ঢাকা, বুধবার 18 July 2018, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিমান বন্দরের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা

দেশের প্রধান এবং সবচেয়ে বড় বিমান বন্দর হলেও হজ্বরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের আগুন নেভানোর জন্য নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা নেই। ফায়ার সার্ভিসের কোনো সাব-স্টেশনও নেই। সে কারণে কখনো অগ্নিকান্ড ঘটলে উত্তরা এবং টঙ্গীসহ আশপাশের ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিয়ে আনতে হয়। কিন্তু রাস্তার যানজটের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলোর পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে তো বটেই, স্বল্প সময়ের মধ্যেও বিমান বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। অন্যদিকে যেখানে আগুন লাগে সেখানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে যাত্রী ও কর্মচারীসহ মানুষের মধ্যে ভীতি-আতংক ছড়িয়ে পড়ে এবং বন্ধ হয়ে যায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের বিমান চলাচল।
গতকাল দৈনিক সংগ্রামের এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, গত বছরের ১১ আগস্ট এক নাম্বার টার্মিনাল ভবনে অবস্থিত ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের অফিসে সংঘটিত এ ধরনের এক অগ্নিকান্ডে দু’ ঘণ্টারও বেশি সময় বিমান চলাচলসহ বিমান বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ফলে বিশেষ করে হজ্বযাত্রীদের যাত্রা বিঘিœত হয়েছে। তাছাড়া ভারতীয় সংস্থাটির শুধু নয়, বিমান বন্দর তথা সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষেরও বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু মাত্র সেদিনের এই দুর্ঘটনার পরও হজ্বরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে আগুন নেভানোর জন্য প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। এর ফলে একদিকে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানিসহ ক্ষয়ক্ষতির আশংকা বেড়ে চলেছে, অন্যদিকে বিদেশে বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণা ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে। বিদেশিরা বাংলাদেশের প্রধান বিমান বন্দরটিকে মোটেও নিরাপদ মনে করতে পারছে না। সে কারণে বিদেশিদের যাতায়াত তো কমেছেই, বহু দেশের বিমান সংস্থাও বাংলাদেশকে এড়িয়ে চলছে। এসব সংস্থার কোনো বিমানই বাংলাদেশে আসছে না।
দৈনিক সংগ্রামের ওই রিপোর্টে বিমান বন্দরের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে বলা হয়েছে, গত রোববার অর্থাৎ ১৫ জুলাই সন্ধ্যায়ও টার্মিনাল-২-এ অবস্থিত ইমিগ্রেশনের একটি অফিসে আগুন লেগে যায়। এবারের কারণ ছিল বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট। ফায়ার সার্ভিস এবং বিমান বন্দরের কর্মচারীদের চেষ্টায় স্বল্প সময়ের মধ্যে আগুন নেভানো সম্ভব হলেও এ অগ্নিকান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে আরো একবার হজ্বরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সম্পর্কিত আলোচনা শুরু হয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে। তথ্যাভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিভিন্ন দেশের সাধারণ বিমান বন্দরগুলোতে যে ধরনের নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকে তারও কিছুই নেই এখানে। আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার স্প্রিংকলার সিস্টেম, ফায়ার ওয়াটার পাম্প সিস্টেমের মতো অত্যাধুনিক ব্যবস্থা তো নেই-ই, দেশের প্রধান এ বিমান বন্দরটিতে এমনকি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনও নেই। একইভাবে রেস্তোরাঁগুলোতেও নেই আগুন নেভানোর কোনো ব্যবস্থা।
এমন বাস্তব অবস্থার কারণে করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিমান বন্দরের অভ্যন্তরে অবশ্যই একটি স্থায়ী ফায়ার স্টেশন স্থাপন করতে হবে। সে স্টেশনে সকল আধুনিক যন্ত্র ও প্রযুক্তিসহ অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। বিমানবন্দরের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর তো বটেই, বিমানবন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থায় কর্মরত সকলকেও আগুন নেভানোর এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এসব হতে হবে বাধ্যতামূলক। রেস্তোরাঁগুলোকে নিতে হবে ফায়ার লাইসেন্স। বিমানবন্দরের মূল ভবন, কার্গো ভিলেজ ও অভ্যন্তরীণ টার্মিনালসহ সমগ্র বিমান বন্দরকেই ফায়ার ডিটেকশনের আওতায় আনার জন্যও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে ছোট-বড় যে কোনো স্থানে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই জানা যাবে এবং বিমানবন্দরের ভেতরেই ফায়ার স্টেশন থাকায় অগ্নি নির্বাপণের ব্যবস্থা নেয়া যাবে তাৎক্ষণিকভাবে।
আমরা মনে করি, বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নিরাপত্তার ব্যাপারে সরকারের উচিত অনতিবিলম্বে তৎপর হয়ে ওঠা। বিশেষজ্ঞদের দেয়া পরামর্শের পাশাপাশি আরো বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনে বিশেষ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। কিন্তু যে কোনো মূল্যে হজ্বরত শাহ জালাল বিমান বন্দরের নিরাপত্তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। সেখানে যেন আর কোনো অগ্নিকান্ড ঘটতে না পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাতে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ