ঢাকা, শুক্রবার 20 July 2018, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন মেয়র নির্বাচন ২০১৮

রাজশাহী : গতকাল রাজশাহীতে বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী বুলবুল ও আ’লীগ প্রার্থী লিটনের জনসংযোগ-সংগ্রাম

বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ

সিটি নির্বাচনে সেনা 

মোতায়েনের দাবি 

বুলবুলের

রাজশাহী অফিস : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নির্বিঘ্নে ভোটারগণ উপস্থিত হয়ে ভোট প্রদান করতে পারেন সেই নিশ্চয়তার জন্য  ভোটের দিনের সাতদিন পূর্বে সেনা মোতায়েন করার দাবী জানান ২০ দলীয় জোট প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর লক্ষিপুর মোড় হতে গণসংযোগের সময় সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাৎকালে তিনি  এই দাবী জানান। 

বুলবুল বলেন, সাধারণ ভোটাদের আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। মাইকিং করতে বাধা প্রদান করছে। নির্বাচনী প্রচারণায় কর্মীদের বাধা এবং গালিগালাজ করছে। এই অবস্থায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে।  শুধু আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাই নয় অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও তাদের সঙ্গে একাত্বতা ঘোষণা করে বিএনপি’র সকল কাজে বাধা প্রদান করছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে নির্বাচনের দিন কি হবে তা সকলেই বুঝতে পারছে। সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কালো টাকা ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, কালো টাকা যতই ছড়াক না কেন নির্বাচনে ধানের শীষের ভোটের কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। বর্তমান সরকারের লাগামহীন দুর্নীতি, নির্যাতন, খুন, গুম ও দ্রব্য মূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি হওয়ায় রাজশাহীর জনগণ বর্তমান সরকারের প্রতি অনাস্থা এনেছে। এই অবস্থা দেখে সরকার দলীয় প্রার্থীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। হতাশাগ্রস্ত হওয়ায় এখন ধানের শীষের প্রচারণায় বোমা নিক্ষেপ করছে। নির্বাচন একতরফা করার জন্য নীলনক্সা আঁকছে। জীবন দিয়েও হলেও এই নীলনক্সা বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বাস্তবায়ন করতে  দেবেনা। সরকার দলীয় প্রার্থী শহরের যত নামকরা ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী আছে তাদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করছেন। তাদের নিকট হতে চাঁদা নিয়ে নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করছে। বুলবুল আরো বলেন, মেয়র থাকা কালীন সময়ে এবং সর্বদা তিনি মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছেন অথচ সরকার দলীয় প্রার্থী তাদের মদদ দিচ্ছে এবং উৎসাহ প্রদান করছে। সরকার দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হলে  মাদক ব্যবসায়ীরা পুনরায় মাথাচাঁড়া দিয়ে উঠবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসময় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী করতে সরকারকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে। বাংলাদেশে নির্বাচনের কোন পরিবেশ নাই। সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন সরকারে  এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে কোন নির্বাচন সুষ্ঠুৃ ও অবাধ হবেনা বলে তিনি জানান। তিনি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে আগামী সংসদ নির্বাচনের দাবী জানান। সেইসাথে তিন সিটি নির্বাচনে নির্বচিন কমিশন ও পুলিশ বিভাগের সদস্যদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহবান জানান তিনি। এর ব্যত্যয় ঘটলে সরকারকেই এর দায়বার বহন করতে হবে জানান তিনি। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু, পুঠিয়া দূর্গাপুরের সাবেক এমপি এ্যাড. নাদিম মোস্তাফা, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন শওকত, মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সভাপতি শওকত আলী, সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, ৬নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি গোলাম নবী গোলাপ, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিন্টু, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি জাহিদ হাসান লিটন, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি ওয়াজির আলী, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আলী প্রমুখ।

 

লিটনের গণসংযোগে 

উন্নয়নের নানান

প্রতিশ্রুতি 

রাজশাহী অফিস : রাজশাহীর উন্নয়নের স্বার্থে নৌকায় ভোট চেয়ে মহানগরীর ৩ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। 

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় মহানগরীর ৩নং ওয়ার্ডের দাশপুকুর মোড় থেকে গণসংযোগ শুরু করেন খায়রুজ্জামান লিটন। এরপর দাশপুকুর বউ বাজার, পূর্বপাড়া, বহরমপুর ও বন্ধগেট এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। পাড়া-মহল্লার বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে রাজশাহীর উন্নয়নের স্বার্থে স্বাধীনতা ও উন্নয়নের প্রতীক নৌকা মার্কায় ভোট চান এবং উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেন। গণসংযোগের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেন, ‘শান্তি-সম্প্রীতির শহর রাজশাহীতে সৌর্হাদ্য ও সম্প্রীতির মাধ্যমেই নির্বাচনের দিন পর্যন্ত পার করতে চাই। সেজন্য আমি সেনা মোতায়নের পক্ষপাতি নই। আর বিএনপির প্রার্থীকে বলছি, এই জাতীয় দাবি না করে বরং সৌর্হাদ্য ও সম্প্রীতি নিয়ে কীভাবে ভোটারদের মন জয় করা যায়, সেই কাজ করেন। তাহলে নির্বাচনের পরিবেশ ভালো থাকবে।’

 

মহানগরী জামায়াতের প্রতিবাদ

রাজশাহীতে আটকের ২৪

 ঘণ্টা পর ভ্রাম্যমাণ কোর্টে

 চার নারীকে জেল 

গত মঙ্গলবার রাজপাড়া থানার ২নং ওয়ার্ডের ৪ জন মহিলাকে বিনা কারণে গ্রেফতার করে ২৪ ঘন্টা পর ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক ১ মাসের জেল দেয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতি দেন জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর আমীর প্রফেসর এম আবুল হাশেম ও সেক্রেটারি সিদ্দিক হোসাইন।

নেতৃদ্বয় বলেন, গত ১৭ জুলাই বিকাল ৫টায় রাজপাড়া থানার ২নং ওয়ার্ডের কোর্ট কলেজ এলাকায় ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রার্থী মোখলেসুর রহমানের পক্ষে গণসংযোগকালে মনোয়ারা বেগম (২৪) স্বামী এশারুল, সেলিনা বেগম (২৮) স্বামী পিন্টু, ময়না বেগম (২৬) স্বামী নিপু আমেনা বেগম (৬০) স্বামী আব্দুল আজিজ সকলেই ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। নির্বাচনী কাজের সময় ছাত্রলীগের ছেলেরা তাদের আটকে রেখে পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেয়। আটকের ২৪ ঘন্টা পর রাজপাড়া থানা পুলিশ কোর্টে হাজির করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ মাসের জেল দেয় যা অমানবিক, আইন ও গণতন্ত্রের পরিপন্থি। নেতৃদ্বয় বলেন, রাজশাহীতে নির্বাচনের কোন পরিবেশ নেই। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। গতকারও জামায়াতে ইসলামী বোয়ালিয়া থানার সহকারী সেক্রেটারি শফিকুল ইসলামকে রাস্তা থেকে ডিবি পুলিশ উঠিয়ে নিয়েছে। নেতৃদ্বয় কোন অভিযোগ ছাড়াই বাড়ী, রাস্তা, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজ থেকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা সরকারে এই ফ্যাসিবাদী আচরণের নিন্দা এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত জামায়াতের নেতা-কর্মী মহিলাদের মুক্তি দাবী করেন এবং দেশের বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক মহলসহ আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি দানের জোর দাবি করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ