ঢাকা, শুক্রবার 20 July 2018, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চলনবিলে মাদকের রমরমা ব্যবসা

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: সিরাজগঞ্জের তাড়াশে অভিযান চালিয়ে ৭৫ লিটার চোলাই মদসহ শ্রী সুনীল সরেন (৪৫) নামে এক মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন র‌্যাব-১২ সদস্যরা। ১২ জুলাই রাতে উপজেলার রানীরহাট বাজার এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

শুক্রবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) থোয়াই ওয়াংপ্রু মারমা। আটক সুনীল সরেন রানীরহাট বেওড়া পাড়া গ্রামের মৃত কার্তিক সরেনের ছেলে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব কমান্ডার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৭৫ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাইমদসহ সুনীল সরেনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় তাড়াশ থানায় মামলা হয়েছে।

সড়ক ও নদীপথে ঈশ্বরদী এলাকা মাদকের অন্যতম প্রধান রুট হলেও এখানে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান যেমন চলে ধীরগতিতে তেমনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের কর্মকর্তারাও যেন মাদক নিয়ন্ত্রণে তৎপর নন। ঈশ্বরদী, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর- এই ৪টি উপজেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করতে এখানে লোকবল আছে মাত্র ৪ জন। লোকবলের অভাব ও নিজস্ব কোনো পরিবহন না থাকায় মাদকবিরোধী কোনো অভিযানও পরিচালনা করতে পারে না মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। 

ঈশ্বরদীর প্রধান নদী পদ্মা আর ভারতীয় সীমান্ত খুব কাছাকাছি হওয়ায় প্রতিদিন ভারত থেকে পদ্মানদী দিয়ে হাজার হাজার বোতল ফেনসিডিল আসছে ঈশ্বরদীতে। কোনো রাখঢাক ছাড়াই এসব ফেনসিডিল ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ের সাঁড়াঘাট থেকেই চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সাম্প্র্রতিক সময়ে ফেনসিডিলের সঙ্গে ইয়াবা ও হেরোইন বিক্রি হচ্ছে সমানে। কথিত আছে ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মা পাড়ের মানুষগুলোর প্রতিদিনই ঘুম ভাঙে ফেনসিডিল বহনকারী গাড়ির শব্দে। এ এলাকার মাদকের বড় হাট 'ভাদুর বটতলা' ঈশ্বরদী ও লালপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় ফেনসিডিল নিয়ে এই দুই উপজেলার পুলিশও দায় নিতে চায় না। ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা খুব সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই ঈশ্বরদীতে মাদকের এই রমরমা ব্যবসা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ঈশ্বরদীর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঈশ্বরদী, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর- এই ৪টি উপজেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্বে থাকলেও এ অফিসের অনুকূলে জনবল মাত্র ৪ জন, তাও আবার তাদের নিজস্ব কোনো পরিবহন নেই। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ঈশ্বরদী সার্কেলের 

ইন্সপেক্টর ভূবতী কুমার বর্মণ জানান, মূলত লোকবল ও গাড়ি না থাকায় তাদের পক্ষে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। গতানুগতিক কাজ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে তাদের কোনো কিছুই করার উপায় নেই বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ