ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 July 2018, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নৌকার পোস্টার সন্ত্রাস চলছে -বুলবুল ॥ বুলবুল প্রত্যাশা পুরণে ব্যর্থ -লিটন

রাজশাহী অফিস : রাজশাহী সিটি নির্বাচনে কালো টাকা ছড়ানোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন হেভিওয়েট দুই মেয়র প্রার্থী। এ সময় বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেছেন, তিন দিন আগে পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে তিনি ভোটে থাকবেন না। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের অভিযোগ, নৌকার গণজোয়ার আঁচ করে বোমাবাজি শুরু করেছে বিএনপি। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজশাহীতে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে প্রার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তারা এসব অভিযোগ করেন। তাদের এমন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে মতবিনিময় সভা রূপ নেয় একরকম বিতর্ক প্রতিযোগিতায়। ভোটের মাঠে কালো টাকা ও পোস্টার সন্ত্রাস চলছে- এমন অভিযোগ করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বুলবুল বলেন, ভোট উৎসব নয়, যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন তোলেন, নিজের নিরাপত্তা নিয়েও। তবে সভার প্রধান অতিথি নির্বাচন কমিশনার (ইসি) শাহাদত হোসেন চৌধুরী বলেন, রাজশাহী সিটি নির্বাচন হবে ইতিহাসে স্মরণীয়। সভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল প্রায় ১০ মিনিট বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, রাজশাহীতে পোস্টার সন্ত্রাস সৃষ্টি করা হয়েছে। কোন নির্বাচনের পরিস্থিতি নয়, এটি যুদ্ধের পরিস্থিতি। কালো টাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী পুরো নগরীকে পোস্টারে পোস্টারে ভরে ফেলেছেন। পাল্টা অভিযোগ করে আ’লীগের প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বিএনপি জিতলেই ভোট আনন্দমুখর হয়, আর পরাজিত হলেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। রাজশাহীতে এবার নৌকার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণ বুলবুল নগরবাসীর আশা-আকাঙ্খা ও প্রত্যাশা পুরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। পোস্টার-ব্যানার প্রসঙ্গে লিটন বলেন, আমার নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যানার-পোস্টারের বাইরে দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উৎসাহিত হয়ে স্বউদ্যোগে ব্যানার-পোস্টার লাগাতে পারে। আমি তাদের মানা করতে পারি না। তবে নগরীতে প্রার্থীদের পোস্টার ও ফেস্টুনের ছড়াছড়ি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, শহরের অনেক স্থানে প্রার্থীদের ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’ পোস্টার-ফেস্টুন আছে। এগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। কেবল নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট মাপেরই পোস্টার দিয়ে ভোটের প্রচারণা চালানো যাবে। নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন সে জন্য নির্বাচন কমিশন সজাগ রয়েছে। জেলা কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বাগযুদ্ধ শেষে মঞ্চ থেকে নেমে কোলাকুলি করেন মেয়র প্রার্থী লিটন ও বুলবুল। সোফায় বসেনও পাশাপাশি। অনুষ্ঠানে নির্বাচনের অন্য মেয়র প্রার্থী এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরাও অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ