ঢাকা, মঙ্গলবার 17 July 2018, ২ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পাগল সাজিয়ে সম্পত্তি হাতিয়ে নিলে চিকিৎসক ও অভিভাবকের জেল-জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার: কাউকে মানসিক রোগী বা পাগল সাজিয়ে মিথ্যা সনদ দিলে এবং সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করলে চিকিৎসক ও অভিভাবকদের জরিমানাসহ কারাদণ্ডের বিধান রেখে প্রস্তাবিত মানসিক স্বাস্থ্য আইন, ২০১৮ এর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
পরে সচিবালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদরে ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের (সংস্কার ও সমন্বয়) সচিব টি এম এম জিয়াউল আহসান। তিনি জানান, জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রেখে ৩১টি ধারাসহ ‘মানসিক স্বাস্থ্য আইন, ২০১৮’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৈঠকে মানসিক রোগী বা পাগলদের অধিকার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অভিভাবকহীন কেউ মানসিক রোগী চিহ্নিত হলে, সরকার তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে। মানসিক রোগ চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত। চিকিৎসক বা কেউ যদি কাউকে মানসিক রোগী দেখিয়ে মিথ্যা সার্টিফিকেট দেয়, তাহলে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা অথবা এক বছরের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এ ছাড়া মানসিকভাবে অসুস্থ বা পাগল সাব্যস্ত করে সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করলে অভিভাবকদের বা ব্যবস্থাপকদের পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা তিন বছর কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে।
এন এম জিয়াউল আলম বলেন, ১৯১২ সালের আইনটি বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে এবং আইনটিকে যুগোপযোগী করা হয়েছে। চলমান সময়ের প্রেক্ষাপটে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ও মানুষের নাগরিক মর্যাদা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করতে যুগোপযোগী করে আইনটি নতুন করে করা হয়েছে। এটি মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে গত ৩ জানুয়ারি আইনের খসড়াটি নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।’
এন এম জিয়াউল আলম জানান, এই আইনটিতে ৩১টি ধারা আছে। ধারা ৪-এ মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সব কার্যক্রম পরিচালনা, সম্প্রসারণ, উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব সরকারের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রদান ও এ সংক্রান্ত সংক্ষুব্ধতার প্রশ্নে অধিকার সম্পর্কে এ ধারায় বলা হয়েছে।
ধারা ৫-এ স্বাস্থ্য রিভিউ মনিটরিং কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারি, বেসরকারি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক হাসপাতাল স্থাপন, পরিচালনা ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে বলা হয়েছে। ধারা-৮ ও ৯-এ মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তির অভিভাবক নিয়োগ ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম ধারা ২১ ও ধারা ২২-এ অভিভাবকহীন ব্যক্তির চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সক্রান্ত বিষয়াদির কথা বলা হয়েছে। কোনও ব্যক্তির মানসিক অবস্থার বিচারিক অনুসন্ধানের বিধান ধারা ২০-এ প্রস্তাব করা হয়েছে। মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তির বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিচার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রস্তাবনা আছে ২৪ ধারায়। এতে অপরাধ আমল বিচারের কথা বলা হয়েছে। ধারা ২৩-এ এই আইনের দণ্ড সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া ‘জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা ২০১৮’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই নীতিমালার বৈশিষ্ট্য হলো, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সেল গঠন করা হবে। এই সেল থেকে ডিজিটাল ব্যবসাগুলো রিভিউ ও মনিটরিং করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ