ঢাকা, মঙ্গলবার 17 July 2018, ২ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইসরাইলী আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে--------হামাস

ইসরাইলী বিমান হামলায় নিহতদের ছবি হাতে মানবন্ধন করছেন ফিলিস্তিনীরা

১৬ জুলাই, গার্ডিয়ান, পার্সটুডে : অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত দখলদারদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন (হামাস)।

হামাসের পলিটিক্যাল ব্যুরোর প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল হানিয়া এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়াসহ ফিলিস্তিনিদের সব দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত তারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালিয়ে যাবে।

ফিলিস্তিনিদের ভূমি জবরদখল করে সেখানে অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণ করার কাজ চালিয়ে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার প্রত্যয় থেকে ফিলিস্তিনি জনগণকে সরিয়ে আনা যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

হামাস নেতা বলেন, ফিলিস্তিনি জাতি কখনোই বায়তুল মুকাদ্দাসের ব্যাপারে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে না। এই পবিত্র শহরসহ অধিকৃত সব ভূমির মালিক ফিলিস্তিনি জনগণ এবং তারা একদিন তাদের দেশ ইহুদিবাদী দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করবেই।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন অবস্থানে ইসরাইলি জঙ্গিবিমান ব্যাপক বোমাবর্ষণ করার একদিন পর রবিবার এসব কথা বলেন ইসমাইল হানিয়া।

গাজা থেকে ইসরাইল অভিমুখে রকেট নিক্ষেপ করা হচ্ছে বলে দাবি করে ওই বিমান হামলা চালায় তেল আবিব। তবে রবিবার গাজায় কোনো বিমান হামলা হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় না : ইসরাইলের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী হামাস।

গাজা উপত্যকায় গত রোববার ইসরাইলের ব্যাপক বিমান হামলার জবাবে হামাসের পক্ষ থেকে ইসরাইলের দিকে শতাধিক রকেট হামলার পর হামাস এই ঘোষণা দিয়েছে। রবিবার রাতে হামাস জানিয়েছে, মিশর ও অন্যান্যদের সহায়তায় তারা একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে।

তবে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিরতি মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা জানান, জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ গাজায় অবস্থান করছিলেন এবং উত্তেজনা প্রশমনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে কাজ করছেন।

রবিবার গাজা উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গাজা সীমান্ত থেকে আগুনের বেলুন ও ঘুড়ি উড়ানোর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে, এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। শনিবারও দেশটি কয়েক ডজন বিমান হামলা চালায়। এতে অন্তত দুইজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। পাল্টা হিসেবে গাজা থেকেও শতাধিক রকেট ও মর্টার হামলা করা হয়।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, গাজা স্ট্রিপের কাছে সাদারট শহরে একটি রকেট আঘাত হানলে চারজন ইসরাইলী আহত হয়।

অন্যদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, গাজা সিটির একটি ভবনে ইসরাইলি বিমান হামলায় ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর নিহত হয়েছে। এছাড়াও, গাজাজুড়ে প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছে।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েল কোনো যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করবে না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কোনো হামলা গ্রহণ করতে আমরা প্রস্তুত নই এবং আমরা যথাযথভাবে তার জবাব দেব।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ