ঢাকা, শুক্রবার 20 July 2018, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্বর্ণ কেলেঙ্কারির ঘটনা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর 

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ ব্যাংকে স্বর্ণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে অতিদ্রুত এই বিষয়টি সমাধানের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্যকে গণভবনে ডেকে এই ক্ষোভ প্রকাশ করে এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। 

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টের সোনার বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দাদের গোপনীয় প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া ও বিভিন্ন মহলের বিভিন্ন মন্তব্যে উষ্মা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী । বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টের সোনার হিসাব ও ওজনে গড়মিল নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের দেওয়া প্রতিবেদন নিয়ে গত তিনদিন ধরে গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশ করায় ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বিষয়টির দ্রুত সমাধানে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ও রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে গণভবনে ডেকে পাঠান। রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান দেশে না থাকায় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (আন্তর্জাতিক চুক্তি) কালিপদ হালদার বৈঠকে অংশ নেন। সকাল ১১টার দিকে এ বৈঠক শুরু হয়ে ঘণ্টাব্যাপী চলে।

সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় শুল্ক গোয়েন্দাদের গোপনীয় প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি। এসময় অতি দ্রুত যাতে এ সমস্যার সমাধান হয় সে বিষয়ে উভয়পক্ষকেই নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে গত বুধবার অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, জনগণের সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সামান্য গাফিলতি পেলে সে দায় সরকারের। তিনি বলেন, ‘বিষয়টিকে আমরা ছোট করে দেখছি না। সামান্য ফাঁকফোকড় দিয়ে বড় ঘটনা ঘটতে পারে। এতে ব্যাংকের কারও সামান্য গাফিলতি পেলেও আইনগতভাবে শাস্তির ব্যবস্থা করবো।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্র পড়ে আমি বিষয়টি জেনেছি। এর আগে জানতাম না। পত্রপত্রিকায় যেভাবে এসেছে তা আমার কাছে ভয়াবহ মনে হয়েছে। যেহেতু আমার জ্যেষ্ঠমন্ত্রী দেশে নেই, আমার যতটুকু সম্ভব বিভিন্ন জায়গায় কথাবার্তা বলেছি এবং তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করেছি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় আশ্বস্ত হয়েছি, যে মাত্রায় ঘটেছে তার চেয়ে অনেক বড় মাত্রায় পরিবেশিত হয়েছে। 

এম এ মান্নান বলেন, কাজ করলে কিছু ধারণাগত বা জ্ঞানগত ফারাক সৃষ্টি হতে পারে । সব সোনা ঠিক আছে। ঘরেই আছে। এ সম্পর্কে পরিষ্কার হয়ে গেছি। আমরা উভয়ে বসছি আরও বসবো, যে পরিমাণের কথা বলা হয়েছে, ৯৬৩ কেজি নাকি। তা মোটেই ঠিক নয়। সব সোনা ঠিক আছে, ঘরেই আছে, জনগণ বা যেকোনও সংস্থা গিয়ে দেখতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দরজা খোলা আছে। ৪০ আর ৮০ নিয়ে ভুল হতেই পারে। আগে সোনা মাপা হতো মান্ধাতা আমলের নিক্তি দিয়ে। এখন আধুনিক পরিমাপক দিয়ে মাপা হয়। তাতে দশমিক ০০০০১ কম-বেশি হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার এ ব্যাপারে সংবাদিক সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রবিউল হাসান জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্ট থেকে সোনা গায়েবের ঘটনা সত্য নয়। ভল্টে রক্ষিত সোনায় কোনও ধরনের হেরফের হয়নি। জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে নথিভুক্ত করার সময়। শুল্ক গোয়েন্দারা যেভাবে ভল্টে সোনা রেখেছিল, তা সেভাবেই রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে ছয় স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি গভর্নরকেও সেখানে প্রবেশ করতে যথাযথ অনুমতি নিতে হয়। ইচ্ছাকৃত কেউ এখানে প্রবেশ করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রুটি বলতে যা আছে, নথিভুক্ত করার সময় ইংরেজি-বাংলার ভুল। এর বাইরে অন্য ত্রুটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই। ২২ ক্যারেটের জায়গায় ১৮ ক্যারেট হওয়ার বিষয়টি দুটি ভিন্ন যন্ত্রে পরিমাপের কারণে হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দারা যখন সোনা জমা রাখেন, তখন হয়তো তাদের মেশিনে ২২ ক্যারেট দেখিয়েছিল, কিন্তু আমাদের মেশিনে সেটি ১৮ ক্যারেটই হয়েছিল। চিঠি দিয়ে বিষয়টি শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। ভল্টের দায়িত্বে থাকা কারেন্সি অফিসার আওলাদ হোসেন চৌধুরী দাবি করেন, ভল্টে রক্ষিত সোনায় কোনো ধরনের হেরফের হয়নি; শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ যেভাবে রেখেছিল, সেভাবেই আছে। শুল্ক গোয়েন্দারা আমাদের সোনা দেওয়ার সময় তা ২২ ক্যারেট বললেও আমরা পরিমাপ করে পাই ১৮ ক্যারেট। ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভুতুড়ে কা-’ শিরোনামে গত সোমবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে এই সংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ