ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 July 2018, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফুটবল ভুবনে আস্থার প্রতীক বেলজিয়াম

মোহাম্মদ সুমন বাকী : তারা যে একেবারেই নতুন, তা বলা যাবে না। কারণ তাদের পরিচিতি বিশ্ব ফুটবল ভুবনে অনেক আগে থেকে। সেটা প্রতিষ্ঠিত শক্তি হিসেবে। যারা মাঠের লড়াইয়ে শরীক হয় দলের ভিতর মজবুত সমন্বয় রেখে। সুন্দর ইউরোপ ফুলের সৌন্দর্যে ঘেরা। মনে হয় আকর্ষনীয় রমনীর প্রতিচ্ছবি। তা ম্যাচ চলাকালীন সময়ে টিভির পর্দায় বার বার ভেসে উঠে। যা এক বিন্দু হলেও সবার হৃদয়কে নাড়া দিয়ে থাকে। এমন সৌন্দর্য ঘেরা ইউরোপে ফুটবলের ইর্ষনীয় সাফল্যটা আঠার মতো লেগে আছে। সেটা শতভাগ সত্য কথা। সেই তালিকায় জার্মানি, ইটালি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, স্পেন, নেদারল্যান্ড, সুইডেন, ক্রোয়েশিয়া অন্যতম। যাদের গায়ে চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপের তকমা লেগেছে বেশ দাপটের সাথে। তা ইতিহাস হয়ে লেখনীর জগতে জ্বল জ্বল করছে। যা উত্তেজনার আসর ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে। সে কথা সকলের বোধগম্য। এ সাফল্যের ধারায় ক্রোয়েশিয়া নয়া সংযোজন। তারা রানার্সআপ হয় দারুন নৈপূণ্য দেখিয়ে। এমন কীর্র্তি গড়ে সদ্য শেষ হওয়া ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপে। এই অবস্থায় নতুন রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া। পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়ার রাজ্যে অন্যতম ভরসা। অবশ্যই নয়া শক্তির আগমন হিসেবে সেটা। তাদের উদ্ভাসিত নৈপূণ্য ১৯৯৮ বিশ্বকাপ (অভিষে) হতে জানিয়ে আসছে তা। শতভাগ সত্য কথা যা। চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ হয়নি। অথচ সুপার টিম। সেটা সবুজ ঘাসের ময়দানে সো করা পারফরম্যান্সের পারফেক্ট গুনে। তা কি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে? যেখানে তুরস্ক, মিসর, সুইজারল্যান্ড, বুলগেরিয়া জ্বল জ্বল নাম। সেখানে একই ধারায় ফুটবল ভুবনে আস্থার প্রতীক বেলজিয়াম। কৌশল প্রয়োগ করে আক্রমনাত্মক ফুটবল উপহার দেয়া। যা ফুটে উঠে ২০১৮ বিশ্বকাপে।
তৃতীয় স্থান পায় বেলজিয়াম। ব্রোঞ্জ পদক জয় করে। সেটা দুর্দান্ত দাপট বজায় রেখে। এমন দৃশ্য স্বচ্ছ পানির ন্যায় ভেসে উঠে স্থান নির্ধারনী ম্যাচে। তা শক্তিশালী টিম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এ সাফল্য ধরা দেয় ১৯৮৬ বিশ্বকারে ছায়াতলে। সেবার ইউরোপ মহাদেশের বেলজিয়াম চমক সৃষ্টি করে সেমিফাইনালে উঠে। এক কথায় যা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে ছাড়ে। নান্দনিক নৈপূণ্য উপহার দেবার কারণে। তারা চোখের পলকে আলোকিত টিম হয়ে উঠে। স্থান পায় মিডিয়ার লাইম লাইটে। সেটা তাদের পরিচিতি পাইয়ে দেয় সারা বিশ্বে। দুর্ভাগ্য বেলজিয়াম দলের। তারা পারেনি সেমিফাইনাল খেলায় জয় কুড়িয়ে নিতে। তা কি অবাক করে? না, স্বাভাবিক রেজাল্ট বটে। যা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় স্থান পেয়েছে। আর সেমিফাইনাল জিতেবেই বা কী করে! কারণ প্রতিপক্ষ যে সর্বকালের সেরা প্লেয়ার দিয়াগো আরমান্ডো ম্যারোডানার আর্জেন্টিনা। এই মেগা স্টার একাই ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছেন প্রতিপক্ষ টিমগুলোকে সেই সময়। সেটা দুর্দান্ত পারফর্ম দেখাবার মাধ্যমে। তাও আবার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে। যা ম্যাচ বাই ম্যাচে পরিলক্ষিত হয়েছে। সেটা একতরফা দাপট সো করে। ফুটবল পন্ডিতদের অভিমত কি এমন আলোচিত বিষয়ে? তা সোনালী পরশে কলমের লেখনীতে গোটা দুনিয়ার ছড়িয়ে পড়ে। যা সবার জানা রয়েছে। সেই আর্জেন্টিনাকে বেলজিয়াম হারাবে? ভাবাতো দূরের কথা ঘুমের ঘোরে স্বপ্নও দেখা যায় না! তা বাস্তব প্রেক্ষাপটের বিশ্লেষণে। সেটা মাঠের লড়াইয়ে অক্ষরে অক্ষরে ফলে। ম্যারাডোনার দেয়া দুই গোলে আর্জেন্টিনা জয় পেয়েছিলো সেমিফাইনাল ম্যাচে। ইউরোপের দল ভালো খেলে। তারা ম্যাচ হারে ঠিকই।
তবে তাদের পারফর্ম ছিলো অবশ্যই উল্লেখ করার মতো। টিম লাইন আপ দারুন। সেটা যে কেউ স্বীকার করে ফেলবেন এক নিমিষে। শুধুমাত্র পার্থক্যটা গড়ে দেন দিয়াগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা। উদ্ভাসিত নৈপূণ্য প্রদর্শন করে। পার্থক্যের ব্যবধানটা ছিলো আকাশ-পাতালের মতো। যা বলাবাহুল্য। সেবার বেলজিয়াম চতুর্থ স্থান অর্জন করে তাক লাগিয়ে দেয় বিশ্বকে। এরপর লম্বা প্রতীক্ষা! তা কেন? প্রশ্ন জাগে! দীর্ঘ ৩২ বছর পর ২০১৮ বিশ্বকাপে প্রতীক্ষার অবসান ঘটে। যেখানে তারা আবার আলোকিত হয়ে উঠে। সুপার পারফরম্যান্সের সৌরভ ছড়িয়ে। তাদের খেলার ছক আগের মতোই। এমন কৌশলে বিন্দু পরিমান পরিবর্তন নেই। রক্ষনভাগ মজবুত করা। ডান এবং বাম দিক দিয়ে আক্রমনে যাওয়া। এক্ষেত্রে মধ্যমাঠ ব্যবহার করেছে বেলজিয়াম কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। যা তুলনামূলক ভাবে কম। কৌশলে তারা রক্ষনভাগ শুরুতে আগলে রাখে। ম্যাচ চলাকালীন সময়ে সেটা প্রতিপক্ষ দলও বুঝতে পারে না! নিজেদের কৌশলে বাস্তবায়নে প্রচেষ্টার ধারাতে। তা স্বাভাবিক। যা দেখা গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে। নেইমার হতে পারেননি দিয়াগো ম্যারাডোনা! তাই বেলজিয়াম ম্যাচ জিতে। কৌশলটা এমন- ওয়ান ম্যান সো বনাম দলগত সমন্বয়ের পারফর্ম। কথাটি অপ্রিয় সত্য। ডিফেন্স লাইন আপে আস্থার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিলেন ভিনসেন্ট কোম্পানিও। তিনি পারফর্ম করেছেন অসাধারন। মধ্যমাঠ ও আক্রমনভাগের সমন্বয়টা আঠার মতো লেগেছিলো। সে জন্য সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সমান তালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যায় তারা। যদিও খেলায় পরাজিত হয় ১-০ ব্যবধানে। তাতে কি? তাদের নৈপূণ্য প্রদর্শনের বাস্তব চিত্রটা ছিলো সুপার ডুপার। শুধুমাত্র পিছিয়ে থাকে কৌশল প্রয়োগের অনভিজ্ঞতায়! সেটা কি ভাবা যায়? দলের সবাই ইয়ং স্টার। তারা ফর্মে আছে। সেই কারণে ছন্দের তালে খেলেছে। এরপরও গোল আদায় করতে পারেনি বেশি সংখ্যায় বিশ্বকাপ মূল পর্বে অংশ না নেয়ায়। যা ফ্রান্সের তুলনায়। ক্রোয়েশিয়ার লুকা মডরিচ পেয়েছেন সেরা প্লেয়ারের মর্যাদা। এমন পারফরম্যান্সের গুনে অন্যদেরকে পিছনে ফেলে জিতে নিয়েছেন গোল্ডেন বল। ইংল্যান্ডের হ্যারিকেন হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। সে পায় গোল্ডেন বুট। যারা এখন বিশ্ব ফুটবল তারকা। তাদের তুলনায় বেলজিয়ামের লুকাকু, ফেলাইনি, ইডেন হ্যাজার্ড, কেভিন ডি ব্রুইন, রোমেলুরা কোনো অংশে কম ছিলো না পারফরম্যান্স দেখাবার বেলায়। এবারের বিশ্বকাপে বেলজিয়াম দল এই দৃশ্যের ছায়াতলে সোনালী পরশের ছোঁয়ায় আলোকিত হয়ে রয়েছে।
সুন্দর ছক ও গতিময় ফুটবল খেলার জন্য। তা সবারই বোধগম্য। সেটা চোখের পাতায় জ্বলন্ত স্মৃতি হয়ে আছে। যা হৃদয়কে নাড়াও দিচ্ছে। আপনারা কি বলেন? বিশেষ করে বেলজিয়ামের পাওয়ার ফুটবলার লুকাকুর কথা মনে রাখবেন সকলে। অবশ্যই তার নৈপূণ্যের স্মৃতিচারণ করে। যেখানে গতিময় খেলা, সেখানে তিনি অন্যতম ভরসা। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ব্রোঞ্জপদক জয়ের আনন্দটাই লুকাকুর কাছে আলাদা। পরিশেষে ১৯৮৬ এবং ২০১৮ বিশ্বকাপ বিশ্লেষণ করে অনায়াসে অভিহিত করা যায় ফুটবল ভুবনে আস্থার প্রতীক বেলজিয়াম। তা পারফর্মকে ঘিরে। কোটি কোটি ক্রীড়াপ্রেমী যা আবার দেখার প্রত্যাশা রাখে ২০২২ বিশ্বকাপকে লক্ষ্য রেখে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ