ঢাকা, বুধবার 18 July 2018, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

৮ মাসেই খুলনা-কলকাতা রুটে চলাচলকারী ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ লোকসানে

খুলনা অফিস : খুলনা-কলকাতা রুটে চলাচলকারী বন্ধন এক্সপ্রেসে (ট্রেন) যাত্রী বাড়ছে না বরং দিন দিন কমতে শুরু করেছে। ১০টি কোচের এই ট্রেনে ৪৫৬টি আসন থাকলেও যাতায়াত করছেন ১০০ থেকে ১২০ জন । অথচ বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন ৪-৫ হাজার পাসপোর্টযাত্রী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করছেন। ফলে লোকসান গুণতে হচ্ছে বন্ধন কর্তৃপক্ষকে। কারণ হিসেবে জানা গেছে, দু’দেশে ট্রেনটি সম্পর্কে তেমন কোনও প্রচার-প্রচারণা নেই। দু’দেশের নির্দিষ্ট দু’টি স্টেশনে টিকিট বিক্রি করায় যাত্রীদের এর প্রতি অনিহা দেখা দিয়েছে। ২০১৭ সালের ১৭ নবেম্বর খুলনা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’এর বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু হয় । গত ৮ মাসে ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি না পেয়ে দিন দিন কমতে শুরু করেছে। ফলে লোকসানের বোঝা টানতে হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষকে। কলকাতা থেকে সপ্তাহের বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ছেড়ে এসে সাড়ে ১২টায় খুলনায় পৌঁছে ট্রেনটি। আবার খুলনা থেকে ১টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টা ১০মিনিটে কলকাতা পৌঁছে।

রেল কর্তৃপক্ষের পদ্ধতিগত ভুলই যাত্রী স্বল্পতার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন এ রুটে যাতায়াতকারীরা। যশোর ও বেনাপোল রেলস্টেশনে টিকিট বিক্রি না করা, যশোর ও বেনাপোল রেলস্টেশনে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য স্টপেজ না দেয়া, অন্যদিকে সপ্তাহে মাত্র এক দিন এ রুটে ট্রেন চালু রাখা এমন সব কারণ সামনে আসছে যাত্রী কম হওয়ার পেছনে। এছাড়া ভাড়ার পরিমাণ বেশিও যাত্রী স্বল্পতার আর একটি বড় কারণ। মাত্র ১২০ কিলোমিটার রাস্তায় এসি সিটে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ভ্রমণকরসহ দুই হাজার টাকা ও এসি চেয়ারে নেয়া হচ্ছে ভ্রমণকরসহ ১ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে একজন পাসপোর্ট যাত্রীর কলকাতা যেতে ভ্রমণকরসহ খরচ হয় মাত্র ৬০০ টাকা। যশোর নাগরিক কমিটি যশোর রেলস্টেশনে টিকিট বিক্রি ও যাত্রী ওঠানো-নামানোর দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। তাতেও তেমন একটা সাড়া মেলেনি রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। খুলনা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’এর বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৭ নবেম্বর। গত ৮ মাসে ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি না পেয়ে দিন দিন কমতে শুরু করেছে। ফলে লোকসানের বোঝা টানতে হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষকে। ভারতীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত খুলনা ও কলকাতা ছাড়া কোথাও স্টপেজ বা টিকিট বিক্রি করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন রেল স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হলে অন্যান্য স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা ও টিকিট বিক্রির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এ রুটে চলাচলকারী বাংলাদেশী যাত্রী নাসিমুল হক বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রীদের ভারতে গিয়ে কমপক্ষে দুই রাত অবস্থান বাধ্যতামূলক করায় এবং সপ্তাহে এক দিন ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ ট্রেন চালু থাকায় ট্রেনে করে কেউ আর যাতায়াত করতে চাচ্ছেন না। সপ্তাহে ২-৩ দিন ট্রেন চলাচল ও ভাড়ার পরিমাণ কমালে যাত্রীর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আমি মনে করি।’ বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান বলেন, ‘গত বছরের ১৬ নবেম্বর খুলনা-কলকাতার মধ্যে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি চালু হয়। গত ৮ মাসে ৩ হাজার ৬৯০ জন যাত্রী কলকাতা থেকে বাংলাদেশে এসেছেন এবং বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার ৯০০ জন যাত্রী কলকাতায় গেছেন। নিরাপদে ও সুষ্ঠুভাবে যাত্রী চলাচল করার পরও যাত্রী সংখ্যা দিন দিন কমছে। ট্রেনটি সপ্তাহে ২-৩ দিন চলাচল করলে এবং যশোর ও বেনাপোলের মানুষের জন্য টিকিটি বিক্রি ও স্টপেজ দেয়া হলে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে আমি মনে করি।’ এ ব্যাপারে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, বন্ধন এক্সপ্রেসে যেসব যাত্রী সরাসরি যাতায়াত করেন আমরা তাদের ভালো সার্ভিস দিচ্ছি। আপাতত যাত্রী সংখ্যা একটু কম। আমরা যত দ্রুত সম্ভব ইমিগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন করি। তবে ট্রেনে খরচ একটু বেশি পড়ে। খুলনাসহ আশপাশের লোকজন ট্রেনে যাতায়াত বেশি করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ