ঢাকা, শনিবার 21 July 2018, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রচণ্ড তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

স্টাফ রিপোর্টার: প্রচন্ড তাপদাহে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত। তার ওপর যোগ হয়েছে বিদ্যুতের যাওয়া আসা। এসব কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে নগরীর নিম্নবিত্ত পরিবার, বয়স্ক ও শিশুরা। প্রচন্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রাপ্তিতে চরম বৈষ্যম্যের শিকার হচ্ছেন রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার অধিবাসীরা। ঢাকার বিভিন্ন এলাকার যখন খুশি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হচ্ছে, আর যখন ইচ্ছা তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হচ্ছে।  প্রখর রৌদ্র আর প্রচন্ড গরমে দাবাদাহে প্রাণিকুল অতিষ্ঠ, তার উপর বিদ্যুতের খামখেয়ালিপানার শিকার হয়ে মারাত্মক নাজেহাল হয়ে পড়েছে রাজধানীবাসী। 'শ্রাবণ মেঘের দিন' বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের একটি চলচ্চিত্রের নাম। পঞ্জিকা মতে, সেই শ্রাবণের প্রথম সপ্তাহ চলছে। এ সময়টায় শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হয় আকাশে। ঋতুবৈচিত্র্য অনুযায়ী এখন ভরা বর্ষাকাল। অথচ মৌসুমি বায়ু সক্রিয় না হওয়ায় আকাশে মেঘ নেই। আছে সূর্যের চোখ রাঙানি। বৃষ্টিহীন দিনে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরম অনুভূত হচ্ছে বেশি। তবে সুখবর হচ্ছে, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে কমতে শুরু করবে তাপদাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল শুক্রবারও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে।
বর্ষা মৌসুম হলেও বৃষ্টির বদলে এবার বাইরে ঠা-ঠা রোদ, যেন আগুনের ফুলকি। ভবনের ভেতরেও ভ্যাপসা গরম। গণপরিবহনগুলো অগ্নিচুল্লির মতো। সূর্য ডোবার পর সন্ধ্যা নামলেও গরম কমছে না। দেশজুড়েই রুক্ষ আবহাওয়া বিরাজ করছে। দিনের বেলা ঘর থেকে বের হলেই লু হাওয়া এসে গায়ে জ্বালা ধরাচ্ছে। সূর্য ডোবার পরও তাপমাত্রা কমছে না, শীতল হচ্ছে না চারপাশ। তার ওপর যোগ হয়েছে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোড শেডিং। যোগাযোগেরও কোন উপায় নেই বিদ্যুৎ অফিসে। অভিযোগ নম্বরে অভিযোগের জন্য ফোন দিলে তা অধিক সময় ব্যস্ত দেখায়। বিদ্যুৎ বিভাগের এ উদাসীনতার কারনে রাজধানীবাসীর অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে যানজটের চিরচেনা নগরী দেখা গেলো অন্যদিনের চেয়ে আলাদা। নগরীর রাস্তাগুলোতেও তুলনামূলক গাড়ির চাপ কম। নিতান্ত বাধ্য না হলে ঘর থেকে বেরোচ্ছেন না কেউই। প্রচ- তাপদাহে থেকে রেহাই নেই নগরীর নিম্নবিত্ত মানুষের। একে তো গরম তার ওপর ঘরে নেই বিদ্যুৎ। তাই প্রশান্তি খুজতে কেউ কেউ স্বপরিবারে আশ্রয় নিয়েছেন হাতিরঝিলসহ নগরীর পার্কগুলোতে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের কারণে ঢাকায় বৃষ্টি হচ্ছে না। এটি কেটে গেলেই স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন তিনি। তাপদাহ থাকলেও সারাদেশে কোথাও কোথাও বৃষ্টি হতে পারে বলে জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।
গরমে হাঁস-ফাঁস করছে মানুষ: মৌসুমি বায়ু সক্রিয় না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার বছরের সবচেয়ে উষ্ণতম দিন পার করেছে রাজধানীবাসী। আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রংপুরের রাজাহারহাটে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবারের গরমের মৌসুমে গত ১৫ জুন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উঠেছিল। এর আগে ২০১৪ সালের ২২ এগ্রিল ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা পাঁচ দশকের সর্বোচ্চ। আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, কুমিল্লা, নোয়াখালী অঞ্চলসহ ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না থাকায় গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে একটি মাঝারি মানের লঘুচাপ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত গরম অব্যাহত থাকতে পারে।
পরিবেশ ও বিল্ডিং রিসার্চ বিশেষজ্ঞ ড. আমিনুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর ভবনগুলো চারপাশ বন্ধ একেকটি খাঁচার মতো করে নির্মিত হচ্ছে। দিনের বেলায় যে পরিমাণ সূর্যের আলো আসছে, তা ভবনের গায়ে, ছাদে, পার্শ্ববর্তী রাস্তায় জমে থাকে। সূর্য ডুবে গেলে ওই জমে থাকা তাপ অল্প অল্প করে ছাড়ছে। ফলে ঘরের বাইরে ও ভেতরে সমান গরম অনুভূত হয়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, রাজধানীর আটটি অঞ্চলের ২৫টি এলাকা এরই মধ্যে তপ্ত ভূখ হয়ে উঠেছে। এখানকার গড় তাপমাত্রা অন্য এলাকার চেয়ে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার যতই বাড়ছে, ভবনের বাইরের এলাকার তাপমাত্রা ততই বাড়ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ