ঢাকা, শুক্রবার 20 July 2018, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ডিজিটাল জালিয়াতি করতেই ইভিএম   পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের তোড়জোড়    --- রুহুল কবির রিজভী

 

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ডিজিটাল জালিয়াতি করতেই সরকার ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণের তোড়জোড় শুরু করেছে। গতকাল  বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘সরকার আরেকটি ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করতেই জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ তারা জানে, জনগণের সমর্থন তাদের সাথে নেই। আর সেই জন্য ভোট কারচুপি করে নিজেদের পক্ষে ফল নিতেই ইভিএম ব্যবহারের তোড়জোড় শুরু করেছে। ইভিএম সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী। বাংলাদেশের ভোটাররা ইভিএম মানতে নারাজ।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘ভোটাধিকার হরণের এই পদ্ধতি ব্যবহার চুপিসারে ডিজিটাল অন্তর্ঘাত। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো ও নাগরিক সমাজের সংলাপ চলাকালে এবং পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে না। কিন্তু হঠাৎ করে পুরোনো ভূত জেগে উঠল কেন? আসলে এই ইভিএম ব্যবহারের নির্বাচন কমিশনের মহাআয়োজনের কলকাঠি নাড়ছে বর্তমান সরকার।’ নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ইসি সচিব বলেছেন, জাতীয় সরকার নির্বাচনে ব্যাপকভাবে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রয়েছে কমিশনের।’

রিজভী বলেন, ‘আমরা বিশ্বস্ব সূত্রে জানতে পেরেছি, ২৬০০ কোটি টাকার ইভিএম মেশিন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিতর্কিত মেশিন নিয়ে সরকারের কেন এত তোড়জোড়, সে বিষয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। সরকার কেন এ অগ্রহণযোগ্য বিতর্কিত মেশিন কিনতে উন্মুখ, সেটা কারো বুঝতে বাকি নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জাতীয় নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের দাবি থেকে সরে আসতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

আগামীকালের ডাকা সমাবেশের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন সমাবেশের সব প্রস্তুতি হাতে নিয়েছি। পুলিশকেও এ বিষয়ে অবহিত করেছি। আমাদের দুজন প্রতিবিধান মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে গেছেন তার সঙ্গে কথা বলতে। আমরা আশা করছি, প্রশাসন আমাদের সমাবেশের অনুমতি দেবে।’

এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বিএনপিকে বিক্ষোভ সমাবেশের মৌখিক অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আজাদ সাংবাদিকদের জানান, নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালনের অনুমতি পেয়েছেন তাঁরা। অনুমতির জন্য সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি কার্যালয়ে যায় বিএনপির প্রতিনিধিদল। আজাদ ছাড়াও প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া।

গত ১৫ জুলাই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়ার মুক্তি, তাঁর সুচিকিৎসার দাবি এবং পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার  বিকেল ৩টায় দলের নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে অথবা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এর আগেও খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে বেশ কয়েকবার বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় বিএনপি। কিন্তু নিরাপত্তার কথা বলে দলটিকে বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ