ঢাকা, শুক্রবার 20 July 2018, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আলীকদমে হাসপাতাল ও স্কুলের জমি দখল : নির্বিকার প্রশাসন

আলীকদম সংবাদদাতা: বান্দরবান আলীকদম উপজেলায় সরকারি জমি দখলের গতি থামছে না। শিক্ষকরা দখল করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি। কর্মচারী দখলে নিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মালিকানাধীন ভূমি। বিস্তারিত জানাচ্ছেন: মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি-

আলীকদমে দখলবাজির মধ্যে পড়েছে পুরাতন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জমি ও ভরিরমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেকর্ডিয় ভূমি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারি কর্মচারী হিসেবে মাসিক ভাড়ার ভিত্তিতে পুরাতন সরকারি হাসপাতালে কোয়ার্টার বরাদ্দ নিয়ে এখন তা দখল করে আছেন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইয়াছিন শরীফ। অন্যদিকে, ভরিরমুখ বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ড করা জমি দখল করছেন স্থানীয় কয়েকজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। বর্তমানে বিদ্যালয়ের জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ এবং স্কুলের জমি অন্যদের কাছে বিক্রি করে দখল বুঝিয়ে দিচ্ছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পুরাতন সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০ শতক জমি অর্ধযুগের বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারী ইয়াছিনের অবৈধ দখলে চলে গেছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কয়েকদফা উদ্যোগ নিয়েও কর্মচারীর কাছ থেকে জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ ওঠেছে, হাসপাতালের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইয়াছিন শরীফ ও তাঁর স্ত্রী সরকারি জমিটি কর্তৃপক্ষের কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়ায় দখলে রয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, তার খুঁটির জোর কোথায়?

জানা গেছে, ১৯৮২ সালে আলীকদমকে মানোন্নীত থানা ঘোষণার পর সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ২৮৮ নম্বর আলীকদম মৌজার ৭ নম্বর সিটের দাগ নং-৯৭৪, ৯৭৫, ৯৭৬ এর আন্দর ৬৪ শতক জমিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামো নির্মিত হয়। সেই থেকে ৬৪ শতক জমি স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে থাকায় কর্তৃপক্ষ সরকারকে নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর দিচ্ছে। ১৯৯৪ সালে উপজেলা সদরের চৌমুহনীতে নতুন ভবন নির্মাণের পর থেকে নতুন ঠিকানায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থানান্তর হয়। এরপর থেকে অফিস আদেশ প্রদানের মাধ্যমে পুরাতন হাসপাতাল ভবন ও টিনশেড কোয়ার্টারগুলিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীদের কাছে বাসা হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়। কয়েক বছর আগে পুরাতন হাসপাতালের একটি অংশে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ভবন নির্মিত হয়। কিন্তু দখলদারকে উচ্ছেদ না করেই পুরাতন হাসপাতালের জমির মাঝখানে ভবনটি নির্মিত হওয়ার ফলে ভবনের উত্তর অংশে প্রায় ১০ শতক জমি অবৈধ দখলে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, একসময় পুরাতন হাসপাতালের উত্তরের টিনশেড ঘরটি ভাড়া নেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়া জোহরা বেগম। ২০০০ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইয়াছিন শরীফের সাথে ওই আয়ার বিয়ে হওয়ার পর থেকে তাঁরা পুরাতন হাসপাতালের বরাদ্দ নেওয়া কোয়ার্টারে একসঙ্গে বসবাস করতে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সম্পদ রক্ষায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদাসীনতার সুযোগে ভাড়ায় ব্যবহার করা কোয়ার্টার ও পাশের জমিটি নিজেদের দখলে নিতে অপতৎপরতা শুরু করেন তাঁরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ