ঢাকা, বুধবার 18 July 2018, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় স্কুল সময়ে অস্বাস্থ্যকর খাবারে ঝুঁকছে শিক্ষার্থীরা

খুলনা অফিস : খুলনায় স্কুল সময়ে অস্বাস্থ্যকর খাবারে ঝুঁকছে শিক্ষার্থীরা। স্কুল সময়ে স্কুলের গেটে কিংবা অভ্যন্তরে অবস্থান করে এ সব খাবারের বিক্রেতারা। খোলামেলা পরিবেশে বিক্রি করা হয় এসব খাদ্য। কর্মকর্তারা বলেছেন, স্কুল সময়ে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ।
জানা গেছে, খুলনা জেলায় ১১৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ মিড ডে মিল চালু করা হয়েছে এ মর্মে রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু স্কুলগুলোতে বাস্তবতা ভিন্ন। ক্লাস শুরুর সময় থেকেই স্কুলের গেটে কিংবা অভ্যন্তরে থাকে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রেতারা। কমতি থাকে না তাদের বিক্রিও। তাদের একমাত্র ক্রেতা সংশ্লিষ্ট স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। আর কোথাও কোথাও রয়েছে অপেক্ষারত অভিভাবকরা। ক্লাসের ফাঁকে সুযোগ পেলেই শিক্ষার্থীরা চলে যায় ওই খাবার খেতে। কেউ যেন খেয়াল রাখে না তাদের। আর মিড ডে মিলের সময়েও থাকে না তেমন কোনো বাধ্যবাধকতা। শিক্ষার্থীরা যার যার মতো করে চলে। তবে কোনো কোনো শিক্ষার্থী নিয়ম মেনে চলেন।
সরেজমিন নগরীর পিটিআই (প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুলনা জিলা স্কুল, সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মেহমানে আলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিদ্যালয়ের সামনে ও অভ্যন্তরে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি করতে দেখা যায়। কোনো শিক্ষার্থী ফুচকা, কেউ আচার, কেউ চটপটি, কেউ অন্যান্য খাবার খেয়ে থাকে। এ খাবারে শিক্ষার্থীরা স্বাদ পেলেও খোলামেলা পরিবেশে বিক্রিত এ খাবারগুলো মূলত অস্বাস্থ্যকর।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ কোয়ার্টার্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আল আমিন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, তিনি বাসা থেকে মাঝেমধ্যে টাকা আনেন। যা দিয়ে বাইরে থেকে খাবার খান। খুলনা জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী মাহিম হোসেন বলেন, বাইরের খাবার অনেক সুস্বাদু। তাই বাসা থেকে টাকা নিয়ে স্কুলে এসে খান। কেউ কিছু বলেন না। নগরীর সিটি গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহ মো. জিয়াউর রহমান স্বাধীন বলেন, বাইরের জাঙ্ক ফুড খেলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ক্ষতি হয়। সকলের সচেতনতার মাধ্যমে এ সকল খাবার থেকে শিক্ষার্থীরা দূরে থাকতে পারে।
বাংলাদেশ স্টাফ কোয়ার্টার্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নারগিস আক্তার বলেন, কিছু শিক্ষার্থী বাসা থেকে টাকা এনে বাইরের খাবার খায়। তাদের কিছু করার থাকে না। বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি মহানগরী সভাপতি সৈয়দ আনিছুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বাসা থেকে খাবার না এনে টাকা আনে। সেই টাকা দিয়ে বাইরের খাবার খায়।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের খাবার সম্পূর্ণ আনহাইজিনিক (অস্বাস্থ্যকর)। শিশুদের এ ধরনের খাবার থেকে বিরত রাখতে হবে। অন্যথায় ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমেন্দ্র নাথ পোদ্দার বলেন, জেলার সকল স্কুলে শতভাগ মিড ডে মিল চালু রয়েছে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের বাইরের খাবার খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। এ বিষয়ে শিক্ষকদেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ