশ্রনে ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের টি-শার্টি পড়ে প্রায় প্রতিটি সুযোগকে কাজে লাগাতে দেখা গেছে গ্রাব্রার কিটারোভিচকে। ন্যটোর বৈঠকের ফাঁকে তিনি যেমন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্রোয়েশিয়ার জার্সি উপহার দিয়েছেন, আবার বৈঠকের এক পর্যায়ে পুতিনকেও জার্সি দিতে ভুলেননি।

অপরদিকে ফ্রান্সের সাথে বিশ্বকাপের ফাইনালে পরাজিত হলেও ফ্রান্সের পেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোকেও অভিনন্দিত করতে ভুলেননি। সূত্র: ইউএনবি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ