ঢাকা, বুধবার 18 July 2018, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তাড়াশে টেন্ডার ছাড়াই সামাজিক বনায়নের ৫ সহস্রাধিক গাছ সাবাড়

তাড়াশ : গাছ কাটা হচ্ছে

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: পাবনা সামাজিক বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে।
টেন্ডারের মাধ্যমে ৯ টি লটে ১১২৬ টি গাছ প্রায় ৮ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে ঠিকাদার কেটে নিয়ে যাচ্ছে ছোট-বড় ফলজ, ওষুধি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৫ সহস্রাধিক গাছ যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় এক থেকে সোয়া কোটি টাকা।
এতে সরকার হারাচ্ছে বড় অঙ্কের রাজস্ব। পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয়সহ বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হচ্ছে। এছাড়া অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে গাছ রোপনকারী গরিব-অসহায় শতাধিক পরিবার বঞ্চিত হচ্ছে এর সুফল থেকে।
স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে প্রকৃত গাছ রোপণকারী সেজে সুফলভোগ করার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ তাড়াশ-নিমাইচড়া বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের দু’পাশে নতুন পুরাতন মিলে মেহগনি, রেইন্ট্রি কড়ই, ইউক্যালিপ্ট্যাস, নিম, অর্জুন, ছাতিম, বাবলা, শিশু, আম, কাঁঠাল ও বিভিন্ন ফলজগাছসহ ৫ সহস্রাধিক গাছ রয়েছে।
আর এই গাছগুলো রোপণ ও পরিচর্যা করে বড় করে তুলেছেন বাঁধের দু’পাশে আশ্রিত গরিব-অসহায় মানুষ।
বিদ্যুৎ লাইন সরবরাহের অজুহাতে পাবনা সামাজিক বন বিভাগ ২০১৭ সালের ৭ আগস্ট ৯টি লটে ১১২৬টি গাছ বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করলে ৮টি লট পান সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম এবং একটি লট পান পাবনার চাটমহরের জিন্নাত আলী।
সে মোতাবেক ২১ জুন ঠিকাদার জিন্নাত আলী ৩ নং লটের ১৫১ নং থেকে ৩৭৭ নং পর্যন্ত ২২৬ টি খাড়া গাছ কাটার অনুমতি পান।
কাটার জন্য নির্ধারিত গাছগুলো নিয়ম অনুযায়ী মার্কিং করার কথা থাকলেও কোনো গাছেই মার্কিং করা হয়নি।
এ ব্যাপারে  ঠিকাদার জিন্নাত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিলামে ৮৭ হাজার টাকায় একটি লট কিনেছি। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মোতাবেক গাছ কাটা হয়েছে। কোনো অনিয়ম করা হয়নি।
রায়গঞ্জ রেঞ্জ অফিসার শরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সিডিউল মোতাবেক গাছগুলো কাটা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম করা হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে সামাজিক বন বিভাগের পাবনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যবস্ততার অজুহাত দেখিয়ে মোবাইল সংযোগ কেটে দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ