ঢাকা, মঙ্গলবার 17 July 2018, ২ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ডুবুরির মৃত্যুর খবর জেনেই কান্নায় ভেঙে পড়লো থাই কিশোররা

নিহত ডুবুরির ছবি হাতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন উদ্ধার হওয়া থাই কিশোর ফুটবলাররা

১৬ জুলাই, গার্ডিয়ান : উদ্ধার অভিযানে জীবন উৎসর্গকারী থাই নেভির সাবেক ডুবুরি সামারান কুনানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে উদ্ধার হওয়া কিশোররা। ১ জুলাই উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে ৬ জুলাই অক্সিজেনের অভাবে গুহায় প্রাণ হারান সামারান। দুনিয়াজুড়ে তার জীবন উৎসর্গের খবর রটে যায়। তবে মানসিক চাপের বিবেচনায় এই খবর এতোদিন গোপন রাখা হয়েছিল উদ্ধারকৃত থাই কিশোরদের কাছ থেকে। থাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, শনিবার প্রথমবারের মতো তাদেরকে জানানো হয়েছে সামারানের মৃত্যুর খবর। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তার মৃত্যুর খবরে শোকাচ্ছন্ন হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে কিশোররা। প্রায় তিন সপ্তাহ গুহায় থাকা ওই কিশোরদের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটছে এবং শিগগির তারা বাড়ি ফিরে যাবে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

গত ২৩ জুন ফুটবল অনুশীলন শেষে ২৫ বছর বয়সী কোচসহ ওই ১২ কিশোর ফুটবলার থাম লুয়াং গুহাটির ভেতরে ঘুরতে গিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে গুহার প্রবেশমুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আটকা পড়ে। টানা ৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২ জুলাই গুহার ভেতরে জীবিত অবস্থায় ১২ কিশোর ফুটবলারসহ তাদের কোচকে শনাক্ত করেন ডুবুরিরা। থাই নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য সামারান কুনান তাদের খোঁজে শুরু হওয়া অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ১ জুলাই। গত ৫ জুলাই মধ্যরাতে অভিযান চলার সময় অক্সিজেন স্বল্পতায় পড়েন কুনান। নেভিসিল কমান্ডার জানান, আটকেপড়া শিশুদের বের করে আনতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে গুহায় অক্সিজেনের ট্যাঙ্ক বসানো হচ্ছিলো। সেখানেই কাজ করছিলেন ৩৮ বছর বয়সী সামান কুনান। তবে অক্সিজেনের লাইন টানার সময় নিজেই অক্সিজেন স্বল্পতায় পড়ে অচেতন হয়ে পড়েন। শুক্রবারের প্রথম প্রহরেই তিনি মারা যান।

থাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ওই কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা একটি শোকের খবর সহ্য করার মতো অনুকূল হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন চিকিৎসকরা। তারা শনিবার এসে কেবল মনে করেছেন, এখন কিশোরদের এই খবর দেওয়া হলে তা তারা সহ্য করতে পারবে। থাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব জেডসাডা চকদামরংসুক দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, খবর শুনেই ‘প্রত্যেকে কান্নায় ভেঙে পড়ে। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সামারানের একটি চিত্রে তারা বিভিন্ন বার্তা লিখে সমবেদনা প্রকাশ করে এবং তাকে স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করে’। তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ‘ভালো মানুষ’ হয়ে ওঠার অঙ্গীকারও করে কিশোররা।

গায়ে ধূসর এক টি-শার্ট। চোখের চশমায় নীল আভা। থাই নেভির সাবেক ডুবুরি সামারান কুনান এই পোশাকেই নিজের শেষ ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘থাম লুয়াং, আজ রাতে দেখা হচ্ছে।‘ প্রতিশ্রুতি রেখেছিলেন তিনি। গুহায় ঢুকেছিলেন আটকে পড়া কিশোরদের উদ্ধার করতে। ঠিকই বের হয়ে এসেছে কিশোররা। কিন্তু কুনান আর বের হতে পারেননি। উদ্ধার অভিযানের একমাত্র বিয়োগান্তক ঘটনা হয়ে চলে গেছেন জীবনের ওপারে। কিশোরদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করতে গিয়েই আত্মাহুতি দিয়েছেন কুনান। অক্সিজেনের অভাবেই প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। উদ্ধার অভিযানের সফলতায় সারা বিশ্ব আনন্দে উল্লসিত হলেও সংশ্লিষ্টদের কেউই কুনানের কথা ভোলেননি। থাই নৌবাহিনী তাকে সম্মান জানিয়েছে। স্ত্রী তার শূন্যতায় কাতর। বিশ্ববাসী জানিয়েছেন নতজানু শ্রদ্ধা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ