ঢাকা, মঙ্গলবার 17 July 2018, ২ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকারের নির্দেশে বেগম জিয়াকে নিয়ে ভয়ংকর মাস্টারপ্লানের দিকে এগুনো হচ্ছে

* তিন সিটিতে ভোট ডাকাতির সুস্পষ্ট আভাস দিলেন ওবায়দুল কাদের
স্টাফ রিপোর্টার: দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর জানতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বিষয়ে জানতেও দিচ্ছে না। তারা তার চিকিৎসার বিষয়ে উদাসীনই নয়, হয়তো সরকারের নির্দেশে কোনো ভয়ঙ্কর মাস্টারপ্ল্যানের দিকে এগোচ্ছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুল ইসলাম হাবিব প্রমুখ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে কতটুকু গুরুতর, সে খবর জানতে দিচ্ছে না কারা কর্তৃপক্ষ। গত শনিবার পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে গেলেও তার সুযোগ দেয়া হয়নি। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বেগম জিয়া ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিং অ্যাটাকে (টিআইএ) ভুগছেন। প্রায়ই তার জ্বর হচ্ছে। আর পায়ের ব্যথায় হাঁটতে পর্যন্ত পারছেন না। অবিলম্বে ইউনাইটেড হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে ভর্তি করে সুচিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণসহ নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান রিজভী।
বিএনপির এ নেতা বলেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এতটাই গুরুতর যে, তিনি নীচতলায় অপেক্ষমাণ স্বজনদের কথা জানতে পেরেও দোতলার নিজ কক্ষ থেকে নেমে আসতে পারেননি। অথচ এর আগে দোতলায় দেশনেত্রীর পাশের কক্ষে দেখা করার অনুমতি দিতো কিন্তু এবার কারাকর্তৃপক্ষ সরকারের হুকুমে পরিবার-পরিজনদেরকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করলো। বেগম জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা সবাই জেনে যাবে বলেই তার সাথে দেখা করতে দেয়া হয়নি। এটি সরকারের দয়ামায়াহীন চরম অমানবিকতা।
রিজভী জানান, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তি এবং সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে আগামী শুক্রবার বেলা তিনটায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় অথবা প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি সমাবেশ করবে। এছাড়া একই দাবিতে ওইদিন দেশব্যাপী সকল জেলা, মহানগর ও উপজেলা সদরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি। বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সমাবেশ সফল করার জন্য অনুরোধ জানান রিজভী।
 কোটা সংস্কার আন্দোলন বিষয়ে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, গতকালও (রোববার) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। কোটা সংস্কারের দাবিতে এবং ছাত্রলীগের হামলার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ফেরার সময় ছাত্রলীগ ‘ধারালো অস্ত্র’ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে আগ্রাসী ভূমিকায় নেমেছে। ছাত্রলীগ বিবেকহীন মনুষ্যত্বহীন উন্মাদনায় ক্যাম্পাসে এক আগ্রাসী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক কেউই।
তিনি বলেন, শাসকের বিরোধিতা করার অর্থ রাষ্ট্রের বিরোধিতা করা নয়। আর এই বিরোধিতার জন্য নিরপরাধ ব্যক্তিদেরকে পুলিশ ও দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে রক্তাক্ত করা ঘোরতর অন্যায় ও পাপ। শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের তান্ডব পুলিশের উপস্থিতিতেই ঘটেছে। শেখ হাসিনার প্রশ্রয়ে ছাত্রলীগের নিষ্ঠুরতায় বাংলাদেশে এখন তামসিক যুগ চলছে। ন্যায্য দাবির পক্ষে সোচ্চার হতে গিয়ে বাকস্বাধীনতা হরণ করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আর ছাত্রলীগকে। আওয়ামী লীগ সহিষ্ণুতার শিক্ষা কখনোই গ্রহণ করেনি। কোটা আন্দোলন নিয়ে সরকারের নাটক ও প্রতারণার জন্য বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ক্ষুদ্ধ। তুমুল ছাত্র আন্দোলনের মুখে কোটা আন্দোলনের দাবি মেনে নেয়ার ঘোষনা দিয়ে সেদিন প্রধানমন্ত্রী যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন সেটিতে ব্যর্থ হয়ে এখন তিনি আন্দোলনকারীদের দমাতে ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিয়েছেন। অথচ ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের নামে কিছু হচ্ছে কী না জানতে হবে। নিজ দলের অনাচার ও অপকর্ম তার না জানারই কথা, চোখে না পড়ারই কথা। ছাত্রলীগকে রক্তের নেশা পাইয়ে দিতে উৎসাহিত করেছে আওয়ামী নেতারাই। সুতরাং তাদের রক্তাক্ত আক্রমণ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাহেবের দৃষ্টিগোচর না হবারই কথা।
তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খুলনা ও গাজীপুরের মতো তিন সিটিতেও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। মূলত একথার মাধ্যমে ভোট কারচুপির সুষ্পষ্ট আভাস দিলেন তিনি। তিন সিটিতেই নৌকা মার্কার পক্ষে নির্বাচনী অনাচার আর ক্ষমতাসীনদের অবৈধ দাপট চলছে। বাস্তবতা হলো তিন সিটিতেই সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বিদ্যমান নেই, নিরাপদে ভোট দিতে পারবে কিনা সেটি নিয়ে ভোটারদের মধ্যে এখনও শঙ্কা কাটেনি। এসব নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে বারবার অভিযোগ করা হলেও তা আমলে নেয়া হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো মানে অরণ্যে রোদন বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।
তিনি বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষের অফিস ভাংচুর, নেতাকর্মী-সমর্থকদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শণ করে আওয়ামী ক্যাডার’রা এক আতঙ্কের পরিবেশ  তৈরী করেছে। পাশাপাশি পুলিশও বসে নেই, খুলনা ও গাজীপুরের মতো আওয়ামী প্রার্থীর পক্ষে পুরোদমে নেমে পড়েছে। রাজশাহী মহানগরীর হাদির মোড় এলাকায় খাদেমুল ইসলাম স্কুলের সামনে ধানের শীষের প্রচার অফিস আওয়ামী ক্যাডারদের কর্তৃক ভাংচুর হওয়ার পর পুলিশ এসে তালা লাগিয়ে দেয়। বরিশাল ও সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাতে চলছে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে হুমকি-ধামকি। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্বে থাকার পরেও আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ তার ছেলেকে বিজয়ী করার জন্য নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন এবং তিনি কোন নির্বাচনী আচরণবিধিই মানছেন না, তাছাড়া তিনি ভোটারদের ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। মোট কথা তিন সিটিতেই সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বিদ্যমান নেই, নিরাপদে ভোট দিতে পারবে কী না সেটি নিয়ে ভোটারদের মধ্যে এখনও শঙ্কা কাটেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ