ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 July 2018, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফ্রি প্রি-পেমেন্ট মিটারে ভাড়ার জাঁতাকলে খুলনা মহানগরবাসী

খুলনা অফিস : নানা ভোগান্তি আর ক্ষোভের মধ্যে রয়েছেন ওজোপাডিকো’র ফ্রি প্রি-পেমেন্ট বা স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারের গ্রাহকেরা। শুরুতে ফ্রি বলা হলেও মিটার ভাড়া ধার্য করা, ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, সফ্টঅয়্যার বা নেটওয়ার্ক সমস্যা, বন্ধের সময় ভোগান্তিতে থাকাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে নগরীতে থাকা প্রি-পেমেন্ট গ্রাহকদের। গ্রাহকরা বলছেন, স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারে রয়েছে শুভঙ্করের ফাঁকি। জানা গেছে, খুলনাতে ২০১৪ সাল থেকে ওজোপাডিকো এ মিটারিং এর কাজ শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে ৪২৬.৩৭ কোটি টাকার স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারিং শুরু করে। এ দু’টি প্রকল্পের আওতায় মহানগরীর ৪টি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের আওতাধীন ১৪টি ফিডারে প্রকল্পের কাজ চলছে। মহানগরীর টুটপাড়া ফিডারের আওতায় জোড়াকল বাজার, তালতলা হাসপাতাল, ঘোষের ভিটা, দোলখোলা ফিডারের আওতায় মৌলবীপাড়া, পাইপের মোড়, বিকে মেইন রোড, হাজী মহসিন ফিডারের আওতায় সাউথ সেন্ট্রাল রোড, ট্যাংক রোড, হাজী মহসিন রোড, আহসান হাবীব রোড, বাগমারা ফিডারের আওতায় মিয়াপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, কৃষি কলেজ ফিডারের আওতায় আড়ংঘাটা, আঞ্জুমান রোড, দৌলতপুর মহসিন রোড, পাবলা ফিডারের আওতায় মোল্লার মোড়, সবুজ সংঘ’র মাঠ, দৌলতপুর বাজার ফিডারের আওতায় দৌলতপুর বাজার রোড, স্টেশন রোড, এফআইডিসি ফিডারের আওতায় ভিআইপি রোড, তেলিগাতি, সেন্ট্রাল রোড ফিডারের আওতায় চিত্রালী বাজার, খালিশপুর হাউজিং, প্রেমকানন ফিডারের আওতায় নেভি চেকপোস্ট, পুরাতন যশোর রোড, হালদারপাড়া, মহসিন কলেজ ফিডারের আওতায় কোহিনুর মোড়, খালিশপুর নতুন থানার মোড়, শেরেবাংলা ফিডারের আওতায় ময়লাপোতা, ডালমিল মোড়, শেখপাড়া এলাকা, পল্লীমঙ্গল ফিডারের আওতায় বৌ বাজার গোবরচাকা, নিরালা ফিডারের আওতায় গল্লামারি মোড়, জিরো পয়েন্ট, নাজিরঘাট, দরগা ফিডারের আওতায় নিরালা আবাসিক এলাকা, বুড়ো মৌলভীর দরগা, প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা এবং কাশেম নগর-১, ২, ৩, ৪ এলাকাসহ নগরীর বেশ কিছু এলাকায় এ মিটার স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ সমস্ত এলাকায় এ পর্যন্ত প্রায় ৭৩ হাজার প্রি-পেমেন্ট মিটার প্রতিস্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ গ্রাহক এ সেবায় সন্তুষ্ট নয় বলে জানান। ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে ১ হাজার টাকা রিচার্জ করলে ৮৫২.৩৮ টাকার বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। বাকী টাকার মধ্যে মিটার ভাড়া রয়েছে ৪০ টাকা, ডিমান্ড চার্জ ৩০/ কিঃ ওয়াট ৬০ টাকা এবং ২৫/কিঃ ওয়াট এর জন্য ৫০ টাকা, রয়েছে ৫% ভ্যাট ৪৭.৬২ টাকা। ফলে ১ হাজার টাকা রিচার্জে গ্রাহক বিদ্যুৎ পায় মাত্র ৮৫২.৩৮ টাকার। নিরালা আবাসিক এলাকার মো. কামরুল ইসলাম জানান, ডিজিটাল মিটার ভাল ছিল। সেখানে মাস শেষে বিল দিতাম। বেশি বিল আসলে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে সমাধান করা যেত। কিন্তু এখন সমস্যা অনেক আতঙ্কে থাকতে হয় কখন টাকা শেষ হয়ে যায়। আগে এক মাসে আমার ৭শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ টাকা বিল আসতো। এখন আমার মাসে লাগে ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকা। আগেই ভাল ছিল। আগে মাসে একবার ব্যাংকে লাইনে দাঁড়াতে হত। আর এখন রোদের মধ্যে মাসে দু’বার থেকে তিন’বার দাঁড়াতে হয়। আজও ১০টায় দাঁড়ালাম আর রিচার্জের স্লিপ পেলাম সাড়ে ১১টায়।
হাজী মহসিন রোড এলাকার ডা. কেপি রায় জানান, আমি এ এলাকার প্রথম কনজুমার। আমার মনে হয়েছে, এটি একটি বাজে সিস্টেম। হঠাৎ বিল শেষ হয়ে যায়। বন্ধের সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রায় সফ্টঅয়্যার সমস্যা দেখায়। তখন পরে আসতে বলে। বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। তখন কেমন লাগে। দু’ঘন্টা পরে অন্য একটি বুথে গিয়ে টাকা জমা দিয়ে আবার বাড়ি ফিরে টাকা লোড দেই। চোখে কম দেখার কারণে ভাল জানা লোক খুঁজতে হয়। সবাই এর রিচার্জ পারে না।
হাজী মহসিন রোডের বিসমিল্লাহ ওষুধ ঘর’র স্বত্বাধিকারী এম আজিজুর রহমান আজিজ জানান, এ এলাকায় আমি ডিজিটাল মিটারের গ্রাহক ছিলাম। কিন্তু বিদ্যুৎ অফিসের লোকরা আমাকে বাধ্য করেছে প্রি-পেমেন্ট মিটার নিতে। তারা আমাকে দু’মাস তিন মাস বিল দেয় না। তারপর অফিস থেকে বিল আনতে হয়। পরে বাধ্য হয়ে এ মিটার নিয়েছি। একমাস হলো তবে আমি মনে করি আগের ডিজিটাল মিটার ভাল ছিল। মাসে একবার বিল দিলে সমস্যার সমাধান। আর এখন মাসে দুবার আবার তিনবারও টাকা ভরতে হয়।
দৌলতপুর বাজার রোড এলাকার মোসা. শিউলী সুলতানা জানান, এ মিটারের ভাড়া টানতে হবে সারাজীবন। এ মিটারের কোনো দাম নেই। আছে ভাড়া। আমরা সবাই ভাড়াটিয়া। আর কত দিন ভাড়া দিতে হবে কে জানে। দিন দিন কাজ সহজ হচ্ছে আর বিদ্যুৎ কঠিন হচ্ছে। ডিজিটাল দেশে ডিজিটাল মিটার ভাল ছিল। ভাড়ার নামে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে।
স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারিং প্রকল্প’র পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. তোফাজ্জেল হোসেইন জানান, ২০২১ সালের মধ্যে ২১ জেলা ও ২০টি সদর উপজেলায় শতভাগ প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় এবছর শুরু হয়েছে স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারিং প্রকল্পের কাজ। এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার মিটার স্থাপন করা হয়েছে। মিটার ভাড়া কতদিন চলবে সে ধরনের কোন নির্দেশনা আমাদের কাছে নেই। প্রতিটি মিটারের মাসিক ভাড়া ৪০ টাকা। আমরা আস্তে আস্তে খুলনার সকল স্থানে এ প্রি-পেমেন্ট মিটার প্রতিস্থাপন করবো। এ কাজ এখনও চলমান রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ