ঢাকা, মঙ্গলবার 17 July 2018, ২ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় হ-য-ব-র-ল

খুলনা অফিস : দিন দিন যানজটের নগরীতে পরিণত হচ্ছে খুলনা। নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় হ-য-ব-র-ল অবস্থায় মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল সবগুলোই অকেজো। ফলে যানজট এখন খুলনার বাসিন্দাদের নিত্যসঙ্গী হয়েছে। পাশাপাশি থমকে দিচ্ছে নগর জীবন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ট্রাফিক বিভাগে চলছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের চোখ শুধু মোটরসাইকেলের দিকে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে চলছে মোটরসাইকেলে জরিমানার নামে হয়রানি। যা একেবারে জুলুমের পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর হাতিয়ে নেয়া টাকায় পকেট ভরছে কর্তাদের। গল্লামারী ট্রাফিক মোড়ে যানজটে আটকে পড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ইংরেজি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মো. সামিউল হক বলেন, খুলনা এখন যানজটের শহর। ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এমনটি হয়েছে। নগরীর প্রবেশদ্বার গল্লামারীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানে একজন প্রবীণ ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, যানজটের কারণে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও অফিসে কর্মজীবী মানুষের সময়মতো পৌঁছানই এখন দায়। অন্তত দুই ঘন্টা হাতে নিয়েই নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশে বের হতে হচ্ছে নগরীর বেশির ভাগ মানুষকে।

মহানগরীর শিববাড়ির মোড় এলাকায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মিরাজ হোসেন বলেন, রাস্তায় এত যানবাহন থাকলেও পুলিশের চোখ শুধু মোটরসাইকেলের ওপর। বৈধ কাগজপত্র থাকলেও ট্রাফিক পুলিশ চেকআপের নামে অর্থ দাবি করে। সময় নষ্ট করে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, এখন মনে হয় মোটরসাইকেলের মালিক মানে পাপিষ্ঠ ব্যক্তি। রাস্তায় নামলেই অপদস্তের শিকার হতে হয়। যা দেখার কেউ নেই।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব বলেন, ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা ও খেয়ালীপনার কারণে শহরজুড়ে প্রচন্ড যানজটে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্বিষহ যন্ত্রণা। প্রচন্ড গরম আর যানজটে জনসাধারণের দুর্ভোগের শেষ নেই। ট্রাফিক পুলিশ সুষ্ঠু দায়িত্ব পালন করছেনা বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, যানজট শহরে প্রভাব ফেললেও নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের কোনো মাথাব্যথা নেই। বরং ট্রাফিক পুলিশের চোখ শুধু মোটরসাইকেলের দিকে। মোটরসাইকেলে জরিমানার নামে শুধু হয়রানি করে মানুষের কাছ থেকে অবৈধ টাকা আদায় করে।

সরেজমিনে নগরীর গল্লামারী, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের সড়ক, শিববাড়ি মোড়, শান্তিধামের মোড়, পাওয়ার হাউজ মোড়, পিকচার প্যালেস, সাত রাস্তার মোড়, পিটিআই মোড়, সদর থানার মোড়, রেল স্টেশন রোড ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার ওপর যত্রতত্র যানবাহন রাখা। এছাড়া যাত্রীবাহি ইজিবাইক ও মাহেন্দ্র যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করছে ট্রাফিক পুলিশের সামনেই। কিন্তু কোনো প্রতিকারই যেন নেই।  খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, খুলনা মহানগরীর অলিগলি, সড়ক-মহাসড়ক এখন ইজিবাইক, ব্যাটারী রিক্সা ও মাহেন্দ্রসহ প্রায় অর্ধলাখ অবৈধ যানবাহনের দখলে। এসব যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে শহরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি করছে। সেই সাথে অহরহ ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে নগরবাসী।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে মহানগরীর যানজট সমস্যার সমাধান ও যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে তৎকালীন মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ১ হাজার ৯৬৩টি ইজিবাইকের লাইসেন্স প্রদান করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সময়ের ব্যবধানে নগরীতে ইজিবাইক ও ইঞ্জিন রিক্সার সংখ্যা বেড়ে এখন প্রায় ৪০ হাজার। প্রতিদিন এসব অবৈধ যানবাহন কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত অবধি বেপরোয়া গতিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নগরজুড়ে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আরও কয়েক হাজার ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও মাহেন্দ্র। এসব যানবাহনের নেই বৈধ কোনো কাগজপত্র। চালকদেরও কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। ফলে অদক্ষ চালক ও বেপরোয়া চলাচলের কারণেই প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ জনগণ। অনেকে আবার আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন, কেউ বা মারাও যাচ্ছেন।

ভেঙে পড়া ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রসঙ্গে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ( কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সাইফুজ্জামানের সাথে কথা বললে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

এমনকি নগরীতে বর্তমানে কত ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন এমন প্রশ্ন করলেও ট্রাফিক বিভাগের প্রধান বলেন, এটা আমার দায়িত্ব নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ