ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 July 2018, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশ ব্যাংকের গাফিলতি পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা -অর্থ প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, জনগণের সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সামান্য গাফিলতি পেলে সে দায় সরকারের। তিনি বলেন, ‘বিষয়টিকে আমরা ছোট করে দেখছি না। সামান্য ফাঁকফোকড় দিয়ে বড় ঘটনা ঘটতে পারে। এতে ব্যাংকের কারও সামান্য গাফিলতি পেলেও আইনগতভাবে শাস্তির ব্যবস্থা করবো।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ইউনুসুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুল হক, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. সহিদুল ইসলাম, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নূরুল আবছার, কমিশনার অব কাস্টমস (শুল্ক, মূল্যায়ন ও নিরীক্ষা) মইনুল খান, এনবিআরের সদস্য (আন্তর্জাতিক চুক্তি) কালিপদ হালদার, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুর রহমান প্রমুখ।
অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্র পড়ে আমি বিষয়টি জেনেছি। এর আগে জানতাম না। পত্রপত্রিকায় যেভাবে এসেছে তা আমার কাছে ভয়াবহ মনে হয়েছে। যেহেতু আমার জ্যেষ্ঠমন্ত্রী দেশে নেই, আমার যতটুকু সম্ভব বিভিন্ন জায়গায় কথাবার্তা বলেছি এবং তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করেছি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় আশ্বস্ত হয়েছি, যে মাত্রায় পরিবেশিত হয়েছে তা সঠিক নয়, অনেক বড় মাত্রায় এটি এসেছে। দুনিয়া কাঁপানো মাত্রা আমাদের দেশের জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআর-এর প্রধান কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। আমাকে তারা আশ্বস্ত করেছেন এ সম্পর্কে ভয়ের কোনও ব্যাপার নেই। গত মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রেস কনফারেন্স করেছে। আপনারা (সাংবাদিকরা) তা ছেপেছেন। একইদিনে সন্ধ্যা পর্যন্ত যে সন্দেহ ছিল, ভীতি ছিল, তা কমে এসেছে।
এম এ মান্নান বলেন, কাজ করলে কিছু ধারণাগত বা জ্ঞানগত ফারাক সৃষ্টি হতে পারে । সব সোনা ঠিক আছে। ঘরেই আছে। এ সম্পর্কে পরিষ্কার হয়ে গেছি। আমরা উভয়ে বসছি আরও বসবো, যে পরিমাণের কথা বলা হয়েছে, ৯৬৩ কেজি নাকি। তা মোটেই ঠিক নয়। সব সোনা ঠিক আছে, ঘরেই আছে, জনগণ বা যেকোনও সংস্থা গিয়ে দেখতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দরজা খোলা আছে। ৪০ আর ৮০ নিয়ে ভুল হতেই পারে। আগে সোনা মাপা হতো মান্ধাতা আমলের নিক্তি দিয়ে। এখন আধুনিক পরিমাপক দিয়ে মাপা হয়। তাতে দশমিক ০০০০১ কম-বেশি হয়।
মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের রক্ষিত সোনা বদলে যাওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা অর্থমন্ত্রী দেশে ফিরলে আইনানুগভাবে খতিয়ে দেখা হবে, যাতে সামান্যতম সংশয় বা সন্দেহও দুরীভূত হয়। অর্থমন্ত্রী দেশে ফিরলে বিষয়টি সম্ভাব্য সব উপায়ে খতিয়ে দেখা হবে। জনগণের সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সামান্য গাফিলতির কারণে যদি কিছু ঘটে থাকে তবে সে দায় সরকারের। সরকার সব ব্যবস্থা করবে। গত দুই বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এনবিআর-এর চিঠি চালাচালি হওয়া সত্ত্বেও এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটল সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমলাতান্ত্রিক গাফিলতি আছে, লিখিত চিঠির জবাব এসেছে দেড় মাস পর। আমরা হোল সিস্টেম রিভিউ করবো। সামান্য গাফিলতি পেলেও আইনগতভাবে শাস্তির ব্যবস্থা করবো। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভল্ট থেকে কিছু বাইরে যাওয়ার সম্ভবনা মোটেও নেই। সেখানে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, গর্ভনরও অনুমতি ছাড়া ভল্টে যেতে পারেন না। তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা-পর্যবেক্ষণ করে দেখা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি জেনেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। মুখ্য সচিবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাবে কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি তা জানাননি।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার এ ব্যাপারে সংবাদিক সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রবিউল হাসান জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্ট থেকে সোনা গায়েবের ঘটনা সত্য নয়। ভল্টে রক্ষিত সোনায় কোনও ধরনের হেরফের হয়নি। জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে নথিভুক্ত করার সময়। শুল্ক গোয়েন্দারা যেভাবে ভল্টে সোনা রেখেছিল, তা সেভাবেই রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে ছয় স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি গভর্নরকেও সেখানে প্রবেশ করতে যথাযথ অনুমতি নিতে হয়। ইচ্ছাকৃত কেউ এখানে প্রবেশ করতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রুটি বলতে যা আছে, নথিভুক্ত করার সময় ইংরেজি-বাংলার ভুল। এর বাইরে অন্য ত্রুটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই। ২২ ক্যারেটের জায়গায় ১৮ ক্যারেট হওয়ার বিষয়টি দুটি ভিন্ন যন্ত্রে পরিমাপের কারণে হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দারা যখন সোনা জমা রাখেন, তখন হয়তো তাদের মেশিনে ২২ ক্যারেট দেখিয়েছিল, কিন্তু আমাদের মেশিনে সেটি ১৮ ক্যারেটই হয়েছিল। চিঠি দিয়ে বিষয়টি শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। ভল্টের দায়িত্বে থাকা কারেন্সি অফিসার আওলাদ হোসেন চৌধুরী দাবি করেন, ভল্টে রক্ষিত সোনায় কোনো ধরনের হেরফের হয়নি; শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ যেভাবে রেখেছিল, সেভাবেই আছে। শুল্ক গোয়েন্দারা আমাদের সোনা দেওয়ার সময় তা ২২ ক্যারেট বললেও আমরা পরিমাপ করে পাই ১৮ ক্যারেট। ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভূতুড়ে কাণ্ড’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে এই সংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ