ঢাকা, শুক্রবার 20 July 2018, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এইচএসসিতে যশোর বোর্ডের শীর্ষে খুলনা জেলা ও সিটি কলেজ

খুলনা অফিস : যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে খুলনা জেলা সবার শীর্ষে রয়েছে। পাশের হার ৬৮.৪৫ ভাগ। গত বছর ছিলো ৭৮.৬৬ ভাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, এবার খুলনা জেলার ৯৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২২হাজার ৬৪৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এরমধ্যে ১৩ হাজার ৯৮০ জন পাশ করেছে। খুলনা জেলা যশোর বোর্ডের মধ্যে সেরা হওয়ায় এখানকার কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাঁধ ভাঙ্গাউচ্ছাস লক্ষ্য করা গেছে। প্রচন্ড সূর্যের তাপদাহে অধিকাংশ কলেজে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি ছিল অনেকটা কম।

খুলনার সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ জেলার মধ্যে সবার শীর্ষে রয়েছে। এ কলেজ থেকে ৮১৯ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১৫ জন শিক্ষার্থী। পাশের হার ৯৮ ভাগ। গত বছরও এই কলেজটি জেলার মধ্যে প্রথম হয়। গত বছর ৯০৪ জন পরীক্ষার্থী ছিলো। পাশের হার ৯৬.৩৫ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ৩০০ জন। খুলনা পাবলিক কলেজে মোট পরিক্ষার্থী ৪০২ জন। সর্বমোট এ প্লাস ১২১ জন। অকৃতকার্য ৩ জন। খুলনার সরকারি মহিলা কলেজের পাশের হার ৬৬% পরিক্ষার্থী ৫২২ জন। এ প্লাস মাত্র ৬৫ জন। অকৃতকার্য ৪৩ জন।

এবার খুলনার পর যশোরের পাশের হার ৬৩.৯৫ ভাগ, কুষ্টিয়ার পাশের হার ৬১.৪২ ভাগ, সাতক্ষীরার পাশের হার ৫৯.৯৬ ভাগ, বাগেরহাটের পাশের হার ৫৯.৬৭ ভাগ, ঝিনাইদহের পাশের হার ৫৭.৯৭ ভাগ, চুয়াডাঙ্গার পাশের হার ৫২.৯০ ভাগ, মেহেরপুরের পাশের হার ৫২.৬৯ ভাগ, নড়াইলের পাশের হার ৫২.৫৬ ভাগ ওমাগুরার পাশের হার ৪৯.৪০ ভাগ নিয়ে যথাক্রমে ফলাফলের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধিনে এ দশটি জেলা।

এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬০ দশমিক ৪০ শতাংশ। যশোর বোর্ডের অধীনে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার কলেজগুলো থেকে মোট ১ লাখ ৯ হাজার ৬৯২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ৫৬ হাজার ৮২০ জন ছেলে ও ৫২ হাজার ৮৭২ জন মেয়ে। যাদের মধ্যে ৩১ হাজার ৬৫২ জন ছেলে ও ৩৪ হাজার ৬০৬ জন মেয়ে পাসে করেছে। সেই হিসেবে ছেলেদের পাসের হার ৫৫ দশমিক ৭১ শতাংশ ও মেয়েদের ৬৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ফলে পাসের হারে ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। তবে, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে মেয়েদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে ছেলেরা। যশোর বোর্ডে ২ হাজার ৮৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এরমধ্যে ১ হাজার ১৫৮ জন ছেলে ও ৯৩১ জন মেয়ে

এদিকে খুলনার দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী বলেন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে আলিম পরীক্ষায় এবার এ মাদরাসা থেকে পরীক্ষার্থী ছিল ৯০ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫জন। খুলনা আলিয়া মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আ খ ম জাকারিয়া জানান, এবার এ মাদরাসা থেকে আলিম পরীক্ষার্থী ছিল ১০০ জন। এরমধ্যে ৪ জন অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন। খুলনা তা’লীমুল মিল্লাত মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা এ এফএম নাজমুস সউদ জানান, এবার এ মাদরাসা থেকে ৬৭ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। এরমধ্যে ৮ জন অকৃতকার্য হয়েছে। জিপি এ-৫ পেয়েছে ১ জন। খুলনা নেছারিয়া কামিল মাদরাসার থেকে ৪৯ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩জন। খান এ সবুর মহিলা ফাযিল মাদরাসা থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ৫৫ জন। এরমধ্যে ৭ জন অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ৫ পেয়েছে ৩ জন। মোহাম্মদ নগর মহিলা কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মুসাম্মাৎ হুমায়রা খাতুন জানান, এবার এ মাদরাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় ৬৫ জন অংশ নেয়। এরমধ্যে ৫জন অকৃতকার্য হয়েছে। মীরেরডাঙ্গা ইসলামীয়া আলিম মাদরাসা থেকে এবার পরীক্ষা দিয়েছিল ৪৬ জন। এরমধ্যে ২ জন অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ একজন। দেয়াড়া যুগিহাটি আলিম মাদরাসার থেকে এবার আলিম পরীক্ষা দিয়েছিল ২১ জন। এরমধ্যে ২ জন অকৃতকার্য হয়েছে। আটলিয়া সিনিয়র আলিম মাদরাসা থেকে এবার পরীক্ষা দিয়েছিল ২৬ জন। এরমধ্যে ৪ জন অকৃতকার্য হয়েছে। রূপসা দারুস সুন্নাত আলিম মাদরাসা থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ১৩ জন। এরমধ্যে ৪ জন অকৃতকার্য হয়েছে।

গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। তবে এবার জেলা প্রশাসকের শিক্ষা বিভাগ থেকে কোন রেজাল্টশিট দেয়া হয়নি। ফলে সাংবাদিকদের ফলাফল সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। একমাত্র যশোর বোর্ড থেকে রেজাল্ট শিট সংগ্রহ করা ছাড়া কোন পথ ছিল না। এতে করে তাদের চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ফলাফলের জন্য দুপুর আড়াইটার পর থেকে নগরীর সাইবার ক্যাফে এবং কম্পিউটারের দোকানগুলোতে ছিল ফলপ্রার্থী ও অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ