ঢাকা, বুধবার 18 July 2018, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়াকে চিরতরে সরিয়ে দিতেই তার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার: দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দুরভীসন্ধিমূলক এক গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, লোক মুখে যে কথা প্রচারিত তাই সত্য হচ্ছে, রাজনীতি থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে চিরতরে সরিয়ে দেয়ার জন্যই তার জীবনকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। তার চিকিৎসা নিয়ে সরকার জাতির সাথে তামাশা করছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন।
বর্তমান সরকারের মন্ত্রীদের ন্যূনতম শিষ্টাচার নেই মন্তব্য করে রুহুল কবীর রিজভী বলেন, আমরা বলার সময় নামের আগে পদবী ব্যবহার করে শেখ হাসিনা বলি। কিন্তু সরকারের মন্ত্রীরা বিশেষ করে তথ্যমন্ত্রী যেভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে কথা বলেন তাতে ন্যূনতম শিষ্টাচার আছে বলে মনে হয় না।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া  গুরুতর অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তাকে কেন ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে না ঢাকা রির্পোর্টার্স ইউনিটির এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন- বেগম খালেদা জিয়া নতুন কোন রোগে আক্রান্ত হননি, তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আর সরকারি ব্যবস্থাপনার বাইরে বেগম জিয়াকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়।
এর জবাবে রিজভী বলেন, আমাদের কথাই সত্যি হলো তারা বিএনপি চেয়ারপার্সনকে নিয়ে দুরভীসন্ধিমূলক এক গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। লোক মুখে যে কথা প্রচারিত তাই সত্য হচ্ছে, রাজনীতি থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে চিরতরে সরিয়ে দেয়ার জন্যই তার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। দেশের স্বাধীনতার ঘোষকের সহধর্মিনী তিনবারের প্রধানমন্ত্রী জননন্দিত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে চরম অবনতির দিকে ঠেলে দিতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার সরকার এক নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে। কোন ব্যবস্থাপনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারাবন্দী থাকা অবস্থায় স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন, কোন ব্যবস্থাপনায় অন্যান্য আওয়ামী সিনিয়র নেতাদের চিকিৎসা হয়েছিল রাজধানীর ল্যাবএইড বা বারডেমে। সুতরাং বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দিয়ে তিলে তিলে নি:শেষ করে দেয়াই যে সরকারের উদ্দেশ্য তা আবারও সুষ্পস্ট হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন দেশে কোন বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ও গুমের ঘটনা ঘটছে না। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে অথবা দুটি মনের মিলনে উড়াল দিচ্ছে আর বলা হচ্ছে গুম। রিজভী বলেন, জবাবদিহিহীন ভোটারবিহীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই কেবল এই ধরণের উদ্ভট, ভারসাম্যহীন, অসত্য কথা বলে নির্যাতিত নিপীড়িত জনগণের সাথে এমন নিষ্ঠুর রসিকতা করতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ রাখতে এমন বানোয়াট ও অসত্য বক্তব্য প্রদান ছাড়া তার কোন উপায় নেই। প্রতিদিন বিচার বর্হিভুত হত্যার হিড়িক চলছে। গুম করা হচ্ছে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষকে। দু:সময়ের আতঙ্কজনক কালো রাত সৃষ্টি করে এই সরকার সারাদেশকে নরমুন্ডের পাহাড় বানাতে চাচ্ছে। তাই রক্তপিপাসু প্রাণীর যেমন বিবেক থাকেনা তেমনি বিবেকহীন বর্তমান সরকার।
 দেশে গণতন্ত্র আছে বলেই বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি প্রেস কনফারেন্স করতে পারে, আর প্রধানমন্ত্রীকে সমালোচনা করে বক্তব্য দিতে পারে। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যেও জবাবে রিজভী বলেন,আওয়ামী নেতারা মূঢ় অহংকারের কারণে বিস্মৃতপ্রবণ। আওয়ামী নেতারা কী ভুলে গেছেন সরকারের সমালোচনা করার কারণে গভীর রাতে দলীয় কার্যালয় ভেঙ্গে তছনছ করে গ্রেফতারের কথা, ভুলে গেছেন ২০১৩ সালে পুলিশ ঢুকিয়ে সারা কার্যালয় তছনছ করে বিএনপি মহাসচিব ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ ১৫৪ জন বিএনপি নেতাকর্মীদের আটক করে নিয়ে যাবার কথা। তাহলে তখন কি আপনাদের তথাকথিত গণতন্ত্র ছিল না ? কয়েকদিন আগে একতরফা জাতীয় সংসদের ভেতরে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে যে উদ্ভট, অলীক, অসংসদীয়, অশ্রাব্য কুটূবাক্য প্রধানমন্ত্রী ব্যবহার করেছেন সেটি কোন গণতান্ত্রিক রীতিতে পড়ে ? বিএনপিসহ বিরোধী দলের সভা-সমাবেশের অনুমতি না দেয়া কোন গণতান্ত্রিক রীতিতে পড়ে ? বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলা, নির্যাতন-নিপীড়ণ কোন গণতান্ত্রিক রীতি ? বন্দুকের জোরে দেশের প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করে দেশ থেকে বিতাড়ন কোন গণতান্ত্রিক রীতিতে পড়ে ? মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করা কোন গণতান্ত্রিক রীতি ? ধমক দিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা কোন গণতান্ত্রিক রীতি ? আমি আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক সাহেবকে অনুরোধ করবো-নিজেরা আয়নায় ভাল করে নিজেদের চেহারাটা দেখুন।
সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা তান্ডব চালাচ্ছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেখানে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসী তান্ডব চরম আকার ধারণ করেছে। মঙ্গলবার নগরীর সাগরপাড়ায় জেলা ছাত্রদলের গণসংযোগ কর্মসূচি বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু উদ্বোধন কালে আওয়ামী দষ্কৃতিকারিরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সন্ত্রাসীদের দ্বারা নিক্ষিপ্ত ককটেল বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপি কর্মী স্বপন কর্মকার, বাংলাভিশনের ব্যুরো প্রধান পরিতোষ চৌধুরী আদিত্যসহ কয়েকজন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছিলেন যে, তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন খুলনা ও গাজীপুরের মতো হবে। এখন তার বক্তব্যের সেই আলামত ফুটে উঠতে শুরু করেছে। রাজশাহীতে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় ককটেল হামলা নির্বাচনী নতুন মডেলের আরেকটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। আতঙ্কিত পরিবেশ তৈরী করে ভোটারশুন্য নির্বাচন করতেই এই হামলা। ভোটার’রা জানেন না, আওয়ামী লীগ সামনের দিনগুলোতে আরও কী পরিস্থিতি তৈরী করে। আমি দলের পক্ষ থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের এই ন্যাক্কারজনক ককটেল হামলার তীব্র ধিক্কার, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে দুস্কৃতিকারিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি করছি। আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।
বিএনপির চেয়ারপার্সনের সুচিকিৎসা নিশ্চিত ও তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামী ২০ জুলাই পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশের প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, দলীয় কার্যালয় অথবা জাতীয় প্রেস ক্লাববের সামনে -যেখানেই অনুমতি দেয়া হোক সেখানেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ দফতর সম্পাদক বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ