ঢাকা, বুধবার 18 July 2018, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মাদক সেবনকারীরা এখন ওষুধের দোকানে

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় লাইসেন্স ও লাইসেন্সবিহীন অর্ধশতাধিক ওষুদের দোকানে প্রকাশে pentadol ও tapenta 50ml বিক্রয় করছে। ফেনসিডিল-ইয়াবা-হিরোইনের নেশা খোররা pentadol ও tapenta 50ml কিনতে ওষুধের দোকানগুলোতে ভীড় করছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানোর জন্য কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
লাল বড়ি ৪০ টাকা, সাদা বড়ি ৩০ টাকা। ওষুদের দোকানদার আমাকে প্রথমদিকে বলেছিল প্রতিদিন এই দুইটা বড়ি দুইটা করে খাও আর ফেনসিডিল-ইয়াবা-হিরোইন খাওয়া লাগবে না। আমি প্রথম একমাসে প্রতিদিন ২-৪ করে খেয়েছি, এখন আর ১০টাতেও আর কাজ হয়না। আমার মাথায়ও আর ঠিকঠাক কাজ করেনা। ভাই, আমি মনে হয় পাগল হয়ে যাব...... এমনই সব কথা বলছিলেন গত তিন বছর ধরে ইয়াবা-হিরোইন সেবনকারী  আসলাম। ফার্মেসী প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ দেয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আসলাম জানায়, ব্যবসা ভাই, ব্যবসা।
 ওষুদের দোকানগুলোতে শত শত আমাদের মত প্রেসক্রিপশন বিহিন কাষ্টমারের কাছে ১০ টাকার জিনিস ৩০ টাকায়, ২০ টাকার জিনিস ৪০ টাকায় বিক্রয় করে। ফার্মেসী থেকে pentadol ও tapenta 50ml  নামের ২০ টি ওষুধ কিনতে দেখা যায় রুবেল নামের আরেকজন ইয়াবা মাদক সেবনকারীকে। ওষুধ দুইটি সম্পর্কে রুবেল জানায়, প্রথমদিকে ওরা আমার কাছ থেকে ওষুধ দুইটির দাম নিতো ৫০ টাকা করে।
এখন প্রতিদিন অনেকগুলো করে ক্রয় করিতো তাই আমার কাছে দাম কম নেয়। প্রতিদিন কয়টা ওষুধ কেনা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে রুবেল জানায়, আমি অটোভ্যান চালাইতো তাই আমার গ্রামের অন্তত ২০ জনেরও বেশি আমার কাছে ওষুধ দুইটি কিনতে দেয়।
আমি প্রতিদিন ২০০টির বেশি ওষুধ ক্রয় করি। মানবদেহে ওষুধ দুইটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়িয়া সূর্যের হাসি কমিউনিটি ক্লিনিকের ডাক্তার এনামুল হক জানান, Pentadol 50ml এবং Tapenta 50ml ওষুধ দুইটি মূলত Tapentadol গ্রুপের ওষুধ যার বাজার মূল্যে ১২টাকা এবং ২২ টাকা করে। তিনি আরও বলেন, আমরা ওষুধ দুইটি কোনো রুগি গুরুতর জখম হলে দিনে দুইটা করে সর্বোচ্চ সাত দিন দিয়ে থাকি। কোন ব্যক্তি যদি এই পরিমাণ ওষুধ অনেক দিন ধরে ব্যবহার করে তার কিডনি, লিভারসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
এমনকি ব্রেন স্টক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বহুগুনে। রিপন হোসেন জানান, আমাদের বাজার গলিতে আগের থেকে মাদক সেবনকারীদের সংখ্যা বেড়েছে বহু গুনে। আমি ভেড়ামারা বণিক সমিতির কাছেও আমার মৌখিক অভিযোগ দিয়েছি। এই সম্পর্কে ভেড়ামারা বণিক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক  বাবুল আক্তার বলেন, আমি সনোর সামনের দোকান দুইটির বিরুদ্ধে উক্ত অভিযোগ পেয়েছি।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে আমি নিজেই এর সত্যতাও প্রমাণ করেছি। সকল ব্যবসায়ীকেই সৎভাবে তার ব্যবসা করা উচিত। এই সম্পর্কে উপজেলা হেল্থ্ এন্ড ফ্যামেলি প্লানিং অফিসার (UHFPO)  রকিউর রহমান জানান, প্রেসক্রিপশন বিহিন ওষুধ বিক্রয় করা অবশ্যই আইনবিরোধী। আমরা উক্ত বিষয়টি হাতে-নাতে না ধরতে পারায় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি। তবে সকলের সহযোগিতা পেলে আমি উপজেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে অসাধু ফার্মেসীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। ভেড়ামারা ধরমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাবুল আলম লালু, বলেন, ধরমপুর ইউনিয়নের প্রায় ওষুদের দোকানগুলোতে pentadol ও tapenta 50ml প্রকাশ্যে বিক্রয় হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ বলেন, শীঘ্রই ওষুদের দোকানগুলোতে অভিযান চালানো হবে। প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ