ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 July 2018, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জ্বরে কী করবেন কী করবেন না

ঋতু পরিবর্তন ও বন্যা-পরবর্তী পানি দূষণের ফলে প্রতিটি পরিবারে জ্বর এখন সাধারণ সমস্যা। এর সাথে সর্দি-কাশি, গা ব্যথা, মাথা ব্যথা ইত্যাদি। বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণে জ্বর আসে যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, সর্দি-কাশি, নাক-কান-গলার সংক্রমণ, হাম, জলবসন্ত, ফুসফুসের সংক্রমণ, টাইফয়েড, কালাজ্বর, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ইত্যাদি।
ভাইরাল ফিভারে সর্দি-কাশি, হাঁচি, গা ব্যথা, মাথা ব্যথা, শরীর ম্যাজম্যাজ করা, খাওয়ায় অনীহা, বমিভাব ইত্যাদি থাকে। কিছু ভাইরাল ফিভারে র্যাশ দেখা যায় যেমন : জলবসন্ত, হাম, ডেঙ্গু ইত্যাদি। ডেঙ্গু জ্বরের সাথে মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, হাড় ও মাংসপেশিতে প্রচণ্ড ব্যথা, খাবারে অনীহা, বমি বমিভাব দেখা যায়। সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর এক সপ্তাহের মধ্যে এমনিতেই সুস্থ হয়ে উঠে; কিন্তু হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। জ্বরের প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে রক্ত ও প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা হয়, তার সাথে জ্বরের চার্ট রাখলে সুবিধা হয়। ক্ষেত্রবিশেষে স্পেশাল পরীক্ষার প্রয়োজন। অল্পমাত্রার জ্বরে ভাবনার কিছু নেই। কিন্তু যদি ১০২০ ঋ- এর ওপরে তিন-চার দিন জ্বর স্থায়ী হয় তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এক্ষেত্রে পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে শরীর মুছতে হবে এবং কপালে ঠাণ্ডা পানির পট্টি দিতে হবে। জ্বরের রোগীকে কখনোই পুরু লেপ-কম্বল মুড়ি দিয়ে শুইয়ে রাখা উচিত হবে না, এতে তাপমাত্রা আরো বেড়ে যায়। ঘরের দরজা-জানালা খোলা রাখা দরকার, যাতে আলো-বাতাস চলাচলের সুবিধা হয়।
জ্বর কমানোর জন্য প্রাথমিকভাবে শুধু প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দেয়া উচিত। খেয়াল রাখতে হবে জ্বর যত দ্রুত কমানো যায় ততই ভালো, তা না হলে অতিরিক্ত তাপে মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। জ্বরের কারণ না জেনে নিজ থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। উল্টা-পাল্টা অ্যান্টিবায়োটিক খেলে রোগ চাপা পড়ে যায় এবং ওষুধের রেজিসটেন্স বৃদ্ধি পায়। জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। খেতে হবে প্রচুর তরল এবং পুষ্টিকর খাবার। তবে ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় যেমন- চা, কফি পান করা উচিত নয়। দ্রুত সুস্থ হতে চাইলে তাকে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে যেমন- স্যুপ, শরবত, পানি, ফলের রস, নরম ভাত, ডাল, মাছ, দুধ ইত্যাদি। জ্বর কমানোর ওষুধ খেলে ঘামের ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। সেজন্য লবণ-চিনির শরবত, ফলের জুস, গ্লুকোজ পানি খেলে দুর্বলতা কমে স্বস্তি বোধ হয়। তবে ফ্রিজের ঠাণ্ডা খাবার, ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড, বেশি মশলাদার খাবার খাওয়া একদম উচিত নয়। ঠাণ্ডা খেলে গলা ব্যথার সমস্যা হতে পারে।
-ডা: জ্যোৎস্না মাহবুব খান

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ