ঢাকা, বুধবার 18 July 2018, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফুলবাড়ীতে ৫৫১ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে শতাধিক ভুয়া

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) থেকে ফিরে মোঃ লাভলু শেখ: মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করার দাবী কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় ৫৫১ জন মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে শতাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়ে ভাতা সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে মর্মে সম্প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় বরাবর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল খালেক, মোঃ আফাছার উদ্দিন, মোঃ গোলাম কিবরীয়া, মোঃ মকবুল হোসেন, মোঃ শাহাজামাল ও মোঃ আঃ ছামাদ নামের প্রকৃত ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন। অভিযোগের কপির বর্ণনা সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধার তৎকালীন কমান্ডার মোঃ মজিবর রহমান দীর্ঘদীন ধরে কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন অবস্থায় সরকারী নিয়মনীতি বহির্ভূত ভাতা প্রদানের নীতিমালা উপেক্ষা করে স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে যাদের আদৌ কোন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রমাণিত কাগজ পত্র নেই তাদেরকে গেজেটভুক্ত করে দীর্ঘদীন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রদান সহ সকল সুবিধাদি প্রদান করে আসছেন। প্রাপ্ত অভিযোগ ও বিভিন্ন কাগজপত্র মুলে জানা যায়, মোঃ হুমায়ুন কবীর, মোঃ কাশেম আলী, মোঃ নাসির উদ্দিন, মোঃ সামসুল হক, আব্দুল হামিদ, মোঃ আব্দুল হক, মোঃ বাবর আলী, মোঃ শওকত আলী, কৈলাশ চন্দ্র রায়, আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মাদ আলী, সবেদ আলী, আব্দুল হামিদ, হাসেন আলী, হোসেন আলী, হোসেন আলী রব্বানী, জামাল উদ্দিন, আব্দুল হাকিম, মোঃ নুরল হক, মোঃ রহিচ উদ্দিন, মোঃ তোফাজ্জুল হোসেন, আব্দুন ছাত্তার, মোঃ আনোয়ার হোসেন, দেবেন্দ্রনাথ রায়, ইউনুছ আলী, জয়নাল আবেদীন, মোঃ আইয়ুব আলী, সুরত জামান, মোঃ আমজাদ উল্লাহ সহ শতাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম উৎকোচের বিনিময়ে তালিকাভুক্ত করে ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে। সাবেক সহকারী কমান্ডার মোঃ আফছার উদ্দিন জানান, ভারতীয় তালিকা, মুক্তিবার্তা নং, গেজেট নম্বর অবশ্যই আবশ্যক, সংশ্লিষ্টরা এসব ছাড়া কীভাবে তালিকাভুক্ত হয়ে সরকারের সুযোগ সুবিধা নিয়ে আসছেন বলে তারা হতবাক। সুত্র জানায়, ১৯৮৯ সালের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৩৮৪ জন, ২০০১ সালের গেজেট তৈরীর সময় কমান্ডার মজিবর রহমান ৪৮৪ জন গেজেট তালিকা চুড়ান্ত করে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলে পাঠান। তৎপর ২০০৫ ইং সালে আবারও যাচাই বাচাই প্রকল্পে ৫০৪ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকাভুক্ত করেন।
২০০৫ ইং সাল থেকে ২০১৭ ইং সাল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা হলো ভাতাভোগী ৪৬০ জন, ভাতা থেকে বহির্ভূত ৯১ জন মোট মু্িক্তযোদ্ধাদের সংখ্যা ৫৫১ জন। এদের মধ্যে শাতাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে তাদের অভিযোগ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ