ঢাকা, বুধবার 18 July 2018, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আবর্জনা সাফ করে পুরস্কৃত কুকুর

আচ্ছা ধরুন, যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় আপনি সমাজের উন্নতির জন্য কী কী করেছেন, তাহলে আপনাকে বেশ খানিককক্ষণ সময় নিয়ে ভাবতে হবে। তবে ওরসেস্টার শহরের ডেইজির গল্পটা সবদিক থেকে আলাদা। এই ডেইজি কিন্তু মানুষ নয়, সারমেয়। কিন্তু ইতিমধ্যেই প্রায় হাজার পাঁচেক পরিত্যক্ত আবর্জনা পরিস্কার করে চলে এসেছে খবরের শিরোনামে। এবং ওরসেস্টার শহরে সেই প্রথম কুকুর যে মেয়রের সিলেমোহর দেওয়া পদক পেয়েছে তার ভালো কাজের জন্য। নয় বছরের ডেইজির কাজই হল, গন্ধশুঁকে কোনও খারাপ জিনিস যেমন পরিত্যক্ত বিয়ারের ক্যান, কফি খাওয়ার পর ফেলে দেওয়া কাপ, প্লাস্টিকের বোতল ইত্যাদি পার্ক, রাস্তার চারপাশ, খালের ধার বা লেকের চারপাশ কিংবা নালার ধার থেকে তুলে তুলে আনা।
কোথাও কোনও পশুর সন্তান প্রসবের পর সেই স্থানে যেসব আবর্জনা পড়ে থাকে, সেগুলোকেও মুখে করে বাড়ি নিয়ে আসে ডেইজি। যেসব প্লাস্টিক ডেইজি নিয়ে আসে, সেগুলিকে তার মালিক জুডি ওয়েন (৭০) নিয়ে বাড়ির পিছনের বাগানে ফেলে দেন আর পুর্নবীকরণযোগ্য জিনিসগুলোকে পুনরায় ব্যবহারের জন্য শোধন করা হয়। ডেইজি প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুটি করে পরিত্যক্ত জিনিস নিয়ে আসে ও জুডির হিসাবে এভাবে গত কয়েক বছরে প্রায় হাজার পাঁচেক সে সংগ্রহ করেছে। জুডির বক্তব্য, ‘ডেইজির এই কাজের মাধ্যমে সে বুঝতে পেরেছে সে কতটা বিশেষ। সেজন্যই পুরস্কারটা তার প্রাপ্যই ছিল। ডেইজির মাত্র এক বছর বয়সে সে ভাঙা ইটপাথর, বর্জ্য, আবর্জনা আনতে শুরু করেছিল। আমি ভেবেছিলাম আচমকাই ও ওগুলো দেখতে পেয়ে নিয়ে এসেছে। তারপর দেখলাম ও বিয়ার ক্যান, কফি কাপ, প্লাস্টিকের বোতলসহ একের পর এক বর্জ্যবস্তু নিয়ে আসছে। কেন জানি না বর্জ্য বস্তুর উপর ওর একটা আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। ও হয়তো ভাবে ওগুলো মূল্যবান সম্পদ।’ প্রতিদিন সকাল-বিকেল দুবেলা জুডি ডেইজিকে পার্ক, লেকের ধারে ঘুরতে নিয়ে যায় আর মালিকের বাগানের জন্য ডেইজিও অন্তত দুটি করে বর্জ্য বস্তু সংগ্রহ করে। বর্জ্য সংগ্রহ করার জন্য স্থানীয় এলাকায় ডেইজির বেশ নামডাকও হয়েছে। ওরসেস্টারের মেয়র কাউন্সেলর জাব্বা রিয়াজের সঙ্গে জুডি বেশ কয়েকদিন আগে সাক্ষাৎ করেন পুরো ঘটনাটি তাকে জানানোর জন্য। তারপর মেয়র সবটা শুনে পরিবেশ রক্ষায় ডেইজির ভূমিকা দেখে তাকে পুরস্কৃত করে। জুড়ি জানান, ‘মেয়র আমাদের বলেছিরেন ডেইজিকে পুরস্কৃত করা হবে, কেননা পরিবেশ দূষণ রক্ষায় তার যেমন একটা ভূমিকা রয়েছে, তেমনি পরিবেশ সম্পর্কে চারপাশের লোকজনকে সজাগ করতেও সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে, এতবছর ধরে, নিরলসভাবে। সত্যিই আমরা যারপরনাই উচ্ছ্বসিত।’ কিন্তু যাকে ঘিরে এত কিছু সেই ডেইজির আচরণটা কেমন ছিল? পুরস্কার গ্রহণের দিন ডেইজি ভেবেছিল তার সঙ্গে বিশাল বড় একটা কিছু হতে চলেছে। সে বিয়ারের ক্যান মুখে নিয়ে ভেলভেটের চেয়ারের উপর বসেছিল। মাঝে মাঝে হাসছিলও, জানালেন তার মালিক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ