ঢাকা, বুধবার 18 July 2018, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাশিয়ার পক্ষে কথা বলে তীব্র নিন্দার মুখে ট্রাম্প

ফিনন্যান্ডের রাজধানী হেলসিংদিতে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করে ট্রাম্পট ও পুতিন

১৭ জুলাই, বিবিসি : যুক্তরাষ্ট্রের গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ নিয়ে কথা বলায় নিজ দেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ব্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে  এক শীর্ষ বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে ওই মন্তব্যটি করেন ট্রাম্প। 

যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৬-র নির্বাচনে রাশিয়ার প্রভাববিস্তারের অভিযোগ সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছেন, “রাশিয়ার মাথা ঘামানোর কোনো কারণ নেই।” তার এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যের বিপরীত।

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সমর্থনের পাল্লা হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে নেওয়ার একটি উদ্যোগের পেছনে রাশিয়ার ভূমিকা ছিল। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চালানো সাইবার হামলা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভুয়া সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এ কাজ করেছিল তারা। 

ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের শীর্ষ রিপাবলিকান সদস্য হাউস স্পিকার পল রায়ান বলেছেন, “রাশিয়া আমাদের মিত্র নয়, ট্রাম্পকে এটি বিবেচনায় রাখতে হবে।”

রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন ট্রাম্পের এমন মন্তব্যকে ‘অশোভন কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন প্রভাবিত করার অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।

হেলসিংকির প্রেসিডেন্ট প্রসাদের একটি কক্ষে প্রায় দুই ঘন্টা ধরে কথা বলেন বিশ্বের প্রভাবশালী এই দুই নেতা। রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠকের সময় দোভাষী ছাড়া আর কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

বৈঠকের পর এক যৈাথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি তার নিজের গোয়েন্দা সংস্থা না রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে বিশ্বাস করবেন।

উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া এটি করেনি বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। এটি কেন হবে তার কোনো কারণ দেখিনা আমি।”

এ সময় রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল সম্পর্কের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিগত প্রশাসনকে দায়ী করেন ট্রাম্প।  

পরে নিজের অবস্থান থেকে সরে এক টুইটে ট্রাম্প তার নিজের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতি তার ‘গভীর আস্থা আছে’ বলে দাবি করেছেন।

নিজ দেশে তার এই টুইটের কোনো প্রভাব পড়েছে কি না তা পরিষ্কার নয়।  

কঠোর ভাষায় দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পিকার রায়ান বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে কোনো নৈতিক সমতা নেই, দেশটি আমাদের মৌলিক মূল্যবোধ ও আদর্শের প্রতি শত্রুভাবাপন্নই রয়ে গেছে।”

২০১৬-র নির্বাচনে মস্কো প্রভাব বিস্তার করেছিল, এতে ‘কোনো প্রশ্ন’ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।   

যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের আর্মড সার্ভিস কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সিনেটর ম্যাককেইন বলেছেন, “এটি একটি অশোভন কাজ।”

নিজের বিবৃতিতে ম্যাককেইন বলেছেন, “কোনো স্বেচ্ছাচারী শাসকের সামনে নিজেকে এতটা শোচনীয়ভাবে নিচে নামায়নি আগের কোনো প্রেসিডেন্ট।” 

ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছে।

এক টুইটে গ্রাহাম বলেছেন, “২০১৬ সালে হস্তক্ষেপ করার বিষয়ে রাশিয়াকে শক্তভাবে দায়ী করার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল।”

ট্রাম্পের মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতিরক্ষা ও মিত্ররা দুর্বল হয়েছে এবং প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হয়েছে’ বলে এক টুইটে মন্তব্য করেছেন সিনেটের ডেমোক্রেট দলীয় নেতা চাক শুমাখার। 

সিআইএ-র সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলনকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহীতা থেকে কোনো অংশে কম নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এসব সমালোচনা সত্বেও পুতিনের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠককে সমর্থন করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ