ঢাকা, শুক্রবার 20 July 2018, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নাশকতার মিথ্যা মামলা করে আস্থা হারিয়েছে পুলিশ ॥ সেনা মোতায়েন আবশ্যক

কক্সবাজার সংবাদদাতা : কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হতে বাকী আর মাত্র ৭ দিন। এরমধ্যেই কক্সবাজার জেলা জামায়াত ও বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় দুটি দলের এমন রাজনৈতিক নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যারা আসন্ন কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। নামীয় ১৫জনসহ মোট ৫৭ জনকে উক্ত মামলায় আসামী করা হয়েছে। এনিয়ে জোটের প্রধান দুই দলের নির্বাচনী তৎপরতায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। এঘটনায় ১৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের ডেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিএনপি এবং বেলা ৩টায় নিজেদের অবস্থান জানিয়ে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে নাগরিক কমিটির মনোনীত এবং জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী মেয়র সরওয়ার কামাল।

সম্মেলনে সরওয়ার কামাল বলেন, কোনো রকমের ঘটনা ছাড়াই যেভাবে পুলিশ অতিউৎসাহী হয়ে নাশকতার মামলা দায়ের করেছে এতে করে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। প্রচারে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এভাবে মিথ্যা মামলা করে সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে পুলিশ। মামলায় যে সময়ে ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, সে সময় সেখানে কোনো ঘটনাই ঘটেনি। 

সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরোও বলেন, কোনো অশুভ শক্তির ইশারায় ভোট লুটপাটের কুমানসে পুলিশ এমামলাটি করেছে। অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এভাবে বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার মামলাটিকে তিনি পুলিশের প্রকাশ্য লজ্জাহীন চরিত্র বলে উল্লেখ করেন। এবং নির্বাচনের দিন সেনা মোতায়েন করার আহ্বান জানান। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জি.এম রহিমুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুল আলম, জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আলামিন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, জেলা শিবিরের সভাপতি রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি জানায়, বিএনপি ও জামায়াতের নেতাসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়ের করা মামলার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম লিখিত এক বক্তব্যে বলেন, ওই রকম কোনো ঘটনা এখন পর্যন্ত কক্সবাজারে সংঘটিত হয়নি। মূলত ভোট ডাকাতির পথ সহজ করতে একটি মহলের ইন্ধনে প্ররোচিত হয়ে পুলিশ এই মিথ্যা মামলাটি দায়ের করেছে । মিথ্যা মামলার জবাব ব্যালেটের মাধ্যমে দেবে ভোটাররা। সাংবাদিক সম্মেলনটি বৃহস্পতিবার  দুপুর ১২টায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত। তা বুঝতে পেরে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ওই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাসেদুল হক রাসেল, সহ-সভাপতি ফাহিমুর রহমা ফাহিম, পৌর ছাত্রদল সভাপতি এনামুল হক এনাম ও এক যুবদলনেতাসহ আরো ৫৩জনকে আসামী করে পুলিশ মিথ্যা মামলাটি দায়ের করেছে। ভোট ডাকাতির নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে আমাদের কোণঠাসা করে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে সরকার দলীয় প্রার্থী কর্তৃক প্ররোচিত হয়ে এই মিথ্যা মামলাটি দায়ের করেছে পুলিশ।

তিনি আরো বলেন, মামলা এজাহার মতে ১৭ জুলাই ভোর ৫টা ৫৫মিনিটে নাশকতা করতে যানবাহনে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা ও আগুন দেয়া হয়েছে। কিন্তু ওই সময়ে শহরের মানুষ ঘুমে থাকে। তখন গাড়িও চলে না। সেখানে নাশকতার চেষ্টা কিভাবে হয় তা এখন বড় প্রশ্ন। তবে আসল কথা হলো, নেতাকর্মী ফাঁসিয়ে ভোট ডাকাতির পথ সহজ করতে এই সাজানো মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারে বিএনপি সব সময় শান্তির রাজনীতি করে আসছে। ভবিষ্যতেও করে যাবে। আমরা অহিংস পরিবেশে নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। আমরা জনগণের শক্তিতে বিশ্বাসী। ভোটাররাই আমাদের শক্তি। তারা এই জঘন্য মিথ্যার জবাব ব্যালেটের মাধ্যমে দেবেন।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর লোকজন ২নং ওয়ার্ডে মাইকিংয়ে বাধা দিচ্ছে, বিভিন্ন স্থানে ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে এবং নেতাকর্মী নানাভাবে হয়রানি করছে।

 জেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র রক্ষার জন্যই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। পুলিশ সম্পূর্ণ একটি সাজানো মিথ্যা মামলা দায়ের করে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। আমাদের প্রশ্ন বিএনপির প্রতিপক্ষ পুলিশ না মুজিব। পুলিশ যা করেছে তাতে পুলিশের অধীনে নির্বাচন হলে নিরপেক্ষতা বিঘিœত হবে। এখন আমাদের একমাত্র আস্থা সেনাবাহিনী। তাই আমরা কক্সবাজার পৌর নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করার দাবি জানাচ্ছি।’

কক্সবাজার ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসা কেন্দ্র পরিবর্তন করে কক্সবাজার কেজি স্কুলের স্থানান্তরকেও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুজিবুর রহমান প্রভাব খাটিয়ে ওই কেন্দ্র উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিজের ঘরের কাছে নিয়ে গেছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।

জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরীরর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড. শামীম আরা স্বপ্না, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মোহাম্মদ আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি অধ্যাপক আজিজুর রহমান, জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আকতারুল আলম, জেলা বিএনপি সদস্য এডভোকেট আবু ছিদ্দিক ওসামনী, সহ-দপ্তর সম্পাদক এড. হাসান ছিদ্দিকী, রামু উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল আলম চেয়ারম্যান, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিসান উদ্দীন জিসান, সাংগঠনিক আমির আলীসহ অন্যান্যরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ