ঢাকা, শুক্রবার 20 July 2018, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশের সকল নির্বাচনে স্বচ্ছতা চায় ইইউ

স্টাফ রিপোর্টার: রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের প্রশংসা করলেও আভ্যন্তরীণ মতপ্রকাশের বিষয়ে আরও মসৃণ উন্নয়ন চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন(ই্ইউ)। বাংলাদেশকে শতভাগ বাণিজ্য সুবিধা দিতে সুশাসনের নিশ্চয়তা চায় তারা। ইইউ চায়  ছোট বড় সকল নির্বাচনে স্বচ্ছতা। তারা আশা করছে, সামনের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবগুলো রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ হবে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ফরেন অফিস কনসালটেশন বৈঠক শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ইইউ’র এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গানার উইগান্ড এ কথা বলেন। 

বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৃতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশন বৈঠকটিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক। আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জোটটির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গানার উইগান্ড। বৈঠকে ইইউ’র বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত রেনজি তিয়ারিংকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে উইগান্ড বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে ইইউ’র উদ্বেগ রয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তাও করে আসছে ইইউ। এ সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সব উদ্যোগের প্রতি ইইউ’র সমর্থন থাকবে। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান গানার উইগান্ড। 

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। যাতে সবগুলো রাজনৈতিক দল অংশ নিতে পারে। ইইউ চায় ছোট বড় সকল নির্বাচনে স্বচ্ছতা। 

বাণিজ্য নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্যের বড় অংশীদার ইইউ। ইইউ এরই মধ্যে বাংলাদেশকে অস্ত্র ছাড়া বাণিজ্যের সব শাখায় শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা দিচ্ছে। ইইউ’র বাজারে রফতানি আরও বাড়াতে বাংলাদেশকে আরও কিছু শর্ত (পোশাক খাতের সাসটেইনেবিলি কমপেক্ট) বাস্তবায়ন করতে হবে। সামনের ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশ যদি ইইউ’র জিএসপি প্লাস (অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা) সুবিধা পেতে চায়, তবে এই শর্ত বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

তিনি বাংলাদেশী শ্রমিকদের বেতন ভাতা পাওনার বিষয়ে সাম্যের কথা বলেন। কিছুদিন পর পরিদর্শন টিম সফরে আসবে বলেও তিনি জানান।

উইগান্ড বলেন, বৈঠকে ইউরোপের দেশগুলোতে থাকা অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসী নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আমরা সব সময় বৈধ অভিবাসনকে স্বাগত জানাই।

পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বলেন, ইইউ বাংলাদেশের উন্নয়নের বড় অংশীদার। তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই গভীর। বৈঠকে সামাজিক উন্নয়ন, বাণিজ্য, টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়ন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, অভিবাসী সংকট এবং চলমান আন্তর্জাতিক সংকট রোহিঙ্গা নিয়ে আলোচনা করেছি। বৈঠকটি ফলপ্রসূ হয়েছে। এটা তাদের সঙ্গে একটি নিয়মিত বৈঠক বলেও জানান তিনি। বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু প্রাধান্য পেয়েছে, কারণ ইইউ প্রথম থেকেই এ বিষয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং সামনে করবে বলে জানিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় উভয়পক্ষের মধ্যে এই বৈঠক শুরু হয়। পৌনে দুইটা পর্যন্ত এই বৈঠক চলে। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে মানবাধিকার, শ্রমিক অধিকার, পোশাক শিল্প পরিস্থিতি, ইউরোপে অবৈধ অভিবাসী নিয়ে আলোচনা করে। আর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সংকটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরো সহযোগিতা, ইউরোপে পোশাক শিল্প রফতানিসহ বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। ২০১৬ সালের এপ্রিলে ঢাকায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ফরেন অফিস কনসালটেশন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দ্বিতীয় বৈঠকটি হয় গতবছরের ১৫ ফেব্রয়ারি ব্রাসেলসসে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ