ঢাকা, মঙ্গলবার 17 July 2018, ২ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

‘নৌকায় ভোট না দিলে কেন্দ্রে যেতে মানা’

শাহনেওয়াজ জিল্লু, কক্সবাজার : কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ও দলীয় লোকজন সাধারণ লোকজনকে 'নৌকায় ভোট না দিলে কেন্দ্রে যেতে নিষেধ' করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ এনেছে বিএনপি। এছাড়াও সরকার দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে আরোও বিভিন্ন অভিযোগ তোলে ধরে সংবাদ সম্মেলনও করেছে তারা। এমনকি আসন্ন কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে কোনো প্রকার অনিয়ম হলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ৪ দিনের হরতাল ডাকার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। শনিবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা বিএনপির কার্যালয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সরকার দলীয় নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী আচরণবিধি লংঘন করে নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। নৌকা প্রতীকের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণায় বাধা প্রদান, ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এতে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়েও শংকা তৈরি হয়েছে। পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড ও ২ নং ওয়ার্ডের ধানের শীষের ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের এই হুমকি দেয়া হচ্ছে। সেখানে নৌকায় ভোট না দিলে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে নিষেধ, বিএনপি প্রার্থীর সম্ভাব্য এজেন্টদের এজেন্ট না থাকতে এবং ভোটের প্রচারণা না করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। স্বয়ং আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুজিবুর রহমান নিজেও হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। শনিবার (১৪ জুলাই) বিএনপি মনোনিত প্রার্থী রফিকুল ইসলামের নির্বাচনী অঙ্গীকার ঘোষণা সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা এই অভিযোগ করেন। সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল জানান, ১ নং ওয়ার্ড ও ২ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের লোকজন বিএনপির ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিচ্ছে। দলীয় নির্বাচন হলেও বিএনপির ভোটারদের নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। ধানের শীষের প্রচারণা চালাতে বাধা প্রদান করা হচ্ছে, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য এজেন্টের এজেন্ট না থাকতে ভয় দেখানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিয়মিত এই ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমনকি ১নং ওয়ার্ডে গিয়ে নৌকার প্রার্থী মুজিবুর রহমান নিজেই যারা নৌকায় ভোট দেবে না তাদেরকে কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেছেন।’
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তও নৌকার পক্ষে বলে অভিযোগ করা হয় এতে। বলা হয়, ২৫ জুলাই পৌরসভার নির্বাচন। এতে বিএনপির প্রার্থীর তিনটি কেন্দ্রে ইবিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের কথা বলা হচ্ছে। একই ওয়ার্ডের তিন কেন্দ্রে ইভিএম চালু না করে তিন ওয়ার্ডের তিন কেন্দ্রে চালুর দাবিও জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে পরিচ্ছন্ন শহর, জলাবদ্ধতাসহ ১৩টি সেবা নিশ্চিত করার ইশতেহার ঘোষণা হয়। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফুর রহমান কাজল, মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্নাসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ