ঢাকা, বুধবার 18 July 2018, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ব্যাংকগুলোতেও কোনো নিরাপত্তা নেই -খন্দকার মোশাররফ

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ উইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং সরকারের নীলনকশা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকারের দু:শাসনের কারণে দেশের মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দেশের কোনো জায়গা এখন আর নিরাপদ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা সোনার চাকতি এখন ভূতুড়েভাবে মিশ্র ধাতুতে পরিণত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে ভুতুড়ে কাণ্ড এবং রিজার্ভ চুরির বিচার চায় বিএনপি। এসবের বিচার না হলে একদিন সবাইকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং সরকারের নীলনকশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। সংগঠনের উপদেষ্টা কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে এবং সভাপতি সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, সাবেক সংসদ সদস্য আহসান হাবিব লিঙ্কন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকে একটি পত্রিকায় দেখলাম,  বাংলাদেশে ব্যাংকের ভল্টে ভুতুড়ে কাণ্ড। সেখানে কী ঘটেছে? ৯৬৩ কেজি সোনা ব্যাংকের ভল্টে জমা রাখা ছিল। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, সোনার চাকতি হয়ে গেছে মিশ্র ধাতু। ২২ ক্যারেটের সোনা হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট। গত ২৫ জানুয়ারি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুল্ক গোয়েন্দা ও এনবিআর বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার নিশ্চুপ। এই বাংলাদেশে রিজার্ভ লুট হয়েছে, এই টাকার কিছু অন্য দেশে গেছে। সেই দেশ তাদের বিচার করেছে। এ দেশে এ নিয়ে যে তদন্ত করা হয়েছে কিন্তু তার রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, রিজার্ভের সঙ্গে ব্যাংকের কর্মকর্তা ও সরকারের ওপরের মহলের লোকজন জড়িত নন, এটা কেউ বিশ্বাস করবে না। যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বলেছে, এ রিজার্ভ চুরির সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকজন জড়িত। এ জন্য এখানে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি, বিচার হয়নি। এই স্বাধীন দেশে মানুষের যেমন নিরাপত্তা নেই, তেমনি ব্যাংকগুলোতেও কোনো নিরাপত্তা নেই। এগুলো ন্যক্কারজনক।
সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি। রিজার্ভ চুরির মতো ভল্টের কর্মকা- ধামাচাপা দেওয়া হলে একদিন জনগণের কাছে সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মোশাররফ বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন প্রশাসন দিয়ে মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকারকে ক্ষুণœ করেছে। সেই ভোট ডাকাতিতে সহযোগিতা করছে নির্বাচন কমিশন। কাজেই ভবিষ্যতে এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এটা বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। অতএব এই কমিশনের অধীনে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো বিরোধী দলকে বাইরে রেখে জনগণের ভোট ছাড়া পাতানো খেলা খেলে গায়ের জোরে ‘স্বৈরাচার’ সরকার গঠনের ষড়যন্ত্র করছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আওয়ামী লীগের নেতা আখ্যায়িত করে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, এ নির্বাচন কমিশন গঠনের শুরু থেকে সরকারের গলদ রয়েছে। গঠনের সময় লোক দেখানো আলোচনা করে তারা তাদের পরীক্ষিত লোকদের এখানে স্থান করে দিয়েছে। বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জনতার মঞ্চের নেতৃত্ব দিয়েছেন। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের একজন নেতাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) যে কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা করেছেন প্রত্যেকটি জায়গায় জনগণের পাশে না থেকে সরকারের আজ্ঞাবাহী হয়ে কাজ করে তাদের ভোট ডাকাতিতে সহযোগিতা করেছেন।
জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ভবিষ্যতে জনগণ যেন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, এমন নির্বাচন আদায় করে নিতে হবে। দেশ ‘স্বৈরাচারমুক্ত’ না হলে এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কোনো ‘স্বৈরাচার’ ইচ্ছে করে ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে এই ‘স্বৈরাচার’ সরকারের পতন ঘটিয়েই জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।
কোটা সংস্কার নিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছেন। সংসদে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন কোনো কোটাই থাকবে না। সরকার কতটা ভিতু? ছাত্রদের ন্যায্য দাবিকে দাবিয়ে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘প্রতারণা’ করলেন। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, শুধু মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধীদের কোটা থাকতে পারে। সরকার এতটাই ভীতু যে, ছাত্রদের ন্যায্য দাবি দাবিয়ে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী সংসদে প্রতারণা করলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ