ঢাকা, বুধবার 18 July 2018, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চৌগাছা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সম্পাদকের পিতা-চাচাসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার অভিযোগ

যশোর থেকে সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছায় এবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শাহাজান আলী, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরীর পিতা আবুল কাশেম চৌধুরী এবং চাচা আবুল কালাম চৌধুরীসহ পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার এবং মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। ৬ জুলাই আবেদনটি আমলে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আ ক ম মোজাম্মেল হক জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ডিজিকে শুনানির জন্য নোটিশ দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। সে মোতাবেক আগামী ১৯ জুলাই শুনানীর জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও চৌগাছা কামিল মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফুলসারা গ্রামের শাহাজান আলী ওরফে শাহাজান কবীর, একই গ্রামের জাহাতাব মুন্সীর ছেলে হাইদার আলী, দুর্গাবরকাঠি গ্রামের মৃত আঃ মতিন চৌধুরীর দুই পুত্র আবুল কালাম চৌধুরী ও আবুল কাশেম চৌধুরী। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান অভিযোগ করেছেন মু্িক্তনগর গ্রামের নূর আলীর পুত্র নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে শাহাজান কবীর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ বা প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে যাননি। মুক্তিযুদ্ধের নয়মাস তিনি উপজেলার মির্জাপুর, কান্দি গ্রামে ও মর্জাদ বাওড়ের পার্শ্বে বিভিন্ন গ্রামে পালিয়ে থাকতেন। এ যাবৎ তিনি কোন যাচাই-বাছাই বোর্ডে উপস্থিত হতে সাহস পাননি। তার নিকটাত্মীয় সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু জাফরের সহযোগিতায় তিনি লাল মুক্তিবার্তায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আবুল কালাম চৌধুরী ও আবুল কাশেম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে  ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময় যুদ্ধের নয়মাস তিনি স্ত্রী, পুত্র, মেয়ে নিয়ে দুর্গম এলকা জগহাটি বাওড় এলাকার পাশে সাজিয়ালি ও তীরেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে থেকেছেন। বিভিন্ন সময় যাচাই-বাছাই বোর্ডে উপস্থিত হতে সাহস পাননি। সর্বশেষ তিনি সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (ভুয়া যুদ্ধাহত প্রমাণিত হওয়ায় যুদ্ধাহত ভাতা বন্ধ হওয়া) এলাকায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরির কারিগর শওকত আলী ও সাবেক কমান্ডার ডা. নূর হোসেনের সহায়তায় বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। হাইদার আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তিনি নিজে এখনো বলেন আমি মুক্তিযোদ্ধা নই। সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু জাফর আমার গ্রামের লোক তিনি আমাকে মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করেছেন। তিনি কখনও মুকিযোদ্ধা হবার জন্য আবেদনও করেন নি। তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ করা হয়েছে তিনি ৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় মুজাহিদ ছিলেন। তিনি কখনও ভারতে যাননি। দেশের মাটিতেও তার কোন ভুমিকা ছিলনা। আর নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তিনি সরকারি চাকরি করার সময়ে প্রভাব খাটিয়ে অর্থের বিনিময়ে লাল মুক্তিবার্তায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য কখনও ভারতে যাননি বা দেশের অভ্যন্তরে কোন ভূমিকা রাখেন নি। তার কোন সহযোদ্ধাও নেই।

এদের মধ্যে আবুল কাশেম চৌধুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরীর পিতা। আবুল কালাম চৌধুরী মাসুদ চৌধুরীর চাচা। তাছাড়া এসব ব্যক্তি স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির গ্রুপের নেতাকর্মী। এসব বিষয়ে অভিযোগকারী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, এরা মুক্তিযুদ্ধ করেন নি বা প্রশিক্ষণও নেন নি। আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধ করে এলাকায় ফিরে আসি তখন তারা আমাদের পিছনে ঘুরতে থাকে। পরে অর্থের বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ