ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 July 2018, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যেসব খাবার সন্তান জন্মদানে প্রভাব ফেলে

কোনো পুরুষের সাথে কোনো নারীর শারীরিক সম্পর্কের ফলে মানব ভ্রুনের নিষেক ঘটে। পরে নির্দিষ্ট সময় গর্ভধারণের পর প্রসবের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম হয়। নারী-পুরুষের বয়স, দুর্বল জীবনব্যবস্থা, যৌন সংক্রমণের ইতিহাস প্রভৃতি সন্তান উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রজনন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুনির্দিষ্ট কিছু খাদ্যাভাসও এক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডায়েট আপনার ডিম্বাশয় এবং প্রজননে প্রভাব ফেলে। সাধারণভাবে ভালো চর্বি বিশেষ করে মাছ এবং অ্যাভোকাডো আপনার ডিম্বাশয়ের পরিস্ফূটন ঘটাতে সাহায্য করে। অন্য দিকে, অন্য চর্বি বিশেষ করে লাল মাংস এবং ভাজা খাবার আপনার ডিম্বাশয়ে ডিমের উৎপাদন কমিয়ে আনে। এগুলো ছাড়া খাদ্যশস্য এবং প্রোটিন জাতীয় খাবারও কিন্তু প্রজনন পদ্ধতিতে প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, আপনি নিয়মিত কিভাবে খাচ্ছেন, কোন ধরনের খাবার খাচ্ছেন, কী পান করছেন এসবও কিন্তু গর্ভধারণের সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোই নাটকীয়ভাবে আপনার প্রজননে প্রভাব ফেলে।
পর্যাপ্ত না খাওয়া: কাজের চাপে পড়ে মাঝে মধ্যে দুপুরের খাবার খাওয়াই ভুলে যান। এই অভ্যাসই কিন্তু আপনার প্রজননে মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, পর্যাপ্ত না খাওয়ার কারণে আপনি পুষ্টিহীনতায় ভুগে থাকেন। পাশাপাশি চাপ তো আছেই। সব মিলিয়ে শরীরের ওপর অনেক বেশি চাপ পড়ে, যা প্রজননে প্রভাব ফেলে। ডিম্বাণু উৎপাদনের জন্য শরীরে পুষ্টির প্রয়োজন পড়ে। এ কারণে প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি সঙ্গীকেও একই খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
খাবারে এলার্জি : যেসব খাবারে এলার্জি আছে সেগুলোও প্রজননে প্রভাব ফেলে। কেননা কিছু এলার্জি আছে যেগুলো শরীরের তাপমাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাবার গ্রহণের ফলে এলার্জির প্রতিক্রিয়ার কারণেই আসলে এমনটি হয়ে থাকে। তাই প্রজনন ভালো রাখতে এলার্জি সৃষ্টি হয় এমন খাবারের পরিবর্তে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
প্লাস্টিক কনটেইনারের খাবার গ্রহণ: বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্লাস্টিকের কোনো প্যাকেটের খাবার খাওয়ার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। এসব প্যাকেটে ক্ষতিকর নানা কেমিক্যাল থাকায় তা প্রজননে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যতটা সম্ভব এসব খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
হারবাল ওষুধ সেবন: প্রাকৃতিক এবং স্বাস্থ্যকর হওয়ায় অনেকেই মনে করেন হারবাল ওষুধ সেবন অনেক ভালো। তাতে নানা রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলেন, আসলে এতে কোনো নাটকীয়তা নেই বরং এর চেয়ে ভালো হয় যদি আপনি ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খান। মনে রাখবেন, প্রজনন সংক্রান্ত সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের সবচেয়ে বেশি জরুরি ফলিক এসিড খাওয়া। এটি শরীরের কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য অনেক বেশি জরুরি। একই সাথে স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ ডায়েট বিশেষ করে ভিটামিন, মিনারেল, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফল, সবজি প্রভৃতি খাবার খাওয়াও জরুরি।
অতিরিক্ত মাছ এবং শাকসবজি খাওয়া: ২০১৮ সালে হিউম্যান রিপ্রোডাকশন জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারী গর্ভধারণের জন্য শতকরা ৬৫ থেকে ৬৮ ভাগ ডায়েট অনুসরণ করে চলেন তারা যারা ডায়েট অনুসরণ করেন না তাদের চেয়ে সহজেই গর্ভধারণে এবং সন্তান জন্মদানে সক্ষম হন। এ ক্ষেত্রে অবশ্য স্বাস্থ্যকর চর্বি, তাজা ফল এবং শাকসবজি, খাদ্যশস্য, ডাল, মাছ এবং কম লাল মাংস খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। সুনির্দিষ্ট একটি ডায়েট প্ল্যান মানে এই নয় যে, স্বাস্থ্যকর খাবারগুলোই আপনাকে মাত্রাতিরিক্ত খেতে হবে। এতেও হিতে বিপরীত হতে পারে।
নন-অর্গানিক খাবার খাওয়া: প্রজনন স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে অর্গানিক সমৃদ্ধ খাবার। এ ক্ষেত্রে অর্গানিক ডেইরি পণ্যকে এগিয়ে রাখেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, নন-অর্গানিক দুধের তৈরি খাবার খেলে তা আপনার ডিম্বাশয়ে প্রভাব ফেলে। এর ফলে প্রজননও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০০৭ সালে হিউম্যান রিপ্রোডাশন জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নি¤œ ডেইরি পণ্য যেমন : স্কিম দুধ এবং দইয়ের চেয়ে চর্বিযুক্ত দুধ এবং আইসক্রিম খাওয়া প্রজননের জন্য অনেক ভালো।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ: আপনি যদি গর্ভধারণ করতে চান তাহলে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। জার্নাল ল্যানকেটে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারী দিনে এক কাপের বেশি কফি পান করেন তাদের চেয়ে যারা কম পান করেন তারা আগেই গর্ভধারণ করেন। মনে রাখবেন, ক্যাফেইন শুধু কফিতে নয়, বরং সোডা, চকলেট এবং এনার্জি ড্রিঙ্কেও আছে। তাই অনেক সময় চাইলেও আপনি ক্যাফেইন গ্রহণে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। তাই গর্ভবতী হতে চাইলে খাদ্যাভাসে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শও নিতে পারেন।
-ডা: রুমানা নুশরাত চৌধুরী

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ