ঢাকা, বুধবার 18 July 2018, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্বর্ণ নিয়ে ভূতুরে কাণ্ড নয় কারণিক ভুল -কেন্দ্রীয় ব্যাংক

স্টাফ রিপোর্টার : স্বর্ণের মান পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ কোটি টাকায় যে মেশিন কিনেছে তা ব্যাপক ত্রুটিপূর্ণ বলে দাবি করেছেন কর্মকর্তারা। এ সময় তারা জানান, একটি প্রথম সারির দৈনিক বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট নিয়ে যে সংবাদ পরিবেশন করেছে তা করণিক ভুলের ওপর নির্ভর করে লেখা হয়েছে। আসলে এটি কোন ভূতুরে কাণ্ড নয়।
গতকাল মঙ্গলবার ভল্ট থেকে স্বর্ণ চুরির বিষয়ে ডাকা জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. রবিউল হুসাইন বলেন, ভল্টে রাখার আগে স্বর্ণের মান পরীক্ষার জন্য বিদেশ থেকে ৪ কোটি টাকায় মেশিন কেনা হয়েছে। কিন্তু সেই মেশিনে পিতল দিলেও স্বর্ণ দেখায়।
এ বিষয়টি পরিষ্কার করতে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।  সেখানে ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে সোনা কেলেঙ্কারির অভিযোগ সত্য নয়। এখানে একটি ক্ল্যারিকাল মিসটেক হয়েছে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদন বলছে, ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট কাস্টম হাউসের গুদাম কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ গোলাকার কালো প্রলেপযুক্ত একটি সোনার চাকতি এবং একটি কালো প্রলেপযুক্ত সোনার রিং বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ওই চাকতি এবং আংটি যথাযথ ব্যক্তি দিয়ে পরীক্ষা করে ৮০ শতাংশ (১৯ দশমিক ২ ক্যারেট) বিশুদ্ধ সোনা হিসেবে গ্রহণ করে প্রত্যয়নপত্র দেয়। কিন্তু দুই বছর পর পরিদর্শন দল ওই চাকতি ও আংটি পরীক্ষা করে তাতে ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ (১১ দশমিক ২ ক্যারেট) সোনা পায়। আংটিতে পায় ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ সোনা (৩ দশমিক ৬৩ ক্যারেট)। ধারণা করা হচ্ছে ভল্টে রাখার পর এগুলো পাল্টে ফেলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলছে, ভল্টে থাকা সোনার চাকতি এবং আংটি পরীক্ষার পর দেখা গেল এগুলো সোনার নয়, অন্য ধাতুর মিশ্রণে তৈরি। এতে সরকারের ১ কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকে সোনা উধাওয়ের বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দার এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ওই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, এটা করণিক ভুল। যখন শুল্ক গোয়েন্দা থেকে স্বর্ণ নেয়া হয়, তখন তাদেরকে বলা হয় ৪০। এটি ইংরেজিতে লেখার সময় বাংলা ৪০কে ইংরেজিতে ৮০ (৮০) লিখে ফেলা হয় এবং এতেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
রবিউল জানান, শুল্ক গোয়েন্দা থেকে স্বর্ণ নিয়ে আসার পর যখন আবার মাপা হয়, তখন সেখানে ৪৬ শতাংশ স্বর্ণ পাওয়া যায়।
প্রথমবার আগের ৪০ পাওয়া গেলে, দ্বিতীয়বার কীভাবে ৪৬ শতাংশ হয়- জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা বলেন, এটা এনালগ পদ্ধতিতে মাপা হয়, অনেক সময় ভেরি করে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দৈনিক প্রথম আলো মঙ্গলবার  প্রধান প্রতিবেদন প্রকাশ করে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভূতুড়ে কাণ্ড’ শিরোনামে।
এতে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট কাস্টমস হাউসের গুদাম কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ গোলাকার কালো প্রলেপযুক্ত একটি সোনার চাকতি এবং একটি কালো প্রলেপযুক্ত সোনার রিং বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ওই চাকতি এবং আংটি যথাযথ ব্যক্তি দিয়ে পরীক্ষা করে ৮০ শতাংশ (১৯ দশমিক ২ ক্যারেট) বিশুদ্ধ সোনা হিসেবে গ্রহণ করে প্রত্যয়নপত্র দেয়।
কিন্তু দুই বছর পর পরিদর্শন দল ওই চাকতি ও আংটি পরীক্ষা করে তাতে ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ (১১ দশমিক ২ ক্যারেট) সোনা পায়। আংটিতে পায় ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ সোনা (৩ দশমিক ৬৩ ক্যারেট)। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, ধারণা করা হচ্ছে ভল্টে রাখার পর এগুলো পাল্টে ফেলা হয়েছে। এতে সরকারের ১ কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
এদিকে সোনা কেলেঙ্কারির এমন সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক নেতারাও বক্তব্য দিতে শুরু করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ