ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 July 2018, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জাতীয় নির্বাচন দোরগোড়ায়॥ মাঠ প্রস্তুত নয় নির্বাচনের জন্যে

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এখন অনেকটা দোরগোড়ায়। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের জন্যে মাঠ প্রস্তুত নয়। সম্প্রতি রংপুরে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা ইস্যুতে রাজনীতি জমে উঠেছে। এর সাথে যোগ হয়েছে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের দাবিও। এছাড়া নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, আটক বিরোধী নেতাকর্মীদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও হয়রানি বন্ধ এসব দাবিও রয়েছে।
সূত্র মতে, এবারও এটি নিয়ে দুই মেরুতে অবস্থান নিয়েছে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দুই দলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ। কেউ ছাড় দিতে নারাজ। চলছে কথার লড়াই। আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ। গত কয়েক বছর বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট এবং অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ‘সহায়ক সরকারের’ অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। এ জন্য প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন চায় দলটি। এই দাবির সাথে অনেক আগে থেকেই একমত বিদেশীরাও। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ প্রভাবশালী দেশগুলোও বাংলাদেশের হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়ে আসছে। এজন্য তারা বাংলাদেশকে সহায়তা দিতেও প্রস্তুত। এবার এর সাথে যোগ হয়েছে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের সমর্থনও। তারা বলছেন, নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করতে সহায়ক সরকারের কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া সেনাবাহিনী মোতায়েন করে তাদের মেজিস্ট্রেসি ক্ষমতাও দেয়ার কথা বলেছেন তারা। একইসাথে এই দাবিও উঠছে যে, শুধু নিরপেক্ষ সরকার হলেই হবে না, নির্বাচনের সাথে জড়িতদেরও নিরপেক্ষ হতে হবে। দলীয় আনুগত্যশীল লোকদের দিয়ে কখনোই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। কিন্তু সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্যে উত্থাপিত দাবি-দাওয়ার কোনটারই সুরাহা হয়নি। তাই নির্বাচনের মাঠ প্রস্তুত নয় কোনওভাবেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজীপুর ও খুলনা নির্বাচনে যেভাবে ভোট ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে তাতে শুধু নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার হলেই হবে না, আরো অনেক কিছুর উপরই সুষ্ঠুু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নির্ভর করছে বলে মনে করেন তারা। বিশ্লেষকরা বলছেন, খুলনা ও গাজীপুরের নির্বাচন ছিল সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য এসিড টেস্ট। সেই পরীক্ষায় তারা পাস করেনি। বরং নির্বাচন নিয়ে দেশে বিদেশে প্রশ্নের উদ্ভব ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সাথে সাথেই এই দুই সিটি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে অনিয়মের তদন্ত দাবি করেছে। এ নিয়ে দেশগুলোর সাথে সরকারের দূরত্বও তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের সিনিয়র নেতারা বিদেশীদের এসব ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করতে আহ্বান জানাচ্ছেন। সবার বক্তব্য হচ্ছে, সবার কাছে একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে গেলে শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলেই হবে না। যারা নির্বাচনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তাদেরকেও সৎ ও নিরপেক্ষ হতে হবে। বিশেষ করে ভোটের দিন যারা ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন তাদের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রের বাইরে সব কিছু শান্ত থাকলেও ভোট যে সুষ্ঠু হচ্ছে সেটি বলা যাবে না। কারণ এর আগে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচন এবং এই সময়ে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার ও উপ-নির্বাচনে দেখা গেছে, অনেক কেন্দ্রেই বাইরে  শান্ত ছিল। কিন্তু ভোট কেন্দ্রের ভেতরের পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। সেখানে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং কর্মকর্তারা সরকারি দলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন। অনেকেই প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল মেরেছেন। যার স্থিরচিত্র সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সর্বশেষ খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনেও যার প্রমাণ মিলেছে। দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং কর্মকর্তা এমনকি আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরাও প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে সীল মেরেছেন। অনেকেই নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। এর প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হয়নি। উল্টো নির্বাচন কমিশন বলেছে, নির্বাচন শান্ত ও সুষ্ঠু হয়েছে।
জানা গেছে, আগামীতে কারচুপির ধরনটা পাল্টে যাবে। যেখানে কেন্দ্রের বাইরে সব কিছুই ঠিক থাকবে কিন্তু জনগণ তাদের ভোটের সঠিক হিসাব পাবে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছরে যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তাতে ‘বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট’ এর আয়োজনই থাকবে। সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণের ফলেই এটি হবে বলে মনে করছেন তারা। ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনে প্রকাশ্যে সিল মারা হয়েছে, ব্যালট পেপার মাঠে, পুকুরে, রাস্তায় পাওয়া গেছে। এমনটি আগামী নির্বাচনে হবে না। এমনভাবে কারচুপির আয়োজন থাকবে যেখানে কোনো প্রমাণ পাওয়া যাবেনা। যা নিয়ে পরবর্তীতে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। যেমনটি ঘটেছে রংপুর, খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে। অনেকেই বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে সিটি নির্বাচনে কারচুপির একটি রিহার্সেল হয়ে গেল। যেখানে সবাই বলছে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে। মেয়র প্রার্থীরা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন।
সূত্র মতে, ২০০৮ সালের একটি প্রহসনের নির্বাচনের পর থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে সেগুলোর অধিকাংশই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন। যেখানে অর্ধেকেরও বেশী আসনে নির্বাচনই হয়নি। অন্যগুলোতেও ৫ শতাংশের বেশী ভোটার উপস্থিতি ছিলনা। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন ছিল সমালোচনায় ভরা। জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের (ইউপি) ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ নজির ছিল ১৯৮৮ সালে। ওই নির্বাচনে ১০০ জন চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রাণ ঝরেছিল ৮০ জনের। এর আগে ও পরে আরও সাতবার ইউপি নির্বাচন হয়। কিন্তু ২০১৬ সালেল নির্বাচন অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করল। ছয় ধাপে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় প্রাণ হারালেন ১৩৩ জন। বিনা ভোটে নির্বাচিত হলেন ২২০ জন চেয়ারম্যান। গুলীবিদ্ধ, পঙ্গুত্ব বরণসহ নানাভাবে আহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি। উৎসবের ভোটে লাগল কলঙ্কের দাগ। তবে এর দায় নিচ্ছে না কেউ। উপজেলা, মেয়র এমনকি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও ছিল একই চিত্র।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই এমন ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কেন্দ্র দখল, হামলা, ব্যালটপেপার ছিনতাইয়ের দৃশ্য দেখে গেছে। তারা বলছেন, পুলিশ এখন আগের জায়গায় নেই। তারা এখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গদলে পরিণত হয়েছে। যদি পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতো তাহলে অন্তত এত মানুষের প্রাণহানি ঘটতোনা। তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়না। এখানে যদি পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থ হয় তাহলে সংসদ নির্বাচনে তাদের উপর কোনভাবেই আস্থা রাখা সম্ভব হবেনা। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রমাণ করে দিয়েছে যে, জনগণ তাদের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এদিকে নির্বাচন কমিশনও সরকারের তল্পিবাহকে পরিণত হয়েছে। বিএনপি বলছে, নির্বাচন কমিশন নিজেরা কিছুই করার ক্ষমতা নেই। সরকারের পক্ষ থেকে যা বলা হয় এবং করতে নির্দেশ দেয়া হয়ে তাই তারা করছে।
একইভাবে সর্বত্র দলীয়করণের কারণে নির্বাচনে নিয়োজিত অন্যরাও সরকারের এজেন্ট হিসেবেই কাজ করবে। প্রশাসনে থাকা ব্যক্তিরা চাইবে ক্ষমতাসীন দলই জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হোক। কারণ তারা দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পেয়েছেন। কেউ কেউ দলীয় কারণে পদোন্নতিও পেয়েছেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোট কেন্দ্রের ভেতরে যদি প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং কর্মকর্তারা দলীয় হয় তাহলে কোনভাবেই নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষেই কাজ করে যাবে। তারা কারচুপির কৌশলটাও পাল্টে ফেলবে। যেখানে বাইরে থেকে সবকিছুই ঠিকঠাক মনে হবে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করবে, ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবে। ভোটের পর্যবেক্ষকরাও দেখবে সব কিছু শান্তিপূর্ণ। কিন্তু ভেতরে ভোট হবে ভিন্নভাবে। তারা বলছেন, এক্ষেত্রে পোলিং এজেন্টরা হবেন মূল পাহারাদার। জাল ভোট হচ্ছে কিনা, কোনো অনিয়ম হচ্ছে কিনা সেগুলো দেখার দায়িত্ব তাদের। কিন্তু যেভাবে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা চলছে, ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, তাতে প্রত্যেক কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দেয়াটাও কঠিন কাজ হবে। এছাড়া যাদের এজেন্ট হিসেবে পাওয়া যাবে তাদের ভীতি প্রদর্শন বা অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজও করা হতে পারে। ফলে কেন্দ্র থাকবে দলীয় প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আওয়ামী নেতাকর্মীদের দখলে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব বাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচনে তাদের নিজস্ব প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ করে থাকে। যার ফলে সেখানে কেন্দ্রের ভেতরের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠাটা খুব কঠিন। কিন্তু বাংলাদেশে আমলাদের অধীনেই নিবাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে। যাদের অধিকাংশই দলীয়। যদি নিয়োগকৃতরা দলীয়ই হয় তাহলে তাদের অধীনে কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কার উপর নির্ভর করে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নিজেই তো দলীয়। বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের উপর অনেকবার অনাস্থা দেয়া হয়েছে। দলটির অভিযোগ, নতুন করে যাদের নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের অীধকাংশই সরকার দলীয় সমর্থক। এদের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এরপরও সবার কাছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে হলে সৎ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদেরই নির্বাচনী কাজে নিয়োগ দিতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, যারা সবার কাছে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য তাদেরই প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দিতে হবে।
অনেকেই বলছেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে কেন্দ্রে ম্যাজেস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে সেনা মোতায়েন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সাথে অনুষ্ঠিত সংলাপে বিএনপিসহ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন। যদিও সেনা মোতায়েন নিয়ে নির্বাচন কমিশন অনেকটা সরকারের সুরেই কথা বলে। একইভাবে তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়ও বলেছিল। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ তার সময়ে বলেছিলেন, সামগ্রিকভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। প্রাণহানি, কেন্দ্র দখল, ব্যালটপেপার লুটপাট এগুলো নিয়ে তার কোনো মতামত ছিলনা। স্থানীয় সরকার বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন পরিচালনার সাথে জড়িতদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ছিল প্রকাশ্য প্রায়। তাইতো গত কয়েক বছরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সহিংস ও কলঙ্কিত নির্বাচন বলেও আখ্যায়িত করেছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র মতে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে কোনভাবেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এমনকি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অধীনেও নয়। যদি না নির্বাচনের সাথে জড়িতদের দলীয়প্রভাব মুক্ত করা না যায়। যদি নির্বাচনী কার্যক্রমে দলীয়রা থাকে তাহলে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন কোনভাবেই ফ্রি-ফেয়ার হবেনা। তাই বিরোধী রাজনৈতিকদলসহ দেশের অধিকাংশ সংগঠনই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার এবং নির্বাচনের সময়ে সেনামোতায়েনের পাশাপাশি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, নিরপেক্ষ জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছে। এই দাবিতে তারা আন্দোলনও করছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হলে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া নির্বাচনীব্যবস্থা ঢেলে সাজানো, নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার, ইসিকে মানুষের আস্থা অর্জন ও স্বাধীন ভূমিকা মানুষের কাছে দৃশ্যমান করতে হবে। তিনি বলেন, বাইরে শান্তিপূর্ণ হলেই হবেনা, কেন্দ্রের ভেতরেও নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তাদের নির্বাচনী কর্মকান্ডে নিয়োগ না করাই ভালো।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ভোটার, প্রার্থী, নির্বাচনী কর্মকর্তা, কর্মচারী সবার মধ্যে ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারদের দায়িত্ব অনেক। কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে ভোটগ্রহণ বন্ধ বা বাতিলের ক্ষমতা তাদের থাকতে হবে। কিন্তু দলীয় লোকদের দিয়ে তা কখনোই আশা করা যাবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ