ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 July 2018, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাক্ষীদের জবানবন্দীতে খালেদা জিয়ার কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি

স্টাফ রিপোর্টার : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে করা আপিলের শুনানীতে আইনজীবীরা বলেছেন, সাক্ষীদের জবানবন্দীতে এ মামলার বিষয়বস্তুর সঙ্গে খালেদা জিয়ার কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। বিচারিক আদালতে সন্দেহাতীতভাবে সরকার পক্ষ এ মামলা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাস্টের নামে যে অ্যাকাউন্ট ছিল, তার টাকা সেখানেই রয়ে গেছে। এখানে আত্মসাতের কোনো অভিপ্রায় দেখানো হয়নি। তা প্রমাণিতও হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
গতকাল বুধবার এই মামলায় পঞ্চম দিনের শুনানি শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এ কথা বলেন। আপিল শুনানি আগামী রোববার দুপুর ২টা পর্যন্ত মুলতবি করেছেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। এ বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ ১৯ জুলাই থেকে বাড়িয়ে আগামী ২৬ জুলাই নির্ধারণ করেছেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান ও এ জে মোহাম্মদ আলী। তাদের সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, একেএম এহসানুর রহমান প্রমুখ। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
শুনানিতে আব্দুর রেজাক খান মামলার ২, ৩, ৪, ৫, ১২, ২৭, ২৯ নম্বর সাক্ষীকে জেরা ও জবানবন্দির অংশ পরে খালেদা জিয়ার পক্ষে তুলনামূলক যুক্তি উপস্থাপন করেন। তার মূল বক্তব্য ছিল, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে এ মামলার বিষয়বস্তুর সঙ্গে খালেদা জিয়ার কোনও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। বিচারিক আদালতে সন্দেহাতীতভাবে সরকার পক্ষ এ মামলা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাস্টের নামে যে অ্যাকাউন্ট ছিল, তার টাকা সেখানেই রয়ে গেছে। এখানে আত্মসাতের কোনো অভিপ্রায় দেখানো হয়নি। তা প্রমাণিতও হয়নি।
এরপর শুনানি শেষ হলে আদালত আগামী রবিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত মামলা কার্যক্রম মুলতবি রাখার আদেশ দেন।
এর আগে গত ১২, ১৫, ১৬, ১৭ ও বুধবার (১৮ জুলাই) মোট পাঁচদিন খালেদা জিয়ার আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালাশ চেয়ে কারাদ-প্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আপিলসহ মোট চারটি আবেদনের ওপর শুনানি হবে। খালেদা জিয়া আপিল ছাড়াও এ মামলা শুনানির অপেক্ষায় থাকা আরও তিনটি আবেদন হলো, খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে করা দুদকের আবেদন (রিভিশন), একই মামলার ১০ বছরের কারাদ-প্রাপ্ত দুই আসামি কাজী সলিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমদের করা পৃথক দু’টি আপিল।
প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদ-াদেশ দেন বিচারিক আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন সেখানেই আছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ