ঢাকা, শুক্রবার 20 July 2018, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

টগর ও নীলপরী

শেখ বিপ্লব হোসেন : টগর, একটি গাছের ছায়ায় বসে কাঁদছিল। কেন কাঁদছিল তা কেউ জানে না! হঠাৎ কোথা থেকে এক রূপসী এসে তার সামনে দাঁড়ালো। রূপসী পাখির মতো ডানা নাড়ছিলো। টগরকে বলল, “খোকা কী হয়েছে তোমার? তুমি এখানে বসে কাঁদছ  কেন?” রূপসীর কথা শুনে  টগর, দু’হাতে চোখ ডলতে ডলতে বলল, “তুমি কে? আমি তো তোমাকে কখনো দেখিনি?” অপরিচিতা রূপসীটি একটু মিষ্টি হেসে বলল, “আমি নীলপরী। আমার  কথা পরে হবে। আগে তোমার কথা বল!” টগর কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলল, “শুনেছি আমার জন্মের কয়েক মাস আগেই বাবা মারা গেছেন। আর আমার বয়স যখন তিন মাস,তখন আমার মা, সেও এ পৃথিবীর  মায়া ত্যাগ করে আমাকে একা করে বাবার কাছে চলে গেছে। সেই থেকে আমি  মামার বাড়ি থাকি। মামা আমাকে ভালোবাসলেও মামী দু’চোক্ষে দেখতে পারে না! একটু কিছু হলেই আমাকে ধরে মারে। ঠিকমত খেতে দেয় না। আমার সমবয়সীরা সবাই স্কুলে যায়, সে আমাকে স্কুলে যেতে দেয় না। নীলপরী তুমি জানো? আমারও সবার মতো  পড়তে   ইচ্ছে করে! স্কুলে যেতে ইচ্ছে করে! কিন্তু, মামী আমাকে স্কুলে যেতে দেয় না, শুধু কাজ  করতে বলে। আমার মা নাইতো তাই সবাই আমাকে  অবহেলা করে। একটুও আদর করে না।” টগরের কথা শুনে নীলপরী বলল, “তাই বুঝি! ঠিক আছে। তুমি আর কেঁদ না! আমি তোমার স্কুলে যাওয়ার সব  ব্যবস্থাই করে  দেব। এবার খুশিতো!” এই বলেই নীলপরী হাওয়ায় মিশে গেল। মামীর চেঁচামেচিতে ‘টগরের ঘুম ভেঙে যায়। বিছানায় বসে টগর গালে হাত দিয়ে ভাবতে থাকে, “স্বপ্ন যদি সত্যি হতো, তাহলে কতইনা মজা হতো! আমি স্কুলে যেতে পারতাম। আর সবার মতো লেখাপড়া শিখে অনেক বড় হতাম। তখন আমাকে আর মামীর বকুনি শুনতে হতো না, মারধর করতে পারতো না।

 মামীর ডাকাডাকিতে   ও  আর বিছানায় থাকতে পারল না। চোখ ডলতে ডলতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। 

একদিন গাছের ছায়ায় বসে টগর ভাবতে লাগলো, “নীলপরীর গল্প যদি সত্যি হতো! তাহলে আমাকে আর মাঠে ঘাটে কাজ করতে হতো না। আমিও সবার মতো স্কুলে যেতাম। কিন্তু, স্বপ্ন কী আর সত্যি হয়!” টগর নীলপরীর কথা ভাবতেই, নীলপরী সামনে এসে হাজির । নীলপরীকে দেখে  টগর তো রীতিমত অবাক! নীলপরীর এক হাতে যাদুর কাঠি আর এক হাতে অনেক ভালো ভালো খাবার,  অনেকগুলো বই। নীলপরী এসব টগরের হাতে তুলে দিয়ে বলল,  “এখন থেকে তুমি নিয়মিত স্কুলে যাবে।  যখন তোমার কোনো  কিছুর প্রয়োজন হবে, এই গাছের নিচে এসে আমাকে  নীলপরী বলে ডেকো! আমি তোমার ডাকে ছুটে আসবো। আজ তাহলে যাই।” যাদুর কাঠি একটু  নাড়াতেই নীলপরী হাওয়ায় মিশে গেল!

টগর নীলপরীর দেওয়া সবকিছু পেয়ে আনন্দে মহাখুশি! 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ