ঢাকা, মঙ্গলবার 17 July 2018, ২ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা শ্রমিক সংগঠনগুলোর

স্টাফ রিপোর্টার : পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৬ হাজার ৩৬০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে মালিকরা। এ মজুরি শ্রমিক প্রতিনিধিদের প্রস্তাবিত ১২ হাজার ২০ টাকার অর্ধেক। তবে এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিকরা বলেছেন, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধির কোনো প্রস্তাবই তারা মানেন না।
তাদের দাবি, ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা ঘোষণা করতে হবে। না হলে, তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। মজুরি বোর্ডের ঘোষিত বেতন কাঠামো প্রত্যাখ্যান করলো শ্রমিক সংগঠনগুলো।
গতকাল সোমবার রাজধানীর তোপখানা রোডে মজুরি বোর্ড অফিসে ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের তৃতীয় বৈঠকে মালিক ও শ্রমিকদের থেকে প্রস্তাব দেয়ার সাথে সাথেই এমন প্রতিক্রিয়া জানান শ্রমিক নেতারা।
মালিকদের পক্ষে প্রস্তাব দেন তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান আর শ্রমিকদের পক্ষে প্রস্তব দেন শ্রমিক নেত্রী বেগম শামসুন্নাহার ভূঁইয়া।
সভায় ন্যূনতম মজুরি কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ আমিনুল ইসলামসহ কমিশনের সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মজুরি বোর্ডের বৈঠক হয়। বৈঠকে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি বোর্ডের কাছে মজুরির প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের বিদ্যমান মজুরি নির্ধারণের ১১টি বিষয় বিবেচনা করা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ন্যূনতম ৭ম গ্রেডের জন্য আমরা ৬ হাজার ৩৬০ টাকা মজুরি প্রস্তাব করেছি। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য গ্রেডের বেতন ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হবে।
৭ম গ্রেডে সাধারণত অদক্ষ ও প্রশিক্ষণবিহীন শ্রমিকদের নিয়োগ দেয়া হয়। মূলত যে কোনো কারখানায় এই গ্রেডের শ্রমিকই বেশি থাকেন।
শ্রমিকদের পক্ষ থেকে শ্রমিক নেতা শামছুন্নাহার ভূঁইয়া বলেন, অনেক সংগঠন ১৬ হাজার এবং অনেক সংগঠন ১৮ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। কিন্তু আমাদের দেশের সব পোশাক শ্রমিকের যোগ্যতা একরকম নয়। এখন নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার হয়েছে। সেই সমস্ত কাজ করতে গেলে অভিজ্ঞ লোকের প্রয়োজন।
আমরা চাইনা কোন অনভিজ্ঞ লোক চাকরি হারিয়ে বেকার থাকুক। তাছাড়া দেশে সব কারখানার মজুরি দেওয়ার সক্ষমতা এক সমান নয়। সার্বিক দিক বিবেচনা করে এই মজুরি প্রস্তাব করা হয়েছে। আশা করি কমিশন প্রস্তাবটি বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, এই মজুরি দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে একজন শ্রমিক জীবন যাপন করতে পারে না। তবু সবকিছু বিবেচনা করে এই মজুরি নির্ধারণ করেছি। আশা করি একজন শ্রমিকের জীবন ধারণের খরচ, ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচ, খাদ্য ও পুষ্টি সব বিষয় বিবেচনা করে আমাদের প্রস্তাব মেনে নেওয়া হবে।
মজুরি কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই প্রস্তাবনা বিবেচনা করে ন্যূনতম মজুরির পরিমাণ প্রকাশ করা হবে। কারখানা পরিদর্শনসহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরো সময়ের দরকার। তাই সরকারের কাছে আরো ৩ মাস অর্থাৎ চলতি বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত সময় চেয়ে ১৫ জুলাই চিঠি দেয়া হয়েছে।
তবে এই বৈঠকের শুরু থেকেই মজুরি বোর্ড অফিসের সামনে ১৬ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন।
সমাবেশে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, মালিক পক্ষ ও শ্রমিকদের প্রতিনিধির দেয়া প্রস্তাবিত মজুরি মানি না। মজুরি ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। ১৬ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে মজুরি বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভা প্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, উচ্চ পণ্যমূল্যের বর্তমান সময়ে এই মজুরিতে শ্রমিকদের জীবন চলবে না। তাই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হলো। শিগগিরই শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় ন্যায্য মজুরির দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বৈঠকে শ্রমিকদের জীবনযাপন ব্যয়, মান, উৎপাদন খরচ, উৎপাদনশীলতা, উৎপাদিত দ্রব্যের মূল্য, মুদ্রাস্ফীতি, কাজের ধরন, ঝুঁকি ও মান, ব্যবসায়িক সামর্থ্য ও অন্যান্য আর্থ-সামাজিক বিষয় বিবেচনা করে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এর আগে গত ৮ জুলাই কমিশনের দ্বিতীয় বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে মালিক ও শ্রমিকদের মজুরি প্রস্তাবনা দেয়ার জন্য ১৬ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়।
মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে বোর্ডের আলোচনা বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী শ্রমিক প্রতিনিধি ফজলুল হক মন্টু, স্থায়ী মালিক প্রতিনিধি কাজী সাইফুদ্দিন এবং নিরপেক্ষ প্রতিনিধি কামাল উদ্দীন ও মজুরি বোর্ডের সচিব মো. শহীদুল্লাহ প্রমুখ।
শ্রমিক নেতারা বলেন, মাসে ৬ হাজার টাকায় ঢাকা শহরে কারো সংসার চলে না। পোশাক মালিকের একজন বুয়ার(কাজের ঝি) বেতন ১০ হাজার টাকা। অথচ একজন শ্রমিকের বেতন দিতে যাচ্ছে ৬ হাজার টাকা। এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
তারা আরও বলেন, পাঁচ বছরে (প্রস্তাবিত মজুরি বোর্ডের প্রস্তাব অনুযায়ী) মাত্র বেতন বেড়েছে ১৩ শত টাকা। অথচ এই পাঁচ বছরে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণের বেশি। আর সেই হিসেবেই আমাদের প্রস্তাব ছিলো ১২ হাজার টাকা। কিন্তু তারা কোন বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে অযৌক্তিভাবে ৬ হাজার ৩ শত টাকা নির্ধারণ করেছে। এটি কোন পোশাক শ্রমিকই মানবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ