ঢাকা, শনিবার 21 July 2018, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিশ্বকাপে নাইকির যতো ‘প্রথম’!

স্পোর্টস ডেস্ক: শিরোনাম একটু ধাঁধায় ফেলতেই পারে। নাইকি একটি বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া সামগ্রি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। স্বাভাবিকভাবেই মনের কোণে প্রশ্ন খেলা করতে পারে, একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে বিশ্বকাপ মঞ্চে অনেক অনেক ‘প্রথম’ অর্জনের কীর্তি গড়ল! কিন্তু বাস্তবতা হলো কিলিয়ান এমবাপ্পে, লুকা মড্রিচরা যেমন অবিশ্বাস্য ফুটবলশৈলী দিয়ে বিশ্বকাপ মাতিয়েছেন, নাইকিও রাশিয়া বিশ্বকাপ মাতিয়েছে নিজেদের পণ্য দিয়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মাল্টি ন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানটি গড়েছে অনেক ‘প্রথম’ এর কীর্তি। ফুটবলপ্রেমী বলতেই জানেন, এবারই প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল ক্রোয়েশিয়া। ক্রোয়াটদের এই ‘প্রথম’-এর কৃতিত্ব নাইকিরও। কারণ, ক্রোয়েশিয়া দলের স্পন্সর ছিল নাইকি। শুধু ক্রোয়েশিয়াই নয়, চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সেরও স্পন্সর নাইকি। মানে ফাইনালের দুই দলেরই স্পন্সন নাইকি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই ‘প্রথম’ ফাইনালের দুই দলের স্পন্সর ছিল একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড। ১৫ জুলাই মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামের অল ইউরোপিয়ান ফাইনালটি তাই এক অর্থে ছিল ‘অল-নাইকি’ ফাইনালও! আর শুধু ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া নয়, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৩২ দলের ১০ দলেরই স্পন্সর ছিল নাইকি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনোই একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের সঙ্গে এতো বেশি সংখ্যক দলের গাটছড়া ছিল না। চুক্তিবদ্ধ এই ১০টি দলের সব ক্রীড়া সরঞ্জামই সরবরাহ করেছে নাইকি। এ তো গেল দলীয় হিসাব। ব্যক্তিগত তথ্যটি আরও বেশি বিস্ময়কর। এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ খেলোয়াড়েরই নাইকির সঙ্গে গাটছড়া ছিল। বিশ্বকাপে অংশ নেয়া খেলোয়াড়দের ৬৫ শতাংশ খেলোয়াড় নাইকির বুট পরে বিশ্বকাপে খেলেছেন! বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনোই এতো বেশি সংখ্যক খেলোয়াড় একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের বুট পরে খেলেননি। এবারের বিশ্বকাপে মোট গোল হয়েছে ১৬৯টি। এর মধ্যে ১০০টি গোলই করেছেন নাইকির বুট পরে খেলা খেলোয়াড়েরা। এটাও সর্বোচ্চ। মানে এখানেও ‘প্রথম’ নাইকি। এই ১০০টির মধ্যে ৬৬টি গোল করেছেন নাইকির ‘মারকুরিয়াল ৩৬০’ ব্র্যান্ডের বুট পরে। দলীয় ছাতার বাইরে এমবাপ্পে ব্যক্তিগতভাবেও নাইকির সঙ্গে গাটছড়া বেধেছেন। যিনি জিতেছেন টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার। নাইকির সঙ্গে গাটছড়া বাধা কোনো খেলোয়াড় এই ‘প্রথম’ বিশ্বকাপের এই ব্যক্তিগত পুরস্কারটি জিতলেন। মাঠের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই শেষে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফ্রান্স। খেলোয়াড়দের ক্রীড়াসামগ্রি সরবরাহ করে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নাইকিও।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ