ঢাকা, মঙ্গলবার 17 July 2018, ২ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকারের জুলুম নির্যাতন থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছে না -শিবির সভাপতি

গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে বক্তব্য রাখেন শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ ইয়াছিন আরাফাত -সংগ্রাম

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, অবৈধ ক্ষমতার মোহে সরকার অন্ধ ও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে সরকার রাষ্ট্রীয় স্তম্ভগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে। সরকারের জুলুম নির্যাতন থেকে কেউই রেহাই পাচ্ছে না।
গতকাল সোমবার রাজধানীর এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবিরের ষান্মাষিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় দাওয়া সম্পাদক শাহ মাহফুজুল হক, কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সালাউদ্দীন আইয়ুবীসহ সেক্রেটারিয়েট বৃন্দ।
শিবির সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে আজ ত্রাসের রাজত্ব চলছে। সরকার জনগণকে ভীতির মধ্যে রেখে ক্ষমতার মেয়াদকে দীর্ঘায়িত করতে চাইছে। অবৈধ ভাবে ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে সরকার রাষ্ট্রীয় স্তম্ভগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে। আইন আদালতকে নিজের ইচ্ছামত ব্যবহার করছে। সরকারের অনৈতিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে আদালত। অথনৈতিক ও সামাজিত অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। আওয়ামী লীগ দুর্নীতি ও জনগণের সম্পদ চুরি করে নিজেদের প্রবৃদ্ধি বাড়ালেও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা করুণ। অন্যদিকে সর্বক্ষেত্রে ভোটের অধিকারকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট ডাকাাতির নজীরবিহীন উদারহণ সৃষ্টি করেছে সরকার। প্রতিটি যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবীকে সন্ত্রাসী ও পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে দমন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের প্রতিটি অধিকার থেকে গায়ের জোরে জনগণকে বঞ্চিত করছে। গণতন্ত্রের লেবাসে নিকৃষ্ট ফ্যাসিবাদী শাসন চলছে দেশে।
তিনি বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদ- হলেও বাংলাদেশের মত মেধার অবমূল্যায়ন বিরল। কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগরদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। দেশের আপামর ছাত্র-শিক্ষক-জনতা এ পদ্ধতির সংস্কার চাইছে। অথচ সরকার এই যৌক্তিক ও গণ দাবীকে নস্যাৎ করতে প্রতারণা ও সন্ত্রাসের আশ্রয় নিচ্ছে। কোটা সংস্কারের দাবীতে যখন দেশের ছাত্রসমাজ একযোগে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছিল তখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সংসদের দাঁড়িয়ে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু এ ঘোষণা ছিল ছাত্রসমাজসহ গোটা জাতির সাথে প্রতারণা যা আবারো তার কোটা প্রথা বহাল রাখার পক্ষে ঘোষণার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে।ইতিমধ্যে কোটা সংস্কারের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সরকার তার সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ ও সেবাদাস পুলিশকে লেলিয়ে দিয়েছে। ছাত্রলীগ ঢাবি সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। প্রকাশ্য ছাত্রীর শ্লীলতাহানী করেছে, ছাত্রদের হাতুরী পেটা করা করেছে। সম্মানীত শিক্ষদের নাজেহাল করেছে। পুলিশ নির্বিচারে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা গ্রেফতার করেছে। রিমান্ডের নামে মেধাবী ছাত্রদের বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে। অন্যায় ভাবে ছাত্রদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী নির্যাতিত ছাত্রদের নিয়ে মুখ খোলেন নি। এতে প্রমাণ হয় তার ইশারাই ছাত্রলীগ ও পুলিশ সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, পৃথিবির সকল দেশেই শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। কেননা তারাই জাতি গড়ার কারিগর। কিন্তু জাতির দূর্ভাগ্য আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং ছাত্রসমাজের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি ছাত্রদেরকে থাকা খাওয়ার খোটাও দিয়েছেন। যা শুধু ছাত্রসমাজ নয় বরং গোটা জাতির জন্য অবমাননাকর।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আমাদের প্রস্তাবনা হলো: ক্যাম্পসে প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, শিক্ষা, শিক্ষাঅবকাঠামো, গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা, স্বতন্ত্র পরীক্ষার হল নির্মাণ, একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ছাত্র/ছাত্রীদেও আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানে গরিব ও মেধাবী ছাত্রদের কম বেতন বা বিনা বেতনে পড়া-লেখার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, শিক্ষা ব্যবস্থায় সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চ শিক্ষার দ্বার উম্মুক্ত রাখতে হবে, শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতি প্রবর্তন, প্রশ্নপত্র ফাঁস, দলীয় পরিচয়ে শিক্ষাক নিয়োগ, ছাত্ররাজনীতির নামে অছাত্রদের রাজনীতি, দলীয়করণ ও ভর্তি বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং সাধারণ ছাত্রদের হয়রানি বন্ধে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, সরকারি ও স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদনের বয়স ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করতে হবে। পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব দূর করতে হবে, শিক্ষা ক্ষেত্রে এবং বিসিএস-সহ সকল ক্যাডার ও নন-ক্যাডার চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কোটা পরিহার করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি নিশ্চিত করতে হবে এবং চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সকল প্রকার বৈষম্য রোধ করতে হবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ