ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 July 2018, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

টেস্টের পরাজয় ভুলে ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়াতে চাই : মাশরাফি

স্পোর্টস ডেস্ক : ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট সিরিজে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে লজ্জার হারের পর দ্বিতীয় টেস্টেও হেরেছে বড় ব্যাবধানে। তবে বাংলাদেশকে বাজে অবস্থা থেকে জয়ের ধারার ফেরাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গেছেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ পৌঁছে বাংলাদেশ অধিনায়ক ক্রিকবাজকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন। 

মাশরাফি বলেন,স্ত্রীর অসুস্থতা স্বত্তেও দলের সঙ্গে যোগ দেয়াট  কঠিন। তবে আমি দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে খুব ইতিবাচক ছিলাম। আমি দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসতে পারিনি। কারণ তার যে চিকিৎসা চলছিল তা ১৫ তারিখের দিকে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

অসুস্থ স্ত্রীকে রেখে দেশের বাইরে খেলতে আসা অবশ্যই সহজ ছিল না। তবে এর আগেও আমি পরিবারের সদস্যদের অসুস্থতা সত্ত্বেও বাইরে খেলতে এসেছি। আমি এই ব্যাপারগুলোর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। আমি বাস্তবতাটা মেনে নিয়েছি। সেটা যত ব্যথারই হোক কোন ব্যাপার না।

মাশরাফি বলেন আমি ২০০৯ সালে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এসেছিলাম। কিন্তু ইনজুরিতে পড়ে তার কিছুই পূরণ হয়নি। এসব স্মৃতি মনে করা গুরুত্বহীন। দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ হারা প্রসংগ মাশরাফি বলেন  আমি মনে করি, তারা তাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছে। এমনভাবে দল হারলে সকলের মানসিক অবস্থা খুব দুর্বল থাকে এটা সত্য। আমার প্রাথমিক কাজ হচ্ছে দলের সকলকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করা।

 আমরা ওয়ানডে সিরিজে তাদের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে চাই। আমি মনে করি না যে, আমাদের ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ভালো ব্যাট করার সামর্থ নেই। কিন্তু আমাদের সেটা করে দেখাতে হবে।  আমাদের সবকিছু ইতিবাচকভাবে ভাবতে হবে।

এখানকার  উইকেটে রান করতে পারলে ভালো কিছু আশা করা যায়। আর তাই আমাদের দলের টেস্ট হতাশা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। আমাদের অবশ্যই ওয়ানডে সিরিজে বড় প্রত্যাশা আছে। নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে ক্রিকেট খেলার কোন মানে হয়না। এমনকি আমরা হারলেও আমাদের সঠিক পথটা খুঁজে বের করতে হবে।

মাশরাফি বলেন  যারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাজেভাবে হারের মধ্যে ছিল না তাদেরকে নিতে পারলে হয়তো তারা ভালো করতো। কারণ তাদের মধ্যে ওই মানসিক চাপটা ছিল না। এছাড়া ভালো করার একটা তাড়নাও থাকতো তাদের মধ্যে। এটা তো সত্য যে আপনি যখন হারবেন তখন আপনার মানসিক অবস্থা খারাপ থাকবে। কিন্তু আমাদের ওয়ানডে সিরিজের জন্য যারা পরে দেশ থেকে এসেছে তাদের মধ্যে হারের ব্যাপারটা নেই।

মাশরাফি বলেন  বিশ্বকাপের জন্য আর মাত্র ১২ মাস হাতে সময় পাচ্ছি। সুতরাং আপনাকে সামনে এগুতে হলে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। তার জন্য আমাদের বিশেষ কিছু জায়গা পূরণ করতে হবে। আর সামনে এগুনোর জন্য সব ধরণের চিন্তা মাথায় রাখতে হবে। দলের নতুন কোচ এসেছেন। প্রথমত তার প্রভাব দলে ব্যাপকভাবে কাজে দেবে। কারণ তিনি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে দেখা শুরু করবেন।

আমার মনে হয়, আমাদের দলটা মোটুমুটি দাঁড়ানোই আছে। ওদিকে ফিল্ডিং কোচ দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। এই একই দল নিয়ে এখনো আমরা অন্তত সামনের পাঁচ-ছয় মাস খেলবো। নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখতে হলে এখনই তাদের দলের সঙ্গে আনতে হবে। কারণ তাদের দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এবং প্রমাণ করার একটা সময় তো দিতে হবে।

মাশরাফি বলেন, আমরা তামিমের ভালো একজন সঙ্গী খুঁজছি। আমরা তিনে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান খুঁজছি। আমাদের সাতে-আটের দিকে নির্ভরযোগ্য কাউকে লাগবে। আমি আটে একজন অলরাউন্ডারকে বেশি সমর্থক করবো। সেখানে অবশ্যই প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনা করে পেসার, বাঁ হাতি স্পিনার বা অফ স্পিনার হাতে থাকতে হবে।

মাশরাফি বলেন মোস্তাফিজকে ইনজুরি থেকে ফিরেছে। এখন তাকে শুরুর মতো বল করতে বললে হবে না। তবে সে নিয়মিত তার সমস্যা কাটিয়ে উঠছে। যেটা আমাদের সামনের দিনগুলোতে সহায়তা করবে বলে আমার মনে হয়। তার যে দিকটা আমার ভালো লাগে তা হলো সে এগুলো নিয়ে খুব একটা চিন্তা করে না।

সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ নেই। তাদের খারাপ সময় যেতে পারে। তবে তারা ম্যাচ জয়ী খেলোয়াড় হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। তাদের জন্য এমন সুযোগ করে দিতে হবে সেখান থেকে তারা তাদের সেরাটা দিতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ