ঢাকা, শনিবার 21 July 2018, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মুক্ত খালেদা জিয়াকে নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত

গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশের একাংশ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘প্রতিরোধের ঘোষণা’ দিয়েছে বিএনপি। একইসঙ্গে মুক্ত খালেদা জিয়াকে নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দলটির নেতারা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিএনপি। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ থেকে বক্তব্য দেন দলের সিনিয়র নেতারা। উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই সাংবাদিক সম্মেলনে সমাবেশের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেদিন তিনি বলেছিলেন, দেশনেত্রীকে চিকিৎসা ও মুক্তি না দেয়া এবং তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করার প্রতিবাদে শুক্রবার (২০ জুলাই) ঢাকাসহ সারা দেশে জেলা ও উপজেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেয়া হয়। এরপর থেকে তিনি রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডে সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন। বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন তার মুক্তি দাবিতে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছে। খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর বিএনপি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। এ সব কর্মসূচির মধ্যে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, অনশন, গণস্বাক্ষর, স্মারকলিপি প্রদান, কালো পতাকা প্রদর্শন, লিফলেট বিতরণ, প্রতিবাদ মিছিল এবং বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালন। তবে রাজধানী ঢাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ করতে চেয়ে অন্তত সাত থেকে আট বার অনুমতি চেয়েও পায়নি দলটি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমীরুল ইসলাম খান আলীমের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলেল স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবেদীন ফারুক, আবুল খায়ের ভুইয়া, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা মহানগর (উত্তর) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাসিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্তাজুল করিম বাদরু, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, জাতীয় সামাজিক সংস্থা (জাসাস) সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খান, যুবদল ঢাকা মহানগর (উত্তর) সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর, যুবদল ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) সভাপতি রফিকুল আলম মঞ্জু প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, নিতাই রায় চৌধুরী, মসিউর রহমান, জহিরুল হক শাহাজাদা মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সালাহউদ্দিন আহমেদ, আফরোজা আব্বাস, আসাদুল হাবিব দুলু, শামা ওবায়েদ, এম এ মালেক, শিরিন সুলতানা, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মীর সরফত আলী সপু, সেলিম ভুঁইয়া, আমিনুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, নাজিমউদ্দিন আলম, আবদুস সালাম আজাদ, শামীমুর রহমান শামীম, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, তকদির হোসেন জসিম, নীলুফার চৌধুরী মনি, শায়রুল কবির খানসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তিই একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের এক নম্বর পূর্বশর্ত। তিনি বলেন, আমরা খুব পরিষ্কার দাবি বলে দিয়েছি যে, বাংলাদেশে নির্বাচন করতে হলে অবশ্যই এক নম্বর পূর্বশর্ত হচ্ছে- দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তাকে কারাগারে রেখে কোনো নির্বাচন হবে না এবং এদেশের মানুষ তা হতে দেবে না। আমরা বলছি এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, আমরা বলেছি সংসদ ভেঙে দিতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। আমরা বলেছি যে, নির্বাচনের সময়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
এই দাবির ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য সকল রাজনৈতিক দলসহ পেশাজীবীদের প্রতি আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব। সিপিবির নেতৃত্বে বাম মোর্চা গঠনের জন্য তাদের অভিনন্দন জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে আনন্দের কথা। আমি অভিনন্দন জানাতে চাই ৮টি বাম রাজনৈতিক দলকে, তারা মোর্চা গঠন করেছে। জনগণের এই ইস্যুগুলোকে তারা দাবি হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে। একইভাবে আমি আশা করবো অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো তারা সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে একত্রিত হবেন, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করবেন এবং এই দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাবার জন্য একটা জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলবেন। যার মধ্য দিয়ে আমরা এদের পরাজিত করতে পারব এবং জনগণের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো। আসুন সেই লক্ষ্যে আমরা সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাই।
প্রখর উত্তাপের মধ্যে স্বল্প সময়ে সমাবেশে ব্যাপক উপস্থিতিতে নেতা-কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব যিনি নির্যাতিত হয়েছেন এবং নির্বাসিত হয়ে আছেন তিনি আপনাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এই সমাবেশের জন্য। আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসেছেন। এই ধারা অটুট রাখবেন। এরপরে যেকোনো কর্মসূচিতে এভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অংশগ্রহণ করবেন-সেটাই হবে আমাদের মুক্তির পথ। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন, আন্দোলন ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এদের পরাজিত করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ লুন্ঠনের পর ভোল্টে সোনা চুরির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,এই সরকার দেশে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একটা নৈরাজ্য বিরাজ করছে। ব্যাংকিং সেক্টার ধ্বংস করে দিয়েছে। সব ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে গেছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকেও বাদ দেয়া হচ্ছে না। বিনিয়োগ নেই, কর্মসংস্থান নেই, মানুষ চাকরি পাচ্ছে না। গার্মেন্টস ফেক্টরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতি চরম দুরাবস্থার মধ্যে পড়েছে।
প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। মাদক অভিযানের নামে বিচারবর্হিভূত হত্যা ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নিপীড়ন-গুমের ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটা ভয় ও ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করেছে তারা। দেশের প্রত্যেকটি মানুষ অনিরাপদ। তারা জানে না কখন তাদের মৃত্যু হবে। তারা স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারেন্টি চায়। আপনারা দেখছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কিভাবে দমন তারা (সরকার) করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। মাথা মুড়ে নির্যাতন করে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। আজকে বিদেশী দূতাবাসগুলো থেকে বলা হচ্ছে- এটা অন্যায় করা হচ্ছে। এই নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধ করো। শিক্ষকরাও বেরিয়ে এসেছেন তারা বলছেন এখন ছাত্র লীগের যে ভূমিকা সেটা আইয়ুব খান-মুনেম খানের আমলে যে ছ্ত্রা সংগঠন ছিলো এনএসএফের চাইতেও খারাপ ভূমিকা।
মির্জা ফখরুল বলেন, আপনার সকল দলের অংশগ্রহণের নির্বাচন করবেন না। কারণ তারা জানেন সকল দল অংশগ্রহণ করলে বিএনপি যদি অংশগ্রহণ করে তাহলে আপনারা ২০টা আসনও পাবেন না। সেই ভয়ে আপনারা দেশনেত্রীকে আটক করে রেখেছেন। এই অনির্বাচিত সরকার, অবৈধ সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, আজকে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ ভয়ে আছে। তারা জানে না যে কখন গুম হয়ে যায়। কোটা আন্দোলনকারীদের তুলে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। তাদের কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। নির্যাতন করে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। আজকে ছাত্রলীগের যে ভূমিকা খানের শাসনামলে বাহিনীর ভূমিকার চেয়েও ভয়াবহ। আজকে যারা কোটা সংস্কারের জন্য আন্দোলন করছে তাদের মায়েরা বলছে আমার ছেলের চাকরি চাইনা, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও। বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ কেউ নিরাপদ নয়। আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন চাই বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য নয়, এমপি মন্ত্রী হওয়ার জন্য নয়, এদেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেবার জন্য আমরা একটা পরিবর্তন চাই। আমরা আমাদের অধিকার ফিরে পেতে চাই। স্বাধীনতা ফিরে পেতে চাই আমরা নির্ভয়ে চলার অধিকার ফিরে পেতে চাই।
স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার আমাদের নেত্রীকে একটি মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে কারাগারে রেখে সরকার আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করতে চায়। আমরা বলে দিতে চাই, ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির মতো কোনো নির্বাচন আর এদেশে হতে দেয়া হবে না এবং দেশনেত্রীকে ছাড়া নির্বাচন হতে দেবে না। এই সরকার স্বৈরাচারি সরকার। সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবে না। আমাদের বিশ্বাস সকল জাতীয় শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণঅভ্যুত্থানের এই সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে, বিএনপি জনগণের সাথে নিয়ে রাস্তায় থাকবো। ইনশাল্লাহ এই সরকারের পতন ঘটবে।
তিনি বলেন, সরকার প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে তারা ক্ষমতায় আসতে চায়। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। তার মুক্তি না হলে দেশে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না। বিদেশীরা বলেছেন, দেশের মানুষ বলছেন- বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে পারে না।
আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না ঘোষণা দিয়ে ড. মোশাররফ বলেন, নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে এবং মিথ্যা মামলা তুলে নিতে হবে। এছাড়া নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচনে কিছুদিনের জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন করতে হবে। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, আগামীকাল (শনিবার) সরকারি দল সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে জনসভা করবেন। সরকারি খরচে সরকারি আমলারা এই জনসভার ব্যবস্থা করবেন। দেখাবেন বিশাল জনসভা। আমাদের এখানে আজকে যে জনসমাগম হয়েছে। সত্যিকার অর্থে যদি তাদের সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার না করেন তাহলে এর চাইতে কম লোকের সমাগম সেখানে হবে। কিন্তু দেখানো হবে খুব বড় সমাবেশ। আজকে নির্বাচন কমিশন চোখের সামনে দেখছেন, সংবাদপত্রের সম্পাদকরা দেখছেন,দেশের সচেতন মানুষরা দেখছেন, বুদ্ধিজীবীরা দেখছেন, দেশে কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নাই। যদি অর্থপূর্ণ নির্বাচন করতে চাই, তাহলে এখন থেকে আমাদের সমান সুযোগ দিতে হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদের একটাই মুক্তি উদ্দেশ্য দেশনেত্রীর মুক্তি চাই, তাকে নিয়েই আমরা নির্বাচনে যাবো। কেউ যদি মনে করেন ফাঁকা মাঠে গোল দেবেন, সেই আশা করবেন না। ইনশাল্লাহ আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো এবং তার নির্দেশ মতো আমরা নির্বাচনে যাবো।
এর আগে গতকাল বিকেল ৩টায় এ সমাবেশ শুরু হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীসহ সর্বস্থরের জনগণ সমাবেশস্থলে আসেন। সমাবেশ শুরুর আগেই নয়াপল্টন জনতার ঢল নামে। কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের ভীড়ে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। জুম্মার নামাযের আগেই পল্টন ও আশেপাশের এলাকায় জড়ো হতে থাকে নেতাকর্মীরা। নামাজের পর পরই ছোট ছোট মিছিল নিয়ে এসে নেতাকর্মী মঞ্চের সামনে আসন গ্রহণ করতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনাকীর্ণ হয়ে পড়ে বিএনপি কার্যালয় এলাকা। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ব্যানার হাতে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকরা মিছিল মিছিলে সমাবেশ জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
কিছু শর্ত সাপেক্ষে সমাবেশের অনুমতি পেলেও সময় স্বল্পতার কারণে মঞ্চ তৈরির সুযোগ পায়নি বিএনপি। ফলে খোলা ট্রাকের মঞ্চ থেকে সমাবেশ শেষ করেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে সমাবেশস্থলে আসেন। এসময় নেতাকর্মীরা হাতে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। নেতা-কর্মীরা ‘ আমরা নেত্রী, আমার মা, বন্দী থাকতে দেবো না’, ‘খালেদা জিয়াকে বন্দী রেখে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না’ ইত্যাদি শ্লোগান দিতে থাকে। খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে তার বিশাল প্রতিকৃতি সম্বলিত দুইটি ডিজিটাল ব্যানার টানানো হয়।
এদিকে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দীর্ঘদিন পর সমাবেশের অনুমতি পেয়ে উল্লাস প্রকাশ করছেন নেতাকর্মীরা। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে এসে নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করছেন তারা। যুবদল উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফউদ্দিন জুয়েল বলেন, আমাদের সামনে একটাই লক্ষ্য দেশনেত্রীর মুক্তি। দীর্ঘদিন পর আমরা রাজপথে কর্মসূচি পালনের সুযোগ পেয়েছি। স্বাভাবিকভাবেই উল্লাসিত। ছাত্রদল নেতা মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের প্রিয় নেত্রীর মুক্তির দাবিতে দলের নেতাকর্মীরা স্বোচ্চার। আমরা নেত্রীর মুক্তি চাই।
এদিকে, বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টনের আশপাশে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। এছাড়া বিজয়নগর ম্োেড় প্রস্তুত রাখা ছিল প্রিজনভ্যান, জলকামান, এপিসি কার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ