ঢাকা, মঙ্গলবার 17 July 2018, ২ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাধা পেরিয়ে পাইকগাছায় কৃষি কলেজ স্থাপন কাজে গতি সঞ্চার

খুলনা অফিস : খুলনার পাইকগাছায় কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলেছে। কলেজটি স্থাপনে প্রথম পর্যায়ে জমি জটিলতায় আটকে গেলেও পরবর্তিতে সেই একই জায়গায় কলেজটি স্থাপন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণসহ মাটি ভরাটের কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ২৩ এপ্রিল কয়রার এক জনসভায় পাইকগাছা উপজেলায় একটি কৃষি কলেজ স্থাপনের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কৃষি কলেজ স্থাপনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে উপজেলার পাইকগাছা-কয়রা সড়ক-সংলগ্ন শিবসা ব্রীজের নিচে চকবগুড়া মৌজায় ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ছাড় দেয়া হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের অর্থ পরিশোধও শেষ। কলেজটির অবকাঠামো স্থাপনে সার্বিক প্রক্রিয়াও শেষের পথে। কলেজের অবকাঠামো নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গেল বছর প্লানিং কমিশন থেকে খুলনায় আসে একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শন শেষে কলেজ স্থাপনে জলাধারের বিষয়সহ নানা জটিলতার বিষয় উত্থাপন করেন। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী সে প্রস্তাব বাতিল করে দেন। মূল অবকাঠামোগত কাজ শুরুর আগেই ২০১৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান যে ভিডিও চিত্র ধারণ করেন এবং প্রদর্শন করেন তাতে দেখা যায় উক্ত এলাকায় ৩ ফুট পানি রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের এমন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পের সকল কার্যক্রম। ফলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত কৃষি কলেজ স্থাপনের কাজ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এর প্রেক্ষিতে কলেজের কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় নানা জল্পনা কল্পনার সৃষ্টি হলে বর্তমান সংসদ সদস্য এডভোকেট শেখ মো. নূরুল হক চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি কয়েকটি স্থির চিত্রসহ প্রধানমন্ত্রী বরাবর ডিও লেটার দেন। একইভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফকরুল হাসান নির্ধারিত এলাকায় কলেজ স্থাপন করার উপযোগী উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনের সচিবকে কৃষি কলেজ স্থাপনে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দানের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে এমপি এডভোকেট শেখ মো. নুরুল হক বলেন, প্লানিং কমিশনের প্রতিনিধি দলের স্থিরচিত্রে নির্ধারিত স্থানে জলাধারের বিষয় উঠে আসলে প্রধানমন্ত্রী সেটি বাতিল করে দেন। তবে পরবর্তীতে নির্ধারিত স্থানে কোন জলাধার নেই এ বিষয়টি আমি প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়ে বললে তিনি এটি নির্মাণের জন্য অনুমতি দেন। এরপর থেকে কৃষি কলেজ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ