ঢাকা, শনিবার 21 July 2018, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরে বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখির বাসা

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : উপজেলার বাতিয়া গ্রামে তালগাছে বাবুই পাখির বাসা

এম. এ. জাফর লিটন,শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : শাহজাদপুর উপজেলা থেকে বিলুপ্ত হতে চলেছে বাবুই পাখির শৈল্পিক কুড়ে ঘর। একসময় শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রচুর পরিমাণ বাবুই পাখির বাসা লক্ষ করা যেত। কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেসব বাসা যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। কালের পরিক্রমায় প্রকৃতির বিপর্যয়ের কারণে বাবুই পাখিকে তালগাছ, সুপারীগাছে আর বাসা বাঁধেনা। দেখা মেলেনা বাবুই পাখির। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হঠাৎ দেখা মিললো শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের বাতিয়া গ্রামে। লম্বা একটি তালগাছে শতাধিক বাসা। কোনটা পুরাতন আবার কোটা নতুন তৈরি করছে বাসা। বাবুই চড়ুই সদৃশ্য পাখি। সারা বিশ্বে বাবুই পাখির ১১৭টি প্রজাতি রয়েছে। তবে আমাদের দেশে ৩ প্রজাতির বাবুই পাখি বসবাস করছে। এগুলো হচ্ছে বাংলা বাবুই, দেশী বাবুই, দাগী বাবুই। ডবধাবৎ ইরৎফ এবং বৈজ্ঞানিক নাম  চষড়পবঁং চযরষরঢ়ঢ়রহঁং গাছে ঝুড়ির মত বাসা তৈরি করায় এ পাখির সুনাম জগৎ জোড়া। অনেকে এ পাখিকে তাঁতী পাখিও বলে। কথিত আছে বাবুই পাখি রাতের বেলা জোনাকী পাখি ধরে নিয়ে বাসায় রাখেন ঘর আলোকিত করার জন্য আর সকাল হলে ছেড়ে দেয়। জানা যায়, প্রায় ১০/১৫ বছর আগেও আবহমান গ্রাম বাংলার প্রতিটি প্রান্তরে তালগাছ, নারিকেল গাছ, সুপারীগাছে বাবুই পাখির বাসা দেখা যেত। শৈল্পিকতায় সমৃদ্ধ বাসা মানুষের মাঝে যেমন মুগ্ধতা ছড়াতো তেমনি মাথায় চিন্তা ও গবেষণারও জন্ম দিত। দৃষ্টিনন্দন এবং মজবুত বাবুই পাখির বাসা প্রচ- ঝড়েও ছিড়ে পড়তোনা। এপাখি স্থপতি, সামাজিক বন্ধনেরও প্রতিচ্ছবি। এরা দল বেঁধে বসবাস করে। এক বাসা থেকে আরেক বাসায় যায় স্ত্রী পাখি খুঁজে বেড়ায়। এরা খাল,বিল ডোবায় গোসল করে। বাবুই পাখিরা কিচিমিচর শব্দে ডাকাডাকি করে। স্ত্রী পাখিদের প্রেরণায় সুন্দর নান্দনিক বাসা তৈরী করে। কিন্তু এখন শাহজাদপুর উপজেলায় শৈল্পিক পাখিকে দেখা না যাওয়ায় এ প্রজন্মের সন্তানরা ভূলে যেতে বসেছে বাবুই পাখিকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ