ঢাকা, মঙ্গলবার 17 July 2018, ২ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ : ফিফা প্রেসিডেন্ট

স্পোর্টস ডেস্ক : রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্স চ্যাম্পিয়ন হলেও সফল আয়োজনে জয়ী হয়েছে স্বাগতিক রাশিয়াও। রাশিয়া টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে অনেক আগেই, তবে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে অংশ নেয়া বাকি ৩১টি দেশের সঙ্গে এক মাসেই বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে দেশটির। ২০১৮ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য সবার কাছ থেকেই প্রশংসা কুড়িয়েছে রাশিয়া। আয়োজনের কোথাও কোনো কমতি নেই, বিদেশী দর্শকদের জন্যও ছিল কড়া নিরাপত্তা। রাশিয়া বিশ্বকাপের আসরকে ফুটবলের ইতিহাসে সেরা আসর বলে অভিহিত করলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফানতিনো।

 ৩২ দেশের অংশগ্রহণে আটটি গ্রুপে ভাগ হয়ে গত ১৪ জুন থেকে শুরু হয় রাশিয়া বিশ্বকাপ। এক মাসের এই ফুটবল মহাযজ্ঞে সামিল হতে বিশ্বের সব প্রান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা জড়ো হন রাশিয়ায়। তাদের ভ্রমণেও কোনো সমস্যা হয়নি।

ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফানতিনো জানান, এটা বিশ্বকাপ ফুটবল আসরের মধ্যে সেরা একটি আসর। গত কয়েক বছর ধরেই আমি এই আসর নিয়ে ভেবেছি। এখন আমি বলতে পারি আমার পুরো আশা পূর্ণ হয়েছে। ফিফার এমন ইভেন্ট ফুটবলকে শ্বাস দিতে পেরেছে। ফুটবলে সারা বিশ্বের দৃষ্টি থাকে, তাই এমন আয়োজন পূর্ণতা পেয়েছে, সফলভাবে শেষ হয়েছে।

ফিফা প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমি বলতে চাই ফিফার জন্যই ফুটবলটা এমন মধুর আর ফুটবলের জন্যই রয়েছে ফিফা। রাশিয়া বিশ্বকাপের আয়োজনে যারা জড়িত তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। মেগা এই ইভেন্টে অংশ নেওয়া প্রত্যেক ফুটবলার, কোচিং স্টাফ আর রেফারিদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। বিশেষ করে রাশিয়ার মানুষ আর তাদের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানাই। রাশিয়া ফুটবলের দেশ।

বিশ্বকাপ অয়োজন করার ক্ষমতা, প্রস্তত নয় স্টেডিয়াম, রাশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা স্নায়ুযুদ্ধের আশঙ্কা এমন অনেক রকম জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুরু এবং বিশ্বকাপ শেষ হলো নির্ভিঘেœ। রাষ্ট্রীয মদদে ডোপিংয়ের অভিযোগ, ডোপিংয়ের কারণে রাশিয়ান অ্যাথলেটদের নিষেধাজ্ঞা, অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার ভঙ্গ, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ইত্যাদি নানা ধরনের সমালোচনায় জড়িয়েছে রাশিয়া। বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়া দর্শকরা চিন্তিত ছিলেন আরও বেশ কিছু কারণে।

বিষয়টা অবাক করেছে ইংল্যান্ড বংশোদ্ভূত রাশিয়ান সাংবাদিক স্টিভ রোজেনবার্গকেও, ‘আমি বিশ বছরের বেশি সময় ধরে মস্কোতে আছি। এত দিনে আমি কখনোই আগে রাশিয়ার শহরগুলোকে এমন দেখিনি।’ জমকালো স্টেডিয়াম, স্টেডিয়ামে বিনা মূল্যে ট্রেনযাত্রার ব্যবস্থা, সমর্থকদের মধ্যেও কোনো দাঙ্গা দেখা যায়নি। রাশিয়া এখন যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। শুধু বিদেশী পর্যটকদেরই নয় খেলোয়াড়দেরও মন কেড়েছেন পুতিন। সাবেক জার্মান মিডফিল্ডার লোথার ম্যাথাউস জানান, ‘গত চল্লিশ বছরে আমি যতগুলো বিশ্বকাপ দেখেছি তাঁর মধ্যে সবচেয়ে সেরা বিশ্বকাপ ছিল এটি। ধন্যবাদ রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট, ধন্যবাদ রাশিয়া’। বিশ্বকাপের একদম আগ মুহূর্তে ব্রিটেনের সঙ্গে ভালো ঝামেলা চলছিল রাশিয়ার। সে ঝামেলার রেশ এখনো আছে তবে তীব্রতা অনেকটাই কমে গেছে। কোনোরকম অঘটন ছাড়াই শেষ হলো রাশিয়া বিশ্বকাপর আসর। আসর শুরুর আগে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা আয়োজকদের দোষ-ত্রুটি নিয়ে হাজারো আলোচনা হলেও, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে সব আলোচনার কেন্দ্রে ছিল মাঠের খেলা। এবার অপেক্ষা ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ