ঢাকা, মঙ্গলবার 17 July 2018, ২ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেশবপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বেচ্ছাশ্রমে হরিহর নদী খনন শুরু

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা: কেশবপুর শহরের ভয়াবহ জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসন ও মৎস্য ঘের মালিকদের যৌথ উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে হরিহর নদীর খনন কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানূর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এ খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত বছর হরিহর নদের জিরো পয়েন্টসহ আপার ভদ্রা নদীতে পাইলট চ্যানেলে খনন কাজ করা হলেও এ বছর হরিহর নদী ৪ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত পলি পড়ে উচু হয়ে গেছে। যে কারণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। বর্ষা মওসুমে এবার হরিহর নদীর পানি উপচে পড়ে এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য ঘের মালিকদের যৌথ উদ্যোগে হরিহর নদীর মণিরামপুরের সীমান্তবর্তী ছাতিয়ানতলা থেকে ভাটিতে কেশবপুরের শ্রীগঞ্জ ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার নদী স্বেচ্ছাশ্রমে খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানূর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে মণিরামপুরের সীমান্তবর্তী ছাতিয়ানতলা নামক স্থানে স্কাভেটর মেশিন দিয়ে এ খনন কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান, মৎস্য ঘের মালিক সুলতান আহম্মেদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি তপন কুমার ঘোষ মন্টু, জেলা পরিষদের সদস্য হাসান সাদেক, উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ। হরিহর নদী পলিতে ভরাট হওয়ায় গত দু’বছর কেশবপুরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেয়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। বর্ষা মওসুমে নদীর উপচে পড়া পানিতে কেশবপুর পৌরসভা এলাকাসহ নদী অববাহিকার ইউনিয়ন গুলোতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা শুরু হয়। জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের বাড়ি ঘরে পানি উঠে যায়। ৪০ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে যশোর-চুকনগর সড়কের দু’পাশসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয়। মৎস্য ঘের মালিক সুলতান আহম্মেদ বলেন, প্রতিবছর হরিহর নদীর কারণে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় মাছের ঘের ভেসে গিয়ে শত শত কোটি টাকার মাছ ভেসে যায়। যে কারণে ঘের মালিকরা প্রশাসনের সাথে সভা করে যৌথভাবে স্বেচ্ছাশ্রমে হরিহর নদী খননের উদ্যোগ নেয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমান জানান, স্বেচ্ছাশ্রমে নদী খনন কাজ সমাপ্ত হলে চলতি বর্ষা মওসুমে কেশবপুরে জলাবদ্ধতার সম্ভবনা থাকবে না। কেশবপুরের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সরকার হরিহর, আপার ভদ্রা ও বুড়িভদ্রা নদীসহ সাতটি সংযোগ খাল পুনঃখননের জন্য ৪৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা বর্ষা মওসুম শেষে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শরু করা হবে। খনন কাজ সমাপ্ত হলে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ